ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআই নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইওয়ার অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। নেতানিয়াহুর প্রতি নিজের সমর্থন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, ‘অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খুব ভালো কাজ করেছেন।’
ইসরায়েলে মঙ্গলবার সকাল ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এ নির্বাচনে সারা দেশে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধিত নাগরিকের সংখ্যা ৭৩ লাখ ৩৬ হাজার ৫৫৩ জন।
নির্বাচন আয়োজনের জন্য দেশজুড়ে ১২ হাজার ১৮টি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ হাজার ২০৯টি কেন্দ্র সহজে প্রবেশযোগ্য। বিশেষ সুবিধাসম্পন্ন ভোটারদের জন্য নির্ধারিত কেন্দ্রের সংখ্যা ৩ হাজার ৬২১টি।
পশ্চিম এশিয়ায় চলমান অস্থিরতার মধ্যে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইরানের সঙ্গে সংঘাতে জড়ানোর পাশাপাশি ইসরায়েল দক্ষিণ সীমান্তে হিজবুল্লাহর সঙ্গেও সংঘর্ষে লিপ্ত রয়েছে। এতে দেশটির ওপর চাপ আরও বেড়েছে। নির্বাচনী প্রচারে নেতানিয়াহুর অন্যতম প্রধান বক্তব্য হলো, ইরানের হুমকি মোকাবিলা করার সক্ষমতা তাঁরই রয়েছে। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনও তাঁর প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোটে রয়েছে তাঁর নিজের দল লিকুদ পার্টি। এ ছাড়া অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের বসতি স্থাপনপন্থী দল রিলিজিয়াস জায়োনিজম এবং জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের কট্টর ডানপন্থী দল জুইশ পাওয়ারও এই জোটের অংশ।
ইসরায়েলের সাবেক সামরিক কর্মকর্তা মেজর এরিয়েল আভারবুখের মতে, এবারের নির্বাচনে ভোটারদের সিদ্ধান্তে কয়েকটি বিষয় বিশেষ প্রভাব ফেলতে পারে। জাতীয় নিরাপত্তা, অতি-ধর্মীয় ইহুদিদের বাধ্যতামূলক সামরিক বাহিনীতে যোগদান এবং যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য।
এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আভারবুখ বলেন, চলমান সংঘাতের কারণে ইসরায়েলি নাগরিকদের কাছে নিরাপত্তা সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে অতি-ধর্মীয় ইহুদিদের সামরিক বাহিনীতে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টিও ব্যাপক আলোচনায় রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা এখন যুদ্ধের মধ্যে রয়েছি। এ কারণে অনেক নাগরিক দেশের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। সবার আগে রয়েছে ইসরায়েলের মানুষের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি। দ্বিতীয়ত, অনেকেই অর্থোডক্স ইহুদিদের সেনাবাহিনীতে যোগদান নিয়ে আলোচনা করছেন। তৃতীয়ত, এরপর পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা নিয়েও অনেকের উদ্বেগ রয়েছে।’
আভারবুখের ধারণা, এসব ইস্যু নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাঁর আশঙ্কা, প্রতিদ্বন্দ্বী দুই পক্ষ প্রায় সমান ভোট পেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় দফায় নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর তাতে নেতানিয়াহু ক্ষমতায় থেকে যেতে পারেন বলে মনে করেন তিনি।
নিউজ বাংলা চ্যানেল