ঢাকা | খ্রি.

টিভিতে শেখা কৌশলে বিমান সামলালেন প্লাম্বার, হামলাকারী পাইলটকে কাবু করলেন ডেন্টিস্ট

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 1, 2026 ইং | Photo Card
টিভিতে শেখা কৌশলে বিমান সামলালেন প্লাম্বার, হামলাকারী পাইলটকে কাবু করলেন ডেন্টিস্ট ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728
নিউজ বাংলা ডেস্ক : চলন্ত বিমানের ককপিটে পাইলট গুরুতর আহত, আর সহ-পাইলটের হামলায় বিমান দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে—এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে সাধারণ দুই যাত্রীর সাহসী পদক্ষেপে বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়। দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের ওই ফ্লাইটে পাইলট স্মিত মাচ্ছারকে সহায়তা করেন পেশায় প্লাম্বার ইয়ানিভ হায়ুন এবং দন্ত চিকিৎসক শোতা মুসায়েভ।

সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে মাঝআকাশে ঘটে যাওয়া ওই ঘটনার বিস্তারিত। একজন যাত্রী টেলিভিশনের অনুষ্ঠান দেখে শেখা কৌশল কাজে লাগিয়ে বিমানের নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেন। অন্যজন হেডফোনের তার ও প্লাস্টিকের জিপ-টাই ব্যবহার করে হামলাকারী সহ-পাইলটকে বেঁধে ফেলেন।

ঘটনার সময় ওমানি সহকারী পাইলট ছুরি দিয়ে ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে আঘাত করেন। এরপর মাত্র ৩০ সেকেন্ডে বিমানটি প্রায় ১৪ হাজার ফুট নিচে নেমে যায়। এ অবস্থায় বাইরে থাকা যাত্রীরা ককপিটের দরজা খোলার চেষ্টা করছিলেন। গুরুতর আহত ক্যাপ্টেন মেঝেতে পড়ে থেকেও ডোর রিলিজ বোতামটি চাপতে সক্ষম হন।

দরজা খোলার পর ককপিটে প্রবেশ করেন ইয়ানিভ হায়ুন। ভেতরের ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখেও তিনি পিছিয়ে যাননি। হায়ুন জানান, তখন হামলাকারী ও অন্যদের মধ্যে ধস্তাধস্তি চলছিল। তিনি দ্রুত ককপিটের সামনের দিকে গিয়ে দুই হাতে বিমানের মূল নিয়ন্ত্রণ হ্যান্ডেল বা ইয়োক ধরে পেছনের দিকে টানতে থাকেন। টেলিভিশনের বিভিন্ন নাটকে পাইলটদের বিমান ওপরে তোলার সময় যে কৌশল দেখেছেন, সেটিই তিনি অনুসরণ করেন।

হায়ুনের ওই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে খাড়া নিচের দিকে নামতে থাকা বিমানটি ধীরে ধীরে ভারসাম্যে ফিরতে শুরু করে।

এরই মধ্যে ককপিটে ছুটে যান দন্ত চিকিৎসক শোতা মুসায়েভ। তিনি দেখতে পান, রক্তাক্ত ক্যাপ্টেনের ওপর উঠে সহ-পাইলট তখনও তাকে ছুরিকাঘাত করছেন।

মুসায়েভের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্যাপ্টেনের মাথা ও দুই হাত গুরুতরভাবে জখম হয়েছিল। তার ভাষায়, মনে হচ্ছিল হাত দুটি প্রায় শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং চারপাশে শুধু রক্ত ছিল। আরও কয়েক মুহূর্ত দেরি হলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ক্যাপ্টেনের রক্তচাপ শূন্যে নেমে মৃত্যু হতে পারত।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মুসায়েভ অন্য যাত্রীদের সহায়তায় হামলাকারীকে মাটিতে ফেলে চেপে ধরেন। ককপিটে দড়ি বা হ্যান্ডকাফ না থাকায় তিনি হেডফোনের প্যাঁচানো তার ও কেবিনের প্লাস্টিকের জিপ-টাই দিয়ে হামলাকারীর হাত শক্ত করে বেঁধে ফেলেন। এরপর রক্তক্ষরণে অচেতন হয়ে পড়া ক্যাপ্টেন স্মিতকে জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে শুরু করেন।

পরে অফ-ডিউটিতে থাকা একজন পাইলট ককপিটে এসে বিমানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেন। শেষ পর্যন্ত বিমানটি সৌদি আরবে নিরাপদে অবতরণ করে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
‘যারা দেশে আছেন তারা যেন কেউ পালাতে না পারেন -চুয়াডাঙ্গায় দু

‘যারা দেশে আছেন তারা যেন কেউ পালাতে না পারেন -চুয়াডাঙ্গায় দু