২০২০ সালের ৮ জুন রাতে মুম্বাইয়ের একটি ভবনের ১২ তলা থেকে পড়ে ২৮ বছর বয়সী দিশার মৃত্যু হয়। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুরুতে পুলিশ ঘটনাটিকে মদ্যপ অবস্থায় দুর্ঘটনাবশত পড়ে যাওয়া এবং পরে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করেছিল। তবে দিশার পরিবার প্রথম থেকেই এটিকে হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করে আসছিল।
গত ২ সেপ্টেম্বর মুম্বাই হাইকোর্ট আগের পুলিশি তদন্ত নিয়ে কঠোর পর্যবেক্ষণ দেয়। আদালত জানায়, দীর্ঘ সময় ধরে দুই পর্যায়ে পরিচালিত তদন্তে একাধিক স্পষ্ট অসঙ্গতি পাওয়া গেছে।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ময়নাতদন্তে উল্লেখ করা আঘাতের চিহ্ন ১২ তলা থেকে পড়ে যাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। যে জায়গা থেকে দিশার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল, সেখানেও রক্তের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ঘটনাটিকে অস্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে বিবেচনা করা হলেও পুলিশ কোনো এফআইআর দায়ের করেনি। আদালত আরও মন্তব্য করে, পুলিশের তদন্ত ঘটনার সমাধানের বদলে আরও প্রশ্ন তৈরি করেছে।
সিবিআইয়ের কাছে দেওয়া অভিযোগে দিশার বাবা দাবি করেছেন, একটি আন্তর্জাতিক চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ ও অভিনেতাদের মাদক পাচার এবং শিশু নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধের তথ্য-প্রমাণ দিশার হাতে এসেছিল। তার দাবি, দিশা বিষয়টি সুশান্ত সিং রাজপুতকে জানিয়েছিলেন এবং তারা দুজন মিলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব তথ্য প্রকাশ করার পরিকল্পনা করেছিলেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ওই তথ্য প্রকাশ ঠেকাতেই দিশাকে গণধর্ষণের পর হত্যা এবং প্রমাণ লোপাট করা হয়। এর প্রায় এক সপ্তাহ পর সুশান্ত সিং রাজপুতকেও তার নিজের বাসায় মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। ওই ঘটনা সে সময় পুরো ভারতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
মেয়ের মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটনের দাবিতে ছয় বছর ধরে আইনি লড়াই চালিয়ে আসছেন সতীশ সালিয়ান। আদালতের নতুন নির্দেশে তিনি কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তার একমাত্র সন্তানের জন্য সুবিচার নিশ্চিত করা এবং ঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
তবে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, কোনো ঘটনায় এফআইআর দায়ের হওয়া মানেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। এ পর্যায়ে এফআইআরে উল্লিখিত তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে সিবিআই নতুন করে নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করবে।
নিউজ বাংলা চ্যানেল