শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) মেয়াদ শেষ হওয়া ব্রেন্ট ক্রুডের ডিসেম্বরের ফিউচার চুক্তির দাম ব্যারেলপ্রতি ২ ডলার ৭৬ সেন্ট বা ২ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ১১৭ ডলার ৬৪ সেন্টে দাঁড়ায়। লেনদেনের একপর্যায়ে এই দাম ১১৮ ডলারেও পৌঁছেছিল। তুলনামূলক বেশি লেনদেন হওয়া জানুয়ারির চুক্তির দামও ২ ডলার ৬৩ সেন্ট বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৩ ডলার ৪৩ সেন্ট হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের ফিউচার চুক্তির দাম ২ ডলার ১২ সেন্ট বা ২ দশমিক ০৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৪ ডলার ১২ সেন্টে পৌঁছেছে। পুরো মাসের হিসাবে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়েছে ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ। একই সময়ে ডব্লিউটিআইয়ের দাম বেড়েছে ১৫ দশমিক ২ শতাংশ।
বিওকে ফাইন্যান্সিয়ালের ট্রেডিং বিভাগের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেনিস কিসলার বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র বাহিনীর সম্ভাব্য সামরিক তৎপরতা নিয়ে ব্যবসায়ীরা নজর রাখবেন।’
তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে শুক্রবার হরমুজ প্রণালিতে একটি ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, ছোট একটি নৌযান থেকে লাগানো বিস্ফোরক ডিভাইসের আঘাতে ট্যাংকারটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে হামলার জন্য কারা দায়ী, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
সামুদ্রিক খাতের সূত্রগুলোর দাবি, ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে ছোট নৌযান থেকে জাহাজে লাগানো বিস্ফোরক বা লিমপেট মাইন ব্যবহার করে এটিই প্রথম সফল হামলা।
এদিকে নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় সৌদি আরব থেকে জরুরি নয়—এমন মার্কিন সরকারি কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের দেশটি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, ২৩ অক্টোবর থেকে এ নির্দেশ কার্যকর হয়েছে। বেসামরিক বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হুতি বিদ্রোহীদের হামলার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের কয়েকটি স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করে। তাদের দাবি অনুযায়ী, লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে ছিল দেশটির বড় তেল শোধনাগার রাস তানুরা, রাবিগ শোধনাগার এবং রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর মালিকানাধীন আবকাইক উৎপাদন স্থাপনা।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় মধ্যস্থতা চালিয়ে যাচ্ছে কাতার। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছানোর সমন্বিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে শুক্রবার কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানে ফিরে গেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার জানান, ইরানকে চিকিৎসাসামগ্রী পেতে সহায়তার বিষয়ে দেশটির সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছিল, শান্তি আলোচনা আবার শুরু করার উদ্যোগ হিসেবে ভ্যান্স ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তার কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, ভ্যান্সের পাঠানো চিঠি তেহরান পেয়েছে। তবে এখনো এর কোনো জবাব দেওয়া হয়নি। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের শর্ত মেনে নিতে হবে। তেহরান জানিয়েছে, তাদের নির্ধারিত কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো অবস্থান গ্রহণযোগ্য হবে না।
এদিকে তেলের বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে ডেনমার্কের স্যাক্সো ব্যাংক। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, ইসরায়েলের সাম্প্রতিক নির্বাচন এবং ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আগামী কয়েক সপ্তাহে বাজারে অস্থিরতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ব্যাংকটির বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, সংঘাতের অবসান ঘটলেও অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭০ থেকে ৯০ ডলারের উচ্চতর সীমায় থাকতে পারে। যুদ্ধ শুরুর আগে তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৬০ থেকে ৭০ ডলারের মধ্যে।
নিউজ বাংলা চ্যানেল