ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ঈসা জাতিসংঘে উইঘুরদের অধিকার নিয়ে কাজ করার সময় নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তাঁর অভিযোগ, এ সময় তিনি চীনের চাপ, নজরদারি এবং তাঁকে নীরব করার নানা প্রচেষ্টার মুখে পড়েছিলেন।
ঈসার দাবি, ২০১৭ সালে তাঁকে জোর করে জাতিসংঘের চত্বর থেকে বের করে দেওয়া হয়। পিল্লাইয়ের দায়িত্ব পালনের সময়, বিশেষ করে ২০১২ ও ২০১৩ সালে, জাতিসংঘে প্রবেশ এবং বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁকে একাধিক বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছিল।
উইঘুর নেতা আরও অভিযোগ করেন, তাঁর ও অন্যান্য মানবাধিকারকর্মীর অংশগ্রহণসংক্রান্ত তথ্য তাঁদের সম্মতি ছাড়াই চীন সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পিল্লাইয়ের নেতৃত্বাধীন দপ্তর এ তথ্য সরবরাহ করেছিল। ঈসার মতে, এমন পদক্ষেপ আস্থার গুরুতর লঙ্ঘন। এ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
কেন মানবাধিকারকর্মীদের তথ্য চীনের কাছে পাঠানো হয়েছিল এবং এ সিদ্ধান্তের অনুমতি কে দিয়েছিলেন—সে প্রশ্নও তুলেছেন ঈসা। যেসব প্রতিষ্ঠানের তাঁদের সুরক্ষা দেওয়ার কথা ছিল, তারা কেন সেই দায়িত্ব পালন করতে পারেনি, তারও ব্যাখ্যা চেয়েছেন তিনি।
পিল্লাইয়ের অন্যান্য কাজের প্রশংসা করলেও ঈসা মনে করেন, তাঁর অর্জনগুলো দায়িত্ব পালনকালে উইঘুর অধিকারকর্মীদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় ব্যর্থতার অভিযোগকে আড়াল করতে পারে না। উইঘুরদের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় পিল্লাইয়ের কাছ থেকে আরও জোরালো ও স্পষ্ট সমর্থন না পাওয়ায় হতাশাও জানিয়েছেন তিনি। ঈসা উইঘুরদের ওপর চালানো নিপীড়নকে গণহত্যা হিসেবে উল্লেখ করেন।
উইঘুরদের অধিকার নিয়ে কাজ করার কারণে নিজের পরিবারকেও মূল্য দিতে হয়েছে বলে জানান ঈসা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে চীনের একটি বন্দিশিবিরে তাঁর মায়ের মৃত্যু হয়। তাঁর দুই ভাই এখনো চীনে বন্দি রয়েছেন। বিষয়টি তাঁর কাছে অত্যন্ত ব্যক্তিগত উল্লেখ করে ঈসা বলেন, চীনের কর্মকাণ্ড তাঁর পরিবারের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলেছে, তা বোঝাতেই তিনি নিজের অভিজ্ঞতার কথা সামনে এনেছেন।
ঈসার বক্তব্য, নোবেল শান্তি পুরস্কার অর্জন করলেও কেউ প্রশ্ন ও জবাবদিহির ঊর্ধ্বে নন। তিনি সবার জন্য সমানভাবে মানবাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মানবাধিকার রক্ষার অঙ্গীকারের মধ্যে উইঘুর জনগণকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
নিউজ বাংলা চ্যানেল