ডিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের প্রধান ওলেক্সান্দর হানঝা জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ১৫ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছিল। পরে উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চলার সময় ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও একটি মরদেহ উদ্ধার করা হলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়ায়।
হানঝার তথ্য অনুযায়ী, ক্রিভি রিহরের ওই শপিং মলে এখনো নয়জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে দুটি শিশু রয়েছে। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, শহরের সবচেয়ে বড় শপিং মলটিতে হামলা দুটি ধাপে চালানো হয়। দিনের বেলায় তার নিজ শহরে এমন হামলাকে তিনি ‘একেবারে নিন্দনীয় ও জঘন্য’ বলে উল্লেখ করেন।
জেলেনস্কির ভাষ্য, প্রথম হামলার পর জরুরি সেবাকর্মীরা যখন ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছিলেন, তখন দ্বিতীয় ড্রোন হামলা হয়। তার অভিযোগ, ওই হামলার লক্ষ্য ছিলেন ঘটনাস্থলে কাজ করা জরুরি সেবাকর্মীরা। বিবিসির যাচাই করা একটি ভিডিওতেও আগে থেকে আগুনে জ্বলতে থাকা শপিং মলে দ্বিতীয় একটি ড্রোন আঘাত হানতে দেখা গেছে।
তবে হামলার বিষয়ে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। হানঝা এর আগে জানিয়েছিলেন, আহত ১৩০ জনের মধ্যে ২৯ জনের অবস্থা গুরুতর। উদ্ধার অভিযান জোরদার করতে ইউক্রেনের আরও চারটি অঞ্চল থেকে জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধারকারী দল ক্রিভি রিহতে পাঠানো হচ্ছে।
ক্রিভি রিহরের মেয়র ওলেক্সান্দর ভিলকুল বলেন, হামলার সময় রুশ ড্রোনগুলো ‘অত্যন্ত নিচু দিয়ে’ উড়ছিল। হামলাকারীদের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি তাদের ‘পশু’ বলে মন্তব্য করেন। মেয়র জানান, কয়েকজন মানুষ এখনো নিখোঁজ এবং তাদের ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।
ক্রিভি রিহরের পাশাপাশি ইউক্রেনের আরও কয়েকটি এলাকাতেও রুশ হামলার খবর পাওয়া গেছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় মাইকোলাইভ অঞ্চলে পৃথক হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে তিনজন শিশু। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ অঞ্চলে রুশ হামলায় আরও দুজন নিহত হয়েছেন।
দক্ষিণাঞ্চলীয় জাপোরিঝঝিয়া শহরে একটি ট্যাক্সির কাছে ড্রোন বিস্ফোরণের ঘটনায় তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক প্রধান।
এর এক দিন আগে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় রাশিয়া। রাতভর ওই হামলায় ১৭ জন নিহত এবং ৪০ জনের বেশি আহত হন। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, শহরের বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক ভবন ও গুদাম লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এতে একটি শিশু হাসপাতাল ও একটি স্কুলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এদিকে, ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, শুক্রবার তারা রাশিয়ার ভেতরে অনেক দূরে থাকা একটি তেল শোধনাগার ও একটি সামরিক বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে ইউক্রেন হামলা বাড়িয়েছে।
ইউক্রেন রাশিয়ার সবচেয়ে বড় অনলাইন বিক্রেতা ওয়াইল্ডবেরিজের একটি গুদামেও হামলা চালিয়েছে। কিয়েভের দাবি, রাশিয়ার জ্বালানি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো বৈধ সামরিক লক্ষ্য, কারণ এসব স্থাপনা দেশটির যুদ্ধ পরিচালনা ও অর্থায়নে সহায়তা করে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করেন। চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে রাশিয়া বর্তমানে ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে।
নিউজ বাংলা চ্যানেল