নিউজ বাংলা ডেস্ক: ঢালিউড ও ছোট পর্দার জনপ্রিয় তারকাদের আজকের অবস্থান দেখে অনেকেরই মনে হতে পারে, ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই হয়তো তারা বড় অঙ্কের পারিশ্রমিক পেতেন। কিন্তু বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। তারকাখ্যাতির শীর্ষে ওঠার আগে অনেককেই শুরু করতে হয়েছে সামান্য পারিশ্রমিক দিয়ে। কেউ পেয়েছেন কয়েক হাজার টাকা, আবার কেউ প্রথম কাজের বিনিময়ে পেয়েছেন মাত্র ১০ টাকা।
ক্যারিয়ারের শুরুতে দেশের আলোচিত কয়েকজন তারকা কত টাকা পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন, তা নিয়ে এই প্রতিবেদন।
পূর্ণিমা — ১ লাখ টাকা
ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পূর্ণিমার বড় পর্দায় অভিষেক হয় ১৯৯৭ সালে। জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘এ জীবন তোমার আমার’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে পা রাখেন তিনি। ছবিতে তার সহশিল্পী ছিলেন রিয়াজ।
অভিষেক সিনেমাতেই পূর্ণিমা পারিশ্রমিক হিসেবে পেয়েছিলেন এক লাখ টাকা। প্রথম উপার্জনের সেই অর্থ নিজের কাছে না রেখে মায়ের হাতে তুলে দিয়েছিলেন তিনি। ক্যারিয়ারের শুরুতেই এই পারিশ্রমিক তার জন্য ছিল বড় প্রাপ্তি।
মেহজাবীন চৌধুরী — ১৫ হাজার টাকা
ছোট পর্দার অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরীর অভিনয়জীবনের শুরুটাও ছিল সংগ্রামের। চট্টগ্রাম থেকে মাকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় এসে প্রথম নাটকের শুটিং করেন তিনি।
তার প্রথম নাটকের নাম ‘তুমি থাকো সিন্ধু পাড়ে’। এই নাটকে অভিনয়ের বিনিময়ে মেহজাবীন পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন ১৫ হাজার টাকা। পরবর্তী সময়ে অভিনয়গুণে তিনি দেশের টেলিভিশন নাটকের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ হয়ে ওঠেন।
কেয়া পায়েল — ১০ হাজার টাকা
অভিনয়ে আসার পরিকল্পনা শুরুতে ছিল না কেয়া পায়েলের। শখের বশে একটি বিজ্ঞাপনচিত্রের শুটিংয়ে অংশ নিতে গিয়ে বিনোদন অঙ্গনের কয়েকজনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এরপর অভিনয়ের প্রস্তাব পেতে শুরু করেন তিনি।
২০১৮ সালে নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে অভিনয়জগতে তার যাত্রা শুরু হয়। প্রথম নাটকেই প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান কেয়া পায়েল। ‘একটাই আমার তুমি’ নামের সেই নাটকের জন্য তিনি পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন ১০ হাজার টাকা।
রোজিনা — ১০ টাকা
দেশের চলচ্চিত্রের বরেণ্য অভিনেত্রী রোজিনার অভিনয়জীবনের শুরুটা ছিল একেবারেই আকস্মিক। একদিন ঘুরতে বের হয়ে সংসদ ভবন এলাকায় একটি সিনেমার শুটিং দেখতে পান তিনি। সেখানে পরিচালক তাকে ছোট একটি চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব দেন।
পরিচিতজনদের উৎসাহে শেষ পর্যন্ত অভিনয়ে রাজি হন রোজিনা। মেকআপ ও পোশাক পরিয়ে তাকে শুটিংয়ে অংশ