বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১২ পরীক্ষার্থীর মধ্যে একজন পাস করলেও ১১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি। শিক্ষকের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটিতে ক্লার্ক ও পিয়নসহ চতুর্থ শ্রেণির আরও পাঁচজন কর্মচারী রয়েছেন। অর্থাৎ ১৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিপরীতে এবারের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিদ্যালয়টির শিক্ষার মান ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা ধরনের প্রশ্ন রয়েছে। তাদের দাবি, কাগজে-কলমে শতাধিক শিক্ষার্থী দেখানো হলেও নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকে মাত্র পাঁচ-ছয়জনের মতো।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, পাঠদান চলার সময়ও অনেক শিক্ষার্থীকে শ্রেণিকক্ষের পরিবর্তে বিদ্যালয়ের মাঠে ফুটবল খেলতে কিংবা বাইরে আড্ডা দিতে দেখা যায়। অনেক সময় নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয়ের কার্যক্রম শেষ করে ছুটি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এবারের ফলাফলের আগে ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষাতেও বিদ্যালয়টির ফলাফল সন্তোষজনক ছিল না। ওই বছর ছয়জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছিল মাত্র তিনজন।
বিদ্যালয়টির সহকারী প্রধান শিক্ষক রহিমা আক্তার অবশ্য শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতিকেই ফল খারাপ হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর ভাষ্য, বিদ্যালয়ের ভবন জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় অনেক অভিভাবক সন্তানদের সেখানে পাঠাতে আগ্রহী নন। শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে এলেও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশের মধ্যে শিক্ষকদের ক্লাস নিতে হয়।
তবে ক্লাস চলাকালে শিক্ষার্থীদের মাঠে থাকা কিংবা নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয় ছুটির অভিযোগের বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি রহিমা আক্তার।
এ বিষয়ে ঝালকাঠি জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবু ছাঈদ বলেন, তিনি বর্তমানে ঢাকার বাইরে থাকায় ঘটনাটি নিয়ে বিস্তারিত জানাতে পারছেন না। তবে এমন ফল বিপর্যয়ের কারণ কী, তা দ্রুত খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।
নিউজ বাংলা চ্যানেল