ঢাকা | খ্রি.

ফ্রান্সে শিক্ষার্থী বিক্ষোভ ৫০০ স্কুলে পাঠদান বন্ধ, আহত ২৪৮

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 5, 2026 ইং | Photo Card
ফ্রান্সে শিক্ষার্থী বিক্ষোভ ৫০০ স্কুলে পাঠদান বন্ধ, আহত ২৪৮ ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে ফ্রান্সে সোমবার প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০টি উচ্চবিদ্যালয়ে পাঠদান পুরোপুরি বা আংশিকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) ফ্রান্সের শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে জানান, নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিশ্চিত করা সম্ভব না হওয়ায় সোমবার এসব বিদ্যালয়ে পাঠদান স্থগিত থাকবে। তিনি বলেন, আন্দোলন শুরুর পর এখন পর্যন্ত ২৪টি স্কুলে আগুন দেওয়া বা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দেশটির বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। একই সঙ্গে শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যালয়ে অবস্থান এবং জরাজীর্ণ ভবন ও অবকাঠামো নিয়েও তাদের ক্ষোভ রয়েছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্যারিসের একটি স্কুল থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন পরে দেশটির বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে।

আন্দোলন ঘিরে সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে। শিক্ষামন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ১৭০ জনের বেশি শিক্ষার্থী এবং শিক্ষা বিভাগের ৭৮ জন কর্মী আহত হয়েছেন। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, বিক্ষোভ শুরুর পর ৫ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রায় ৮৫ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, তাদের দাবির বিষয়ে সরকার এখন পর্যন্ত যথেষ্ট সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি। এ দাবিতে মঙ্গলবার আবারও বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। ফলে সোমবার বিপুলসংখ্যক স্কুলে পাঠদান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তকে মূলত নিরাপত্তাজনিত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে দেখছে কর্তৃপক্ষ।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নো দীর্ঘদিনের শিক্ষক অনুপস্থিতি ও শূন্য পদ পূরণে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে জরাজীর্ণ স্কুল ভবন সংস্কারের বিষয়েও মঙ্গলবার আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে অভিযোগ করেছেন, কট্টর বামপন্থি কিছু ব্যক্তি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সহিংসতা উসকে দিচ্ছেন। তবে এটি সরকারের পক্ষের অভিযোগ। অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের প্রতি পুলিশের আচরণ নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের দাবি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং পুলিশের ভূমিকা—সব মিলিয়ে ফ্রান্সে শিক্ষা খাতকেন্দ্রিক এই বিক্ষোভ এখন বড় ধরনের রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স
আজ ১২ দলের সঙ্গে ইসির সংলাপ

আজ ১২ দলের সঙ্গে ইসির সংলাপ