নিজস্ব প্রতিবেদক
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশজুড়ে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, ছিনতাই ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নাম ব্যবহার করে একশ্রেণির নেতাকর্মী ও তাদের অনুসারীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের অভিযোগ উঠছে। ফুটপাত, বিপণিবিতান, কাঁচাবাজার, মাছবাজার, পরিবহন স্ট্যান্ড, অটোরিকশার গ্যারেজ, বাস ও লঞ্চ টার্মিনাল থেকে শুরু করে শিল্পকারখানায়ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়ার পাশাপাশি ক্ষমতাসীন বিএনপির ভাবমূর্তিও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জনগণের আস্থা অর্জন এবং সরকারের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে অপরাধ দমনে দৃশ্যমান পদক্ষেপ জরুরি। বিশেষ করে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে যারা অপরাধে জড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করা না গেলে জনমনে ক্ষোভ আরও বাড়তে পারে। এ পরিস্থিতিতে অপরাধ দমনে যৌথ বাহিনীর অভিযান পরিচালনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, রাষ্ট্র ও জনগণের প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যৌথ বাহিনী মোতায়েন করা হতে পারে। তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনী বর্তমানে যেভাবে কাজ করছে, তাদের তৎপরতা আরও বাড়ানো হচ্ছে। তবে পরিস্থিতির প্রয়োজনে যৌথ বাহিনী নামানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ শুরু করা হয়েছিল। তবে প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জিত হয়নি বলে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা রয়েছে। অন্যদিকে, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’ পরিচালনা করা হয়। ওই অভিযানে বিএনপির স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ের অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। অতীতের এসব অভিযানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে অপরাধ দমনে কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক উদ্যোগ নেওয়ার দাবি উঠেছে।
রাড্ডা হাসপাতালে হামলা, সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর
রাজধানীতে সাম্প্রতিক কয়েকটি হামলা ও দখলচেষ্টার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে মিরপুরে প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো বেসরকারি দাতব্য চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, এক্সকাভেটর দিয়ে কয়েক ঘণ্টা ধরে প্রতিষ্ঠানটির স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। অসচ্ছল মা ও শিশুদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠানটিতে এ হামলার সময় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় প্রভাবশালী একটি গোষ্ঠীর রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় এ হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় বিএনপির একজন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ায় প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, পাকিস্তান আমলেও হাসপাতালে এ ধরনের তাণ্ডবের ঘটনা ঘটেনি। একটি দাতব্য চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায় নাগরিকদের চিকিৎসাসেবা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে সালমান মুক্তাদির বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলেন এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের ব্যর্থতার কথা বলেন।
তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ তাঁর অভিযোগকে ঢালাও অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন। পরবর্তী সময়ে সালমান মুক্তাদির জানান, তাঁর কাছে কেউ সরাসরি চাঁদা দাবি করেনি। ফলে ঘটনাটির প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এদিকে রাজধানীর আদাবরে বাড়ি এবং মোহাম্মদপুরে জমি দখলচেষ্টার অভিযোগও সামনে এসেছে। এসব ঘটনায় কোথাও দীর্ঘদিনের জমি উদ্ধারের দাবি, আবার কোথাও অবৈধ দখলের অভিযোগ করা হচ্ছে। একের পর এক এ ধরনের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের অভিযোগ রাজনৈতিক বিতর্কের অংশ হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে অভিযোগ অস্বীকার করছেন।
ডিএমপির তালিকায় ১ হাজার ৫৩৬ জনের নাম
রাজধানীতে চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের বিস্তার নিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) একটি তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্যও আলোচনায় এসেছে। প্রতিবেদনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জমি দখল, ফুটপাত দখল ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত সন্দেহে মোট ১ হাজার ৫৩৬ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এদের মধ্যে ১ হাজার ২৫২ জনকে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় চাঁদাবাজ এবং ২৭৮ জনকে চাঁদাবাজির নেটওয়ার্কের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পৃষ্ঠপোষক হিসেবে চিহ্নিত ২৭৮ জনের মধ্যে ২৩০ জন বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া মাঠপর্যায়ের সক্রিয় চাঁদাবাজ হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত ৩৫০ জন বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের পদধারী বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে তালিকায় নাম থাকা মানেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ এবং তদন্তের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয়কে অপরাধের দায় এড়ানোর ঢাল হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ করার দাবি উঠেছে।
