ঢাকা | খ্রি.

রাজশাহীতে সারের সিন্ডিকেটে জিম্মি কৃষক, বস্তাপ্রতি অতিরিক্ত ৫০০-১০০০ টাকা আদায়

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 12, 2026 ইং | Photo Card
রাজশাহীতে সারের সিন্ডিকেটে জিম্মি কৃষক, বস্তাপ্রতি অতিরিক্ত ৫০০-১০০০ টাকা আদায় ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728

নিউজ বাংলা ডেস্ক:রাজশাহী অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে সার বিক্রিকে কেন্দ্র করে শক্তিশালী সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে জিম্মি হয়ে পড়েছেন লাখো কৃষক। অভিযোগ রয়েছে, ডিলার, মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তা এবং অবৈধ খুচরা সার বিক্রেতাদের একটি চক্র সরকার নির্ধারিত দামে সার সরবরাহ ব্যাহত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে। ফলে কৃষকদের ৫০ কেজির এক বস্তা সার কিনতে অতিরিক্ত ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, আগে ডিলাররা বরাদ্দপত্রই কালোবাজারিদের কাছে বিক্রি করে দিতেন। বর্তমানে গুদাম থেকে সার তোলার পর তা ডিলারের দোকানে না এনে সরাসরি খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। কোথাও আবার এক জেলার সার অন্য জেলায়, এক উপজেলার সার অন্য উপজেলায় পাঠানো হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সরকারি ভর্তুকির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রকৃত কৃষকরা।

রাজশাহীর মোহনপুর, তানোর ও গোদাগাড়ীর বরেন্দ্র অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, আমন মৌসুমে কৃষকেরা জমি প্রস্তুত ও রোপণ কাজে ব্যস্ত। কিন্তু প্রয়োজনীয় টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সার সংগ্রহে তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সামর্থ্যবান কৃষকেরা বেশি দামে সার কিনতে পারলেও মাঝারি ও প্রান্তিক কৃষকেরা এক-দুই বস্তা সারও সংগ্রহ করতে পারছেন না।

তানোর উপজেলার রিশিকুল ইউনিয়নের ছোট পলাশী গ্রামের কৃষক সাজেদুর রহমান বলেন, “সরকারি দামে কোথাও সার পাওয়া যাচ্ছে না। ডিলারের দোকানে গেলে বলা হয় সার নেই। পরে বেশি দামে খুচরা দোকান থেকে কিনতে বাধ্য হচ্ছি।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কৃষক জানান, সিন্ডিকেটের মূল নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন তদারকির দায়িত্বে থাকা মাঠ পর্যায়ের কিছু কৃষি কর্মকর্তা। তাদের সঙ্গে অসাধু ডিলার ও অবৈধ খুচরা বিক্রেতাদের যোগসাজশের কারণেই বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে।

রাজশাহী জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির তথ্য অনুযায়ী, সরকার কৃষকদের জন্য ভর্তুকি দিয়ে ৫০ কেজির এক বস্তা টিএসপির দাম ১,৩৫০ টাকা, ডিএপি ১,০৫০ টাকা এবং এমওপি ১,০৫০ টাকা নির্ধারণ করেছে। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে এসব সার ওই দামে পাওয়া যাচ্ছে না।

তানোরের পলাশী গ্রামের কৃষকদের দাবি, টিএসপি কিনতে হচ্ছে ১,৭০০ থেকে ১,৮০০ টাকায়, ডিএপি ১,৬০০ টাকায় এবং এমওপি বস্তাপ্রতি প্রায় ১,৫৫০ টাকায়। পবা উপজেলার বড়াইকুড়ি গ্রামের কৃষক রাসেল হোসেন বলেন, “ডিলার বলছেন মজুত শেষ, অথচ খুচরা বিক্রেতারা বলছেন যত লাগে সার পাওয়া যাবে—তবে বেশি দামে।”

এলাকার বিএডিসি ডিলার মেসার্স হক অ্যান্ড সন্স-এর মালিক আব্দুল হক দাবি করেন, “২০২ বস্তা সার তিন দিনের মধ্যেই বিক্রি হয়ে গেছে।”

অন্যদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. আজিজুর রহমান বলেন, “সার সংকটের কোনো খবর আমাদের জানা নেই।” অধিদপ্তরের প্রকাশিত বরাদ্দ তালিকা অনুযায়ী, জুলাই ও আগস্ট মাসে রাজশাহী অঞ্চলে নন-ইউরিয়া সারের বরাদ্দও বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিএডিসির সহকারী পরিচালক (সার) নাসির উদ্দিনের দাবি, কৃষকেরা প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত সার ব্যবহার করায় চাহিদা বেড়েছে। তবে কৃষকদের প্রশ্ন, বরাদ্দ বাড়লেও যদি ডিলাররা সার তুলে বাজারে ‘সার নেই’ বলে প্রচার করেন, তবে সেই সার কোথায় যাচ্ছে?

জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, “সরকার নির্ধারিত দামের বেশি নিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃষকেরা তথ্য দিলে তদন্ত করা হবে।”

তবে কৃষকদের অভিযোগ, মাসিক মনিটরিং কমিটির বৈঠকে কাগজে-কলমে সংকট না থাকলেও বাস্তবে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। কার্যকর নজরদারি ও কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে চলতি আমন মৌসুমে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স