পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে শাসক ও বিরোধী শিবিরের সংঘাত এবার নতুন মাত্রা পেয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোলা হুমকির অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক।
সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, সরকারি দপ্তরে বসে তাকে প্রকাশ্যে এমন ভাষায় হুমকি দেওয়া হয়েছে, যার অর্থ তাকে বাড়ির বাইরে বের হতে না দেওয়ার হুমকি হিসেবেই দেখা যায়। তার দাবি, শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, তিনি এমন ব্যবস্থা করবেন যাতে মমতা বাড়ি থেকে বের হতে না পারেন।
এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে মমতা প্রশ্ন তোলেন, একজন রাজনৈতিক নেতার চলাফেরার স্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণ করার অধিকার কে বা কাকে দিয়েছে। একজন নির্বাচিত রাজনৈতিক নেত্রীকে এভাবে ভয় দেখানো শুধু রাজনৈতিক অসৌজন্য নয়, বরং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধেরও পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মমতা এ বিষয়ে দেশের রাষ্ট্রপতি এবং সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তার বক্তব্য, সংবিধান নাগরিকদের যে গণতান্ত্রিক অধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেয়, তার সঙ্গে এমন বক্তব্যের কোনো সামঞ্জস্য থাকতে পারে না।
শুভেন্দু অধিকারীকে আক্রমণ করে মমতা বলেন, তাকে এমন কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হয়েছে, যারা একনায়কতন্ত্রের সামনে মাথা নত করতে অভ্যস্ত। তাকে বুঝতে শুভেন্দু চরম ভুল করছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মমতার অভিযোগ ঘিরে ইতোমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে পালটা-পালটি আক্রমণ। তৃণমূলের অভিযোগ, রাজনৈতিক বিরোধীদের কণ্ঠরোধের পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে, শুভেন্দুর বক্তব্যের রাজনৈতিক ব্যাখ্যা নিয়েও জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদলের পর শাসক ও বিরোধী শিবিরের সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। তবে একজন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও প্রধান বিরোধী দলের নেত্রীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্য হুমকির অভিযোগ সামনে আসায় এবার রাজনৈতিক সৌজন্য, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির প্রশ্নও সামনে এসেছে।
মমতা তার বক্তব্যে অতীত ইতিহাসের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তার দাবি, ক্ষমতার জোরে কিছু সময়ের জন্য ভয় দেখানো সম্ভব হলেও শেষ পর্যন্ত জনগণই রাজনৈতিক অহংকারের জবাব দেয়। ক্ষমতাসীন শিবিরের হতাশা ও মরিয়া মনোভাব ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নিউজ বাংলা চ্যানেল