ডিএমপির প্রতিবেদনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত ও অস্থায়ী বাজারকে চাঁদাবাজির অন্যতম উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, মিরপুর ১০ নম্বর থেকে মিরপুর ২ নম্বর পর্যন্ত ফুটপাত থেকে প্রতি মাসে আনুমানিক ৪২ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। এর মধ্যে মিরপুর ১০-এর হোপস লেন ও আশপাশের কয়েকশ দোকান থেকে মাসে প্রায় ৮ লাখ টাকা আদায়ের তথ্য রয়েছে।
অন্যদিকে, ভাটারা এলাকার নতুন বাজার থেকে মাদানী অ্যাভিনিউ পর্যন্ত ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও ভাসমান দোকানিদের কাছ থেকে মাসে ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায়ের তথ্য প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এসব অর্থের আদায় ও বণ্টনের সঙ্গে কারা জড়িত, তা চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
পুলিশের তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজির নেটওয়ার্কের নিয়ন্ত্রণ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের হাতে ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এসব এলাকায় চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণে নতুন গোষ্ঠীর উত্থানের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এ পরিবর্তনের পূর্ণাঙ্গ চিত্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায় নির্ধারণে আরও তদন্ত প্রয়োজন।
রাজনৈতিক পরিচয়ে অপরাধ, বাড়ছে জনঅসন্তোষ
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের পর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও দখলদারিত্বের অভিযোগ সামনে আসছে। রাজধানীর ফুটপাত থেকে শুরু করে কাঁচাবাজার, পরিবহন স্ট্যান্ড, টার্মিনাল ও শিল্পকারখানায় চাঁদাবাজির অভিযোগে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক পরিচয়ধারী ব্যক্তিদের নাম এসেছে। এসব অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে সরকারের প্রতি জনআস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
তাঁদের মতে, রাজনৈতিক দলের পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটিত হলে তা শুধু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিই ঘটায় না, সংশ্লিষ্ট দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও জনসম্পৃক্ততার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃশ্যমান প্রতিকার রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির বিরুদ্ধে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের বক্তব্য ও প্রচারণাও এ বিতর্ককে আরও বিস্তৃত করেছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত অভিযোগের সত্যতা যাচাই ছাড়া সেগুলোকে প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের অভিযোগের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা বলা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে স্বাধীনভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরও বলেছেন, অপরাধীর কোনো দলীয় পরিচয় বিবেচনার সুযোগ নেই। অপরাধীর একমাত্র পরিচয় সে অপরাধী। সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের কঠোরভাবে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অপরাধ দমনে রাজনৈতিক সদিচ্ছার পরীক্ষা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে সরকারের ঘোষিত অবস্থান বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, তা নির্ভর করবে অপরাধীদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ আইন প্রয়োগের ওপর। ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী কিংবা বিরোধী দলের সমর্থক—যে-ই অপরাধে জড়িত থাকুক, তদন্তের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
অতীতে বিভিন্ন সরকারের সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। ১৯৭৪ সালে চোরাচালান ও অপরাধ দমনে সেনাবাহিনীকে অভিযানে যুক্ত করার ঘটনাও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অংশ। তবে যেকোনো বিশেষ অভিযানের ক্ষেত্রে আইনের শাসন, মানবাধিকার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বর্তমান পরিস্থিতিতে যৌথ বাহিনীর অভিযান পরিচালনার সম্ভাবনা নিয়ে সরকারের বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে কেবল অভিযান পরিচালনাই দীর্ঘমেয়াদে অপরাধ নিয়ন্ত্রণের জন্য যথেষ্ট নয়। চাঁদাবাজির অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া, অপরাধে পৃষ্ঠপোষকতাকারীদের শনাক্ত করা, ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার, অবৈধ দখল ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। এ পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা জরুরি।
চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের অভিযোগের যথাযথ তদন্ত, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করা গেলে জননিরাপত্তা ও প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হবে। এখন সরকারের সামনে বড় প্রশ্ন—অপরাধ দমনে ঘোষিত কঠোর অবস্থান বাস্তবে কতটা প্রতিফলিত হয় এবং রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে থেকে আইন প্রয়োগ কতটা নিশ্চিত করা যায়।
নিউজ বাংলা চ্যানেল