নিজস্ব প্রতিবেদক
দরজায় কড়া নাড়ছে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন। নির্বাচনের তারিখ ও সময়সূচি ঘোষণাকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে প্রশাসন—সব মহলেই বাড়ছে তৎপরতা। তবে নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে সংঘাত-সহিংসতার আশঙ্কা। দলীয় প্রতীক ছাড়া নির্বাচন, একই দলের একাধিক প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা, অভ্যন্তরীণ কোন্দল, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা—সব মিলিয়ে আসন্ন ইউপি নির্বাচন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
আগামী ১২ অক্টোবর ইউপি নির্বাচনের তারিখ ও সময়সূচি ঘোষণার কথা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। ওই দিন কমিশন বৈঠকে নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়, ধাপ ও স্লট চূড়ান্ত করে ঘোষণা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। রমজান, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা এবং অন্যান্য বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করছে ইসি। আগামী বছরের ৬ জুনের মধ্যে সারাদেশের সব ইউপি নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপেরও পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের।
এর আগে কয়েক ধাপে নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণার উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের আপত্তির মুখে তা পুনর্নির্ধারণের পরিস্থিতি তৈরি হয়। এ ঘটনা নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন, আস্থার পরীক্ষায় নির্বাচন কমিশন
বর্তমান সরকারের অধীনে আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের বিতর্কিত নির্বাচনী অভিজ্ঞতা পেছনে ফেলে জনগণের ভোটাধিকার ও নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর আস্থা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে এ নির্বাচন বড় ভূমিকা রাখতে পারে। বিগত সরকারের আমলে ভোটাধিকার সংকুচিত হওয়া, নির্বাচনে অনিয়ম এবং ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ জনমনে নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে গভীর অবিশ্বাস তৈরি করেছিল। সেই প্রেক্ষাপটে নতুন সরকারের অধীনে স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচন কতটা অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হয়, তা নিয়ে সর্বমহলে বাড়তি আগ্রহ রয়েছে।
বিশেষ করে এবার দলীয় প্রতীক ছাড়া ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতার ধরন ভিন্ন হতে পারে। একই রাজনৈতিক দলের একাধিক প্রার্থী মাঠে নামায় দলীয় অভ্যন্তরীণ বিরোধ, ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব এবং স্থানীয় পর্যায়ে আধিপত্য বিস্তারের লড়াই তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে কেবল ভোটের দিন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখাই নয়, নির্বাচনের আগে থেকেই প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা, আচরণবিধি প্রতিপালন এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা কমিশনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, কমিশন অনেক ক্ষেত্রে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছে। নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার পর একজন প্রতিমন্ত্রীর আপত্তিতে তা পরিবর্তনের পরিস্থিতি কমিশনের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তাঁর মতে, স্থানীয় প্রশাসনে দলীয় বিবেচনায় কর্মকর্তা নিয়োগের অভিযোগও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
একই দলের একাধিক প্রার্থী, সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছে
অতীতের অভিজ্ঞতায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ, হামলা, গোলাগুলি এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। স্থানীয় পর্যায়ে প্রার্থীদের ব্যক্তিগত প্রভাব, পারিবারিক বিরোধ, রাজনৈতিক গ্রুপিং এবং ক্ষমতার প্রতিযোগিতা অনেক সময় নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে সহিংসতায় রূপ দেয়। এবারের নির্বাচনেও এসব ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের উদ্বেগ, ক্ষমতাসীন দলের একাধিক প্রার্থী, বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতা, আচরণবিধি লঙ্ঘন, প্রভাব বিস্তার এবং বহিরাগতদের উপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিভিন্ন এলাকায় প্রার্থীদের ব্যানার-পোস্টার ও প্রচার-প্রচারণা ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা দৃশ্যমান হলেও আচরণবিধি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
গত ৪ অক্টোবর কক্সবাজারের টেকনাফে ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থিতা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণার আগেই এমন ঘটনা ঘটলে প্রচার-প্রচারণার সময় এবং ভোটের দিন পরিস্থিতি কীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
এদিকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মীর সক্রিয় হওয়ার অভিযোগও নির্বাচনী নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনায় এসেছে। কোথাও কোথাও রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী স্বার্থে বিভিন্ন পক্ষকে প্রশ্রয় দেওয়া এবং নিজেদের শক্তি বাড়াতে সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করার অভিযোগও উঠছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া না হলে নির্বাচনী পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) কেন্দ্রীয় সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারের মতে, নির্বাচনী অঙ্গনে ইতোমধ্যে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তি প্রবেশ করেছে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনও কলুষিত হয়ে পড়েছে। তাঁর পর্যবেক্ষণ, রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় নানা অন্যায়-অবিচার সংঘটিত হওয়ায় আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সহিংসতামুক্ত ও শান্তিপূর্ণ করা নির্বাচন কমিশনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ, প্রস্তুতির কথা পুলিশের
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে সহিংসতার আশঙ্কা কেবল রাজনৈতিক বিশ্লেষক বা নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও একই ধরনের উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছে।
রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মিলনায়তনে পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্বাচনী প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব দল ও মতের মানুষ একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। কিন্তু স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পরিবেশ ভিন্ন হতে পারে। এখানে সরকারি দল ও বিরোধী দল—সবাই নিজেদের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে চাইবে। ফলে সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি জানান, পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী বৈধ অস্ত্র জমা নেওয়া, কঠোর নজরদারি এবং টহল বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
তবে পুলিশের এই প্রস্তুতি নিয়ে সংশয় রয়েছে বিভিন্ন মহলে। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় পুলিশের বিপুলসংখ্যক যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং পরবর্তী সময়ে আরও যানবাহন অকেজো হয়ে পড়ার তথ্য বাহিনীর সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের সময় পুলিশের ১ হাজার ৭৪টি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এর মধ্যে ৪৫৫টি গাড়ি ও মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং ৬২০টি যানবাহন ভাঙচুর করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালে পুলিশের আরও ১ হাজার ৩৬৯টি যানবাহন অকেজো হয়ে পড়ার তথ্যও উঠে এসেছে।
এ পরিস্থিতিতে যানবাহন ও সরঞ্জামের ঘাটতি, সদস্যদের মনোবল এবং মাঠপর্যায়ে কার্যকর উপস্থিতি নিশ্চিত করার বিষয়গুলো নির্বাচনী নিরাপত্তা পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটনের মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর পুলিশ বাহিনী এখনো পুরোপুরি সক্রিয় অবস্থায় ফিরতে পারেনি। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে মাঠে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি প্রয়োজন হতে পারে।
সেনা মোতায়েনের প্রশ্নে সরকারের ইতিবাচক অবস্থান
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সংঘাত-সহিংসতার ঝুঁকি বেশি—এ বাস্তবতা স্বীকার করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনও। তাঁর ভাষ্য, অতীত অভিজ্ঞতায় স্থানীয় নির্বাচনে সহিংসতা তুলনামূলক বেশি দেখা গেছে। অনেক ক্ষেত্রে একই পরিবার বা এলাকায় একাধিক প্রার্থী থাকেন। এ নিয়ে গ্রাম, পাড়া ও মহল্লায় বিরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সিইসি জানান, এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই নির্বাচন কমিশন প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাঁর মতে, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন কোনো একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়। রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সমন্বয় প্রয়োজন।
নির্বাচনী নিরাপত্তা জোরদারে সিসিটিভি ক্যামেরা, বডি-ওর্ন ক্যামেরা এবং ডিজিটাল ও অনলাইন মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা বাড়ানোর সিদ্ধান্তের কথাও জানানো হয়েছে। এসব প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে ভোটকেন্দ্রের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, অনিয়ম শনাক্ত এবং অভিযোগের প্রমাণ সংগ্রহে সহায়তা পাওয়া যেতে পারে।
বহিরাগতদের হস্তক্ষেপ ঠেকাতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিতের উদ্যোগ
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বহিরাগতদের হস্তক্ষেপের আশঙ্কাও করছে নির্বাচন কমিশন। এ কারণে সম্ভাব্য সহিংসতা, বলপ্রয়োগ ও প্রভাব বিস্তার ঠেকাতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিরাপত্তা পরিকল্পনা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি ২৬টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য সহিংসতা এবং বহিরাগতদের হস্তক্ষেপ প্রতিরোধের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। ভোটার এলাকার বাইরের প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সম্ভাব্য তৎপরতার বিষয়ও আলোচনায় এসেছে বলে জানা গেছে।
তবে কেবল ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করলেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে না। গোয়েন্দা তথ্যের যথাযথ ব্যবহার, দ্রুত প্রতিক্রিয়া, অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার রোধ, প্রার্থীদের আচরণবিধি প্রতিপালন এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করাও জরুরি।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, বর্তমান সরকার জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় সংগ্রাম করেছে। জনগণের এ অধিকার সুরক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সর্বসাধারণের কাছে শতভাগ গ্রহণযোগ্য করতে প্রয়োজন হলে সেনা মোতায়েন করা হবে। জনগণ যাতে নিজেদের প্রত্যক্ষ ভোটে পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারেন, সে পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।
আস্থার সংকট কাটিয়ে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই প্রত্যাশা
আসন্ন ইউপি নির্বাচন শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের প্রক্রিয়া নয়; এটি ভোটাধিকার, গণতান্ত্রিক চর্চা এবং স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠারও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা, নিরাপত্তা পরিকল্পনা কিংবা প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি—কোনোটিই এককভাবে সুষ্ঠু নির্বাচনের নিশ্চয়তা দিতে পারে না। প্রয়োজন নিরপেক্ষ প্রশাসন, কার্যকর আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, আচরণবিধির কঠোর প্রয়োগ এবং সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ।
নির্বাচনের আগে থেকেই সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিলে তা প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রার্থীদের অবৈধ প্রভাব বিস্তার, ভয়ভীতি প্রদর্শন, অস্ত্রের ব্যবহার এবং বহিরাগতদের হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ভয়ভীতিমুক্ত পরিবেশে ভোট দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।
রাজনৈতিক দলগুলোকেও নির্বাচনী ফলাফল মেনে নেওয়ার মানসিকতা, সহনশীলতা এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। আর নির্বাচন কমিশনকে প্রমাণ করতে হবে, রাজনৈতিক চাপের ঊর্ধ্বে থেকে আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা তাদের রয়েছে।
শেষ পর্যন্ত আসন্ন ইউপি নির্বাচন কতটা শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য হবে, তা নির্ভর করবে ঘোষিত পরিকল্পনা বাস্তবে কতটা কার্যকর করা যায় তার ওপর। জনগণের ভোটাধিকার রক্ষা, সহিংসতা প্রতিরোধ এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারলেই এ নির্বাচন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যথায়, নির্বাচনের আগেই যে শঙ্কার মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে, তা ভোটের দিন সংঘাত ও অনাস্থার বড় কারণ হয়ে উঠতে পারে।
নিউজ বাংলা চ্যানেল