নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ইরান ও কিউবা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির কঠোর সমালোচনা করেছে চীন। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেং মধ্যপ্রাচ্য, বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রতি সম্মান জানানোর আহ্বান জানান। একইসঙ্গে কিউবার বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগের হুমকি বন্ধ এবং দেশটির ওপর আরোপিত অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
হান ঝেং তার বক্তব্যে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ করেননি। তবে ‘সংশ্লিষ্ট দেশ’কে কিউবার বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগের হুমকি বন্ধ এবং অবিলম্বে ও পুরোপুরি অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। একইসঙ্গে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যসহ পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রতি সম্মান দেখাতে হবে।
চীনা ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় বড় দেশগুলোর বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে। নিয়ম মেনে চলা, আইনের শাসন সমুন্নত রাখা এবং সঠিক কাজের ক্ষেত্রে তাদের নেতৃত্ব দেওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, বড় কিংবা ছোট—সব দেশই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমান সদস্য এবং বিশ্বের বিভিন্ন সংকট আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা প্রয়োজন।
ইরান ইস্যুতেও চীনের অবস্থান স্পষ্ট করেন হান ঝেং। তিনি একতরফা সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের প্রতি সম্মান এবং সংলাপের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
চীনের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন চলতি সপ্তাহের শুরুতে ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে বৈঠক হয়েছে। ওই সফরে শি জিনপিংকে সামরিক ফ্লাইওভার ও রাষ্ট্রীয় নৈশভোজের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়। ফলে জাতিসংঘে হান ঝেংয়ের বক্তব্য দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি ইরান ও কিউবা ইস্যুতে নীতিগত মতপার্থক্যও সামনে এনেছে।
এর আগে মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানিয়েছিলেন, ওয়াশিংটনে বৈঠকের সময় ট্রাম্প শি জিনপিংকে ইরানকে সামরিক বা কৌশলগত সহায়তা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এ নিয়ে চীনের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ইরানকে চীনের সম্ভাব্য সামরিক সহায়তা এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেহরানের তেল বিক্রির সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি আলোচনায় আসে।
কিউবা প্রসঙ্গে হান ঝেংয়ের বক্তব্যের পটভূমিতে দেশটির দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকটও রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণে কিউবায় জ্বালানি সরবরাহ ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে দেশটির বিদ্যুৎ গ্রিড পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে লাখ লাখ মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। কিউবার পুরোনো বিদ্যুৎ উৎপাদন অবকাঠামো ও জ্বালানি সংকটের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
চীনের পাশাপাশি রাশিয়াও কিউবা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সমালোচনা করেছে। জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ কিউবার ওপর থেকে অবরোধ ও বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। পাশাপাশি কিউবাকে সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ারও দাবি জানান তিনি।
জাতিসংঘের মঞ্চে চীন ও রাশিয়ার এমন বক্তব্যে ইরান ও কিউবা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির বিরুদ্ধে দুই দেশের প্রকাশ্য কূটনৈতিক অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল।
নিউজ বাংলা চ্যানেল