নিজস্ব প্রতিবেদক
আইজিপির ‘সরকার অনুমতি দিলে ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে সরকারের কাছে কঠোর জবাবদিহি দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির শীর্ষ নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি অভিযোগ করেছেন, পুলিশের কিছু কর্মকর্তার দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্যের কারণে পুরো বাহিনীকে আবারও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিতর্কে জড়ানোর চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে গুম, রাজনৈতিক হয়রানি, বাজার সিন্ডিকেট, গ্যাস সংকট ও প্রকাশ্য চাঁদাবাজি বন্ধে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন তিনি।
রাজধানীতে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আইজিপি যদি সরকার অনুমতি দিলে ক্রসফায়ারের মাধ্যমে মানুষ হত্যার প্রস্তুতির কথা বলে থাকেন, তবে এমন বক্তব্যের পর তাঁর স্বপদে বহাল থাকার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। এ ধরনের বক্তব্যকে সাবেক বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর ভেঙে পড়া মনোবল কাটিয়ে সাধারণ পুলিশ সদস্যরা যখন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন, তখন কিছু কর্মকর্তার বক্তব্য পুরো বাহিনীকে নতুন করে বিতর্কের মুখে ফেলছে। সরকারের এ বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হাসনাত আবদুল্লাহ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকার যদি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম ও খুনের বিষয়ে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত না নেয়, তাহলে জনগণের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি হবে যে সরকার আবারও সেই অন্ধকার পথেই ফিরতে চাইছে।
সমাবেশে তিনি মোংলার মিরাজের সন্ধান দাবি করেন। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবিলম্বে ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। রাজনৈতিক ভিন্নমতের কারণে আটক এক নারীর মুক্তিও দাবি করেন তিনি।
গ্যাস সংকট ও বাজার সিন্ডিকেট নিয়ে ক্ষোভ
দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, গ্যাস সংকট ও বাজারে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, রাজধানীর মুগদা এলাকার বাসিন্দারা গ্যাস সংকটের কারণে রান্না করতে পারছেন না। অন্যদিকে, ১ হাজার ৮০০ টাকার গ্যাস সিলিন্ডার সাধারণ মানুষকে ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এসব সংকটের পেছনে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি টিকে রয়েছে বলে দাবি করেন হাসনাত। তাঁর অভিযোগ, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লেও এসব অনিয়ম বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে না।
‘কর্মসংস্থানের নামে চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি’
সরকারের কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতির সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ১৮ মাসে দেড় কোটি কর্মসংস্থান তৈরির যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ব্যঙ্গ করে তিনি দাবি করেন, দেশে ইতিমধ্যে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে—তবে তা মোড়ে মোড়ে প্রকাশ্য চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির মাধ্যমে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ চাঁদাবাজির মাধ্যমে কর্মসংস্থান চায়নি; তারা চায় সম্মানজনক কাজের সুযোগ ও নিরাপদ জীবিকা।
সমাবেশে হাসনাত আবদুল্লাহ আরও হুঁশিয়ারি দেন, রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটের কার্যক্রম বন্ধ না হলে সাধারণ মানুষ নিজেদের অধিকার আদায়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।
তিনি এসব অভিযোগের বিষয়ে সরকারের স্পষ্ট অবস্থান, সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি এবং জনদুর্ভোগ নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
নিউজ বাংলা চ্যানেল