ঢাকা | খ্রি.

গাজায় সহায়তা প্রবেশে এখনো বাধা দিচ্ছে ইসরাইল, নতুন হামলাও অব্যাহত

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 2, 2025 ইং | Photo Card
গাজায় সহায়তা প্রবেশে এখনো বাধা দিচ্ছে ইসরাইল, নতুন হামলাও অব্যাহত ছবির ক্যাপশন: ছবি:সংগৃহীত
ad728
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ঘোষিত যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে ইসরাইলের যে মানবিক সহায়তা পাঠানোর কথা ছিল, তার একটি ক্ষুদ্র অংশই এ পর্যন্ত গাজায় প্রবেশ করতে দেয়া হয়েছে। শনিবার এক বিবৃতিতে গাজার সরকারি মিডিয়া বিষয়ক দপ্তর জানায়, ১০ই অক্টোবর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ৩,২০৩টি বাণিজ্যিক ও ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশ করেছে। এতে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১৪৫টি ট্রাক প্রবেশ করেছে। এই সংখ্যা প্রতিদিনের নির্ধারিত ৬০০ ট্রাকের মাত্র ২৪ শতাংশ। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা। 
বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা ইসরাইলি দখলদার বাহিনীর ত্রাণ ও বাণিজ্যিক ট্রাক বাধাগ্রস্ত করার তীব্র নিন্দা জানাই এবং গাজা উপত্যকার ২৪ লাখ মানুষের সামনে যে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় তৈরি হয়েছে, তার সম্পূর্ণ দায় ইসরাইলকেই বহন করতে হবে। তারা আরও আহ্বান জানায়, আমরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও অন্যান্য যুদ্ধবিরতি মধ্যস্থতাকারীদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি- ইসরাইলকে ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি দিতে চাপ দিন, যেন তা কোনো শর্ত বা সীমাবদ্ধতা ছাড়াই গাজায় প্রবেশ করতে পারে।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে সহায়তা কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও, ইসরাইলি অবরোধের কারণে গাজার মানুষ এখনো খাদ্য, পানি, ওষুধ এবং অন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর মারাত্মক ঘাটতিতে ভুগছে।
এছাড়া অসংখ্য পরিবার এখনো গৃহহীন। কারণ ইসরাইলি বিমান হামলায় তাদের বাড়িঘর ও পুরো মহল্লা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র ফারহান হক বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের জানান, জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক দপ্তর জানিয়েছে, ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের নির্দেশে রুট পরিবর্তনের কারণে সহায়তা সংগ্রহ খুবই সীমিত হয়ে পড়েছে। 

তিনি বলেন, আপনারা নিশ্চয়ই মনে রাখবেন, এখন কনভয়গুলোকে মিশরের সীমান্ত বরাবর ফিলাডেলফি করিডর দিয়ে যেতে হয়। এরপর সংকীর্ণ ও ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় সড়ক ধরে উত্তর দিকে উঠতে হয়। এই সড়ক অত্যন্ত সরু, ক্ষতিগ্রস্ত ও ভীষণ যানজটে ভরা। ফারহান হক আরও বলেন, সহায়তা কার্যক্রম সম্প্রসারণে অতিরিক্ত সীমান্ত পারাপার ও অভ্যন্তরীণ রুটের প্রয়োজন। 
এদিকে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও ইসরাইলি সেনাবাহিনী গাজায় হামলা অব্যাহত রেখেছে। শনিবার ইসরাইলি যুদ্ধবিমান, কামান ও ট্যাঙ্ক দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনিস এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে গোলাবর্ষণ করে। এছাড়া উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরের পূর্বদিকে কয়েকটি আবাসিক ভবনও গুঁড়িয়ে দেয়। 

আল জাজিরার সাংবাদিক তারেক আবু আযম জানান, খান ইউনিসের প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, যেখানে কিছু ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি এখনো অবশিষ্ট আছে, সেই এলাকাগুলোতেও নিরবচ্ছিন্ন ভারী গোলাবর্ষণ ও ড্রোন হামলা চলছে। এসব এলাকা কথিত ‘হলুদ রেখা’-এর বাইরে। গাজার সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, ধারাবাহিক বিমান হামলা ও ড্রোনের কারণে তারা হলুদ রেখার কাছাকাছি কিছু এলাকায় পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি হামলায় কমপক্ষে ২২২ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫৯৪ জন আহত হয়েছেন। ইসরাইলি নেতারা সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলছেন, হামাস যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। কারণ তারা এখনো নিহত ইসরাইলি বন্দিদের সব দেহাবশেষ ফেরত দেয়নি। 
অন্যদিকে, হামাস জানিয়েছে গাজার ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের কারণে মৃতদেহ উদ্ধার কার্যক্রম জটিল হয়ে পড়েছে। তাছাড়া ইসরাইল ভারী যন্ত্রপাতি ও বুলডোজার প্রবেশে বাধা দিচ্ছে, যা অনুসন্ধান কার্যক্রমে প্রয়োজন।
খবর- মানবজমিন

নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স
ডিএমপির নিয়মিত অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫৬০

ডিএমপির নিয়মিত অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫৬০