ঢাকা | খ্রি.

ভারতে রফতানি বাড়ছে, বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর নতুন সম্ভাবনা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 8, 2026 ইং | Photo Card
ভারতে রফতানি বাড়ছে, বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর নতুন সম্ভাবনা ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728

 নিউজ বাংলা ডেস্ক: চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরুতেই ভারতের বাজারে বাংলাদেশের পণ্য রফতানিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে। অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই ও আগস্টে ভারতে বাংলাদেশের রফতানি আয় বেড়েছে ৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিবেশী দেশটির বিশাল ভোক্তা বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধির এ প্রবণতা কাজে লাগানো গেলে রফতানি সম্প্রসারণের পাশাপাশি দুই দেশের দীর্ঘদিনের বাণিজ্য ঘাটতিও কিছুটা কমিয়ে আনা সম্ভব।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) দেশভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুলাই-আগস্ট সময়ে ভারতে বাংলাদেশ ৩৩ কোটি ৫২ লাখ মার্কিন ডলারের পণ্য রফতানি করেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ৩১ কোটি ১৩ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে দেশটিতে রফতানি বেড়েছে ২ কোটি ৩৯ লাখ ডলার।

শুধু জুলাই মাসের হিসাবেও ভারতের বাজারে বাংলাদেশের রফতানিতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ওই মাসে রফতানি বেড়েছে ১৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ। আগস্টেও সামগ্রিক রফতানিতে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি থাকায় অর্থবছরের শুরুতে রফতানি খাতের জন্য ইতিবাচক বার্তা পাওয়া যাচ্ছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বাংলাদেশের মোট পণ্য রফতানি প্রায় ৯১৬ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল প্রায় ৮৬৯ কোটি ডলার। আগস্ট মাসে এককভাবে রফতানি আয় হয়েছে ৪৪৩ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই মাসের ৩৯২ কোটি ডলারের তুলনায় ১৩ দশমিক ১৪ শতাংশ বেশি।

ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশের অন্যান্য প্রধান বাজারেও রফতানি আয় বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। প্রথম দুই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি ১১ দশমিক ৯০ শতাংশ বেড়ে ১৮৭ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। স্পেনে রফতানি বেড়েছে ১১ দশমিক ৭০ শতাংশ, আয় হয়েছে ৮৩ কোটি ৮৫ লাখ ডলার।

এ সময়ে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের রফতানি বেড়েছে ৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ, দাঁড়িয়েছে ৯৭ কোটি ৪ লাখ ডলারে। নেদারল্যান্ডসে ৫ দশমিক ৮২ শতাংশ বেড়ে রফতানি হয়েছে ৪৯ কোটি ৩৫ লাখ ডলারের। কানাডায় রফতানি ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেড়ে ২৭ কোটি ৯৩ লাখ ডলারে পৌঁছেছে।

উদীয়মান বাজারেও বাংলাদেশের রফতানি সম্ভাবনার চিত্র স্পষ্ট হচ্ছে। এর মধ্যে তুরস্কে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। দেশটিতে বাংলাদেশের রফতানি ৮৭ দশমিক ১০ শতাংশ বেড়ে ১৩ কোটি ৮৯ লাখ ডলারে উন্নীত হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে রফতানি বেড়েছে ১৯ দশমিক ৫০ শতাংশ, আয় হয়েছে ৭ কোটি ৪২ লাখ ডলার। মেক্সিকোতে ১৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ বেড়ে রফতানি দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৫০ লাখ ডলারে।

সুইডেনে বাংলাদেশের রফতানি ১২ দশমিক ০৯ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১৩ কোটি ৪ লাখ ডলার। অস্ট্রেলিয়ায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২ দশমিক ৫১ শতাংশ; রফতানি আয় দাঁড়িয়েছে ১৬ কোটি ৪৯ লাখ ডলারে।

তবে রফতানি বাড়লেও ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ভারসাম্য এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ভারত থেকে প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। বিপরীতে একই সময়ে ভারতে বাংলাদেশের রফতানি ছিল প্রায় ১৭৫ কোটি ডলার। ফলে ওই অর্থবছরে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯২১ কোটি ডলারে।

অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের মতে, এ ঘাটতি কমানোর অন্যতম উপায় হতে পারে ভারতের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশ বাড়ানো। ভৌগোলিক নৈকট্য, বড় ভোক্তা বাজার এবং বিদ্যমান যোগাযোগ অবকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ রফতানি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা

ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা