ঢাকা | খ্রি.

১ নভেম্বর থেকে ‘বাংলা কিউআর’-এ ব্যক্তিগত ডিজিটাল লেনদেনের নতুন অধ্যায়

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 12, 2026 ইং | Photo Card
১ নভেম্বর থেকে ‘বাংলা কিউআর’-এ ব্যক্তিগত ডিজিটাল লেনদেনের নতুন অধ্যায় ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728
নিউজ বাংলা ডেস্ক : রিকশাভাড়া, বাসের টিকিট, চায়ের দাম কিংবা ফুটপাতের দোকান থেকে অল্প পরিমাণের কেনাকাটা—এসব দৈনন্দিন লেনদেনও ডিজিটাল করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বজনীন পেমেন্ট ব্যবস্থা ‘বাংলা কিউআর’-এর চতুর্থ ধাপ আগামী ১ নভেম্বর থেকে চালু হওয়ার কথা রয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি (পিটুপি) সরাসরি ডিজিটাল অর্থ লেনদেনের সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে।

নতুন ব্যবস্থায় লেনদেনের জন্য বাণিজ্যিক মার্চেন্ট অ্যাকাউন্টের প্রয়োজন হবে না। রিকশাচালক, বাস কন্ডাক্টর, হকার, সবজি বিক্রেতা কিংবা সাহায্যপ্রার্থীরাও নিজেদের ব্যক্তিগত কিউআর কোড ব্যবহার করে এক মোবাইল অ্যাপ থেকে অন্য অ্যাপে টাকা পাঠাতে পারবেন। এর ফলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক লেনদেনে নগদ টাকার ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

বাংলা কিউআরের সহজ ও উন্মুক্ত মডেল নিয়ে গুগল, মেটা ও হুয়াওয়ের প্রতিনিধিরাও বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ক্ষুদ্র লেনদেনেও থাকবে ডিজিটাল পরিশোধের সুযোগ

এত দিন ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবহার বড় বিপণিবিতান ও শপিং মলে তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা গেলেও নতুন উদ্যোগে অনানুষ্ঠানিক খাতের মানুষকেও এ ব্যবস্থার আওতায় আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষণা অনুযায়ী, চতুর্থ ধাপে দৈনন্দিন জীবনের ছোট-বড় বিভিন্ন খরচ ডিজিটাল মাধ্যমে পরিশোধ করা যাবে।

বাসের টিকিট কেনা, রাস্তার পাশের দোকানে ৫ টাকার চা পান, ফুটপাতের ভ্যান থেকে ১০ টাকার কাঁচা মরিচ বা ধনেপাতা কেনা, জুতো সেলাইয়ের ২০ টাকা দেওয়া কিংবা সেলুনের বিল পরিশোধ—সব ক্ষেত্রেই কিউআর কোড স্ক্যান করে অর্থ দেওয়া সম্ভব হবে। ফলে সঙ্গে কাগুজে নোট না থাকলেও প্রয়োজনীয় খুচরা খরচ মেটানো যাবে।

ভাংতির সমস্যা ও ছেঁড়া নোটের ঝামেলা কমবে

দৈনন্দিন কেনাকাটা ও যাতায়াতের ক্ষেত্রে খুচরা টাকার সংকট প্রায়ই ভোগান্তির কারণ হয়। রিকশা বা বাসভাড়া দেওয়া কিংবা চায়ের দোকানে বিল মেটানোর সময় ভাংতি না থাকায় অনেককে সমস্যায় পড়তে হয়। বাংলা কিউআরের মাধ্যমে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা পাঠানো গেলে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হবে।

উদাহরণ হিসেবে, কোনো বিল ২৩ বা ৪৭ টাকা হলে গ্রাহককে বাড়তি বা পূর্ণ অঙ্কের টাকা দিতে হবে না; অ্যাপের মাধ্যমে ঠিক যত টাকা পরিশোধ করতে হবে, ততটুকুই পাঠানো যাবে। এতে দুই বা তিন টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করার প্রয়োজন কমবে। একই সঙ্গে ছেঁড়া ও নোংরা নোটের ব্যবহারজনিত বিড়ম্বনাও এড়ানো যাবে।

ডিজিটাল মাধ্যমে দান ও সাহায্য

বাংলা কিউআরের নতুন ধাপে ব্যক্তিগত পর্যায়ে দান ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে। রাস্তায় কিংবা ধর্মীয় উপাসনালয়ের সামনে থাকা কোনো সাহায্যপ্রার্থী বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নিজেদের মোবাইল আর্থিক সেবার ব্যক্তিগত বাংলা কিউআর কোড প্রদর্শন করতে পারবেন। এর মাধ্যমে কেউ চাইলে ২, ৫ বা ১০ টাকার মতো ছোট অঙ্কের অর্থও সরাসরি পাঠাতে পারবেন।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যক্তিগত কিউআর কোড বৈধ লেনদেনের কাজে ব্যবহার করতে হবে। কেউ এ কোড অননুমোদিতভাবে টাকা তোলার বা ক্যাশআউটের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করলে তাঁর অ্যাকাউন্ট তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে।

অ্যাপে সহজ প্রবেশাধিকার ও লেনদেনসীমা তুলে নেওয়া

ব্যবহারকারীদের সুবিধার জন্য দেশের ব্যাংকিং ও মোবাইল আর্থিক সেবার অ্যাপগুলোর নকশায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। অ্যাপের মূল পাতার নিচের অংশে, সহজে আঙুলের নাগালে বাংলা কিউআর আইকন রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে দৈনিক ২০ হাজার টাকার লেনদেনসীমা তুলে নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে নির্ধারিত ব্যবস্থার আওতায় যেকোনো অঙ্কের অর্থ বিনা মাশুলে আদান-প্রদানের সুযোগ থাকবে। সরাসরি কিউআর কোড স্ক্যান করার পাশাপাশি ফোনের গ্যালারিতে থাকা কোডের ছবি বা স্ক্রিনশট অ্যাপে আপলোড করেও লেনদেন সম্পন্ন করার সুবিধা যুক্ত হচ্ছে।

লেনদেনে মাশুল শূন্য রাখার সিদ্ধান্ত

ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জের আশঙ্কা অনেক গ্রাহকের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এ সমস্যা দূর করতে বাংলা কিউআরের আওতায় যেকোনো অঙ্কের লেনদেনে মার্চেন্ট ও গ্রাহক—উভয়ের জন্যই মাশুল শূন্য শতাংশ নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

অর্থাৎ, কোনো গ্রাহক রিকশাচালককে ৩০ টাকা পাঠালে তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে অতিরিক্ত অর্থ কাটা হবে না। চালকও সম্পূর্ণ ৩০ টাকাই পাবেন। পাশাপাশি, লেনদেনের অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে প্রাপকের অ্যাকাউন্টে জমা হবে।

লেনদেন বাড়ছে, লক্ষ্য দৈনিক ৩ হাজার কোটি টাকা

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত জুনে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩৭ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বরের শেষে তা বেড়ে প্রতিদিন গড়ে ১৪৩ কোটি থেকে ১৮০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে—যা জুনের তুলনায় চার গুণেরও বেশি।

বর্তমানে দেশে প্রায় ৪০ লাখ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বাংলা কিউআর চালু রয়েছে। এ সংখ্যা আরও বাড়ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্য, সর্বস্তরের মানুষকে এই ব্যবস্থায় যুক্ত করে দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ দ্রুত ৩ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা।

নিরাপদ লেনদেনে প্রয়োজন সতর্কতা

বাংলা কিউআর আন্তর্জাতিক ইএমভি (EMV) মানদণ্ড অনুসরণ করে তৈরি হওয়ায় প্রযুক্তিগতভাবে নিরাপদ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে প্রতারণা এড়াতে ব্যবহারকারীদের কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কিউআর কোড স্ক্যান করার পর টাকা পাঠানোর আগে অ্যাপে প্রদর্শিত বিক্রেতা বা চালকের নাম যাচাই করে নিতে হবে। অন্যদিকে, বিক্রেতা ও চালকদের গ্রাহকের ফোনের পর্দা দেখে লেনদেন নিশ্চিত না করে নিজেদের ফোনে আসা এসএমএস বা অ্যাপের ব্যালান্স পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আগামী ১ নভেম্বর থেকে বাংলা কিউআরের চতুর্থ ধাপ চালু হলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক লেনদেনেও ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। ব্যক্তিগত পর্যায়ে অর্থ আদান-প্রদান, কেনাকাটা ও আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা নগদ টাকার বিকল্প হিসেবে ব্যবহারের নতুন পথ খুলে দিতে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স
রোহিত শর্মাকে পেছনে ফেলে টি-টোয়েন্টির রাজা এখন বাবর

রোহিত শর্মাকে পেছনে ফেলে টি-টোয়েন্টির রাজা এখন বাবর