ঢাকা | খ্রি.

কর্মসংস্থান কমছে, বাড়ছে বেকারত্বের চাপ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 5, 2026 ইং | Photo Card
কর্মসংস্থান কমছে, বাড়ছে বেকারত্বের চাপ ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728
নিউজ বাংলা ডেস্ক : জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান প্রত্যাশা ছিল কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও বৈষম্য কমানো। তবে সেই লক্ষ্য এখনো পূরণ হয়নি। বরং শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে অনেক মানুষ চাকরি হারাচ্ছেন, সরকারি নিয়োগপ্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হচ্ছে এবং প্রত্যাশিত মাত্রায় বিনিয়োগও বাড়ছে না। এর সঙ্গে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক শিক্ষিত তরুণ চাকরির বাজারে প্রবেশ করায় দেশে বেকারত্বের চাপ ক্রমেই বাড়ছে। পরিস্থিতির মধ্যে কেউ কেউ ছিনতাই ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন, আবার অনেকে মাদকের দিকে ঝুঁকছেন।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ শ্রমশক্তি জরিপে দেশে সরকারি হিসাবে বেকারের সংখ্যা প্রায় ২৭ লাখ। বেকারত্বের হার ৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, এ পরিসংখ্যান শ্রমবাজারের পূর্ণ চিত্র তুলে ধরে না। তাদের ভাষ্য, কাজ খুঁজে হতাশ হয়ে শ্রমবাজারের বাইরে চলে যাওয়া তরুণ এবং যোগ্যতার তুলনায় কম মানের কাজে যুক্ত থাকা মানুষের সংখ্যাও বিবেচনায় নিতে হবে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি উচ্চশিক্ষিত তরুণদের ক্ষেত্রে। বিশ্ববিদ্যালয় বা সমমানের গ্র্যাজুয়েটদের বেকারত্বের হার ১৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ, যা সব শিক্ষাস্তরের মধ্যে সর্বোচ্চ। প্রতি বছর দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে গড়ে প্রায় ৭ লাখ শিক্ষার্থী স্নাতক শেষ করেন। বিপরীতে আনুষ্ঠানিক চাকরি তৈরি হয় প্রায় ৩ লাখ। ফলে প্রতিবছর প্রায় ৪ লাখ নতুন গ্র্যাজুয়েট দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্বের ঝুঁকিতে পড়ছেন।

অর্থনীতিবিদরা দীর্ঘ সময় চাকরি না পাওয়ার এ পরিস্থিতিকে ‘স্কারিং ইফেক্ট’ হিসেবে দেখছেন। এর ফলে একজন তরুণের আয়, দক্ষতা এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে দীর্ঘস্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

কর্মসংস্থান সৃষ্টির সঙ্গে বিনিয়োগ ও শিল্পোৎপাদনের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে না উঠলে নতুন চাকরির সুযোগও তৈরি হয় না। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, জুন শেষে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশে নেমেছে, যা দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন। একই সময়ে গ্যাসসংকট, জ্বালানি অনিশ্চয়তা ও উৎপাদন ব্যয়ের চাপে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান উৎপাদন কমিয়েছে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত গাজীপুর, সাভার-আশুলিয়া এবং নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদীর শিল্পাঞ্চলে ৯৫টি কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে। প্রথম ছয় মাসের তথ্য বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, বিজিএমইএর সদস্য অন্তত ৮০টি কারখানায় ১৯ হাজার ১৮৮ শ্রমিক চাকরিচ্যুত বা ছাঁটাই হয়েছেন। এর মধ্যে ২৭টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বলে শিল্পপুলিশ, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

এ ছাড়া আগস্ট ২০২৪ থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত দেশের সাতটি প্রধান শিল্পাঞ্চলে ৪৫৭টি শিল্প ইউনিট স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে। এর মধ্যে বিজিএমইএর সদস্য কারখানা ১০৮টি, বিকেএমইএর ৩৫টি, বিটিএমএর ৮টি এবং বেপজা-সংশ্লিষ্ট ১৯টি। পোশাক, নিটওয়্যার, বস্ত্র ও রপ্তানিমুখী শিল্পের সঙ্গে যুক্ত এসব প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি আরও ২৮৭টি পোশাকবহির্ভূত শিল্পও বন্ধ হয়েছে।

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘দেশে বিনিয়োগ এখনো আশানুরূপ পর্যায়ে পৌঁছায়নি। অনেক শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কিংবা উৎপাদন কমিয়ে দিচ্ছে। ফলে একদিকে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না, অন্যদিকে বিদ্যমান চাকরিও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিনিয়োগ ও শিল্পের গতি না বাড়লে বেকারত্ব কমানো কঠিন হবে। শুধু বিদেশে কর্মী পাঠিয়ে এ সংকট মোকাবেলা করা যাবে না। দেশে টেকসই কর্মসংস্থান তৈরির জন্য শিল্পে বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়াতে হবে।’

বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের (বিইএফ) সভাপতি ফজলে শামীম এহসানও জ্বালানি ব্যবস্থাপনার সাম্প্রতিক পরিস্থিতিকে কর্মসংস্থানের জন্য বড় বাধা হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে প্রকট হয়ে উঠেছে জ্বালানি অব্যবস্থাপনা। এর কারণে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির মতো অনুকূল পরিবেশ যেমন গড়ে উঠছে না, তেমন বিদ্যমান অনেক কারখানাও আগামী দিনে বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। বর্তমান সময়ে নতুন কর্মসংস্থানের পেছনে না ছুটে, কিভাবে বিদ্যমান কারখানাগুলো টিকিয়ে রাখা যায় সেদিকে মনোযোগ দিতে হবে।’

৫ লাখের বেশি সরকারি পদ শূন্য

সরকারি চাকরিতেও কর্মসংস্থানের বড় সংকট দেখা যাচ্ছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ‘স্ট্যাটিসটিকস অব সিভিল অফিসার্স অ্যান্ড স্টাফ, ২০২৫’-এর খসড়া অনুযায়ী, অনুমোদিত ১৯ লাখ ৮৬ হাজার পদের মধ্যে বর্তমানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ১৪ লাখ ৬৪ হাজার। অর্থাৎ প্রায় ৫ লাখ ২২ হাজার পদ এখনো শূন্য রয়েছে।

এসব পদে নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন বিপুলসংখ্যক চাকরিপ্রার্থী। কিন্তু বিসিএস, ব্যাংকসহ বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় প্রিলিমিনারি থেকে চূড়ান্ত সুপারিশ পর্যন্ত গড়ে তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লেগে যায়। ফলে নিয়োগের এই দীর্ঘসূত্রতা তরুণদের বেসরকারি খাতেও পিছিয়ে দিচ্ছে।

সরকারি প্রতিষ্ঠানে এত বিপুল পদ খালি থাকার জন্য রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতিকে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন সাবেক সচিব এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার। তবে তিনি শুধু রাজনীতিকদের দায়ী না করে আমলাদের ভূমিকাকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন।

নিয়োগপ্রক্রিয়ায় আমলাদের দায়িত্বের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যুদ্ধে কমান্ডারদের অস্ত্র মেশিনগান আর এখানে আমলাদের অস্ত্র কলম। তারা কেন ভয় পাবেন? সরকারি চাকরি করতে গেলে নানান ধরনের চাপ আসবে। সেই চাপের সম্মুখীন হয়েই কাজ করতে হবে।’

সাবেক এই আমলা আরও বলেন, ‘সরকারি নিয়োগপ্রক্রিয়ায় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দৃঢ়তা, সততা ও নিরপেক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক বা অন্য কোনো চাপের কারণে নিয়োগপ্রক্রিয়া আটকে রাখা বা দীর্ঘায়িত করা উচিত নয়। যোগ্যতার ভিত্তিতে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে একদিকে শূন্যপদ পূরণ হবে, অন্যদিকে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যেও আস্থা তৈরি হবে।’

বিদেশি শ্রমবাজারেও অনিশ্চয়তা

দেশের চাকরির বাজার সংকুচিত হওয়ার মধ্যে বিদেশে কর্মসংস্থান বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে থাকলেও সেখানেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে ৩ লাখ ১৮ হাজার ৩৫০ কর্মী বিদেশে গেছেন।

বাংলাদেশ ১৪০টি দেশে কর্মী পাঠালেও বাস্তবে ১০ থেকে ১২টি দেশের ওপর নির্ভরতা সবচেয়ে বেশি। মোট জনশক্তি রপ্তানির প্রায় ৭৫ শতাংশই মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক। যুদ্ধের কারণে এই বাজারেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে জাপান ও ইউরোপের নতুন শ্রমবাজারে সম্ভাবনা বাড়ছে।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) সাবেক মহাসচিব আলী হায়দার চৌধুরী বলেন, ‘দেশে প্রতি বছর প্রায় ৩০ লাখ তরুণ নতুন করে চাকরির বাজারে প্রবেশ করেন। বিপরীতে দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে মাত্র ২ থেকে ৩ লাখের মতো। বিনিয়োগ থেকে শুরু করে শিল্পকারখানা-সব ক্ষেত্রেই সংকোচন দেখা যাচ্ছে। তাই এখন বিদেশি শ্রমবাজার বা অভিবাসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।’

তিনি বলেন, ‘অভিবাসন এখন আমাদের অর্থনীতির লাইফলাইন বলা যায়। আমরা এখনো মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর। অথচ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি কর্মীর জন্য ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ইউরোপ, জাপানসহ বিভিন্ন নতুন শ্রমবাজারে আমাদের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এসব বাজার ধরতে হবে। শুধু মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভর করে থাকলে হবে না।’

আলী হায়দার চৌধুরীর মতে, বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো গেলে দেশের বেকারত্বের চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব। তবে নতুন শ্রমবাজারে প্রবেশের জন্য কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিদেশে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়াও দ্রুত করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশের শ্রমবাজারে প্রতিবছর নতুন করে ২০ থেকে ২২ লাখ মানুষ প্রবেশ করেন। তাদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বিদেশে কাজের সুযোগ পান। ফলে বাকি ১৪ থেকে ১৫ লাখ মানুষের জন্য দেশে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করতে হয়। কিন্তু নতুন শিল্পায়ন ও বিনিয়োগের গতি সেই চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে না। এতে প্রতিবছর আগের বেকারদের সঙ্গে নতুন চাকরিপ্রার্থীদের বড় একটি অংশ যুক্ত হচ্ছে এবং চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হচ্ছে।

দারিদ্র্য ও চাকরি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সতর্কতা

বিশ্বব্যাংকের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধজনিত বৈদেশিক ধাক্কা এমন সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আঘাত হেনেছে, যখন দেশের সক্ষমতা সীমিত। কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি কম, শ্রম আয়ের প্রবৃদ্ধি দুর্বল এবং মূল্যস্ফীতি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল দরিদ্র মানুষের কাছে যথেষ্টভাবে পৌঁছাচ্ছে না।

বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ২০২৫ সালে প্রায় ১৪ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যের মধ্যে পড়েছে। ২০২৬ সালে আগে যেখানে ১৭ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসবে বলে আশা করা হয়েছিল, এখন সেই সংখ্যা ৫ লাখে নেমে আসতে পারে। একই সঙ্গে প্রায় ৬ লাখ চাকরি হারানোর আশঙ্কাও করা হয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, কর্মসংস্থানের সংকট ও উচ্চ মূল্যস্ফীতি পরস্পরকে আরও তীব্র করছে। চাকরি কমে গেলে মানুষের আয় কমে যায়, আবার মূল্যস্ফীতি বাড়লে সেই আয় দ্রুত কমে যায়।

বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর সুপারিশ

বিশেষজ্ঞরা কর্মসংস্থানের সংকট মোকাবেলায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো, বন্ধ ও রুগ্ণ কারখানা পুনরায় চালু করা, উৎপাদন সম্প্রসারণ এবং শোভন কর্মসংস্থান তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। একই সঙ্গে গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন তারা।

সরকারি ৫ লাখের বেশি শূন্যপদ দ্রুত, স্বচ্ছ ও যোগ্যতাভিত্তিকভাবে পূরণ, নিয়োগপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা কমানো এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি বাড়ানোর সুপারিশও রয়েছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে নতুন শ্রমবাজারে প্রবেশ, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, কর্মীদের ভাষা ও যোগাযোগদক্ষতা বৃদ্ধি, বিদেশে কর্মী পাঠানোর সময় কমানো এবং সরকারি-বেসরকারি খাতের সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, ‘কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য শুধু বিনিয়োগের ঘোষণা নয়, বিনিয়োগকে বাস্তব কারখানা ও উৎপাদনে রূপ দেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি বলেন, ‘১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় বিনিয়োগ পরিবেশের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে ২৫টি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল এবং এরই মধ্যে ১০ হাজার একরের বেশি শিল্পভূমিতে ৪৪টি বিনিয়োগের সুযোগ চিহ্নিত করা হয়েছে। বন্ধ ও অব্যবহৃত সরকারি শিল্পসম্পদকে উৎপাদন ও কর্মসংস্থানে ফিরিয়ে আনাও এ পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য।’

আশিক চৌধুরী জানান, আনোয়ারার চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল প্রায় ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং ১ লাখের বেশি কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে বাস্তবায়নের গতি এখনো সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরও মাঠপর্যায়ে তা কার্যকর হতে সময় লাগে। একটি কারখানা চালু করতেও বিনিয়োগকারীদের একাধিক সংস্থার অনুমোদন নিতে হয়।

তার মতে, বিনিয়োগকারীদের কাছে নীতির চেয়ে ধারাবাহিক ও সময়মতো বাস্তবায়ন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য সিঙ্গেল উইন্ডো ব্যবস্থার মাধ্যমে ১৪ দিনের মধ্যে ব্যবসায়িক অনুমোদনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আগামী পর্যায়ের মূল লক্ষ্য হবে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতিকে বাস্তব প্রকল্প, উৎপাদন ও কর্মসংস্থানে রূপ দেওয়া।’


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স
গাজ্জালী স্যারের মর্মস্পর্শী কবিতা ‘অশ্রু আর বীজ’

গাজ্জালী স্যারের মর্মস্পর্শী কবিতা ‘অশ্রু আর বীজ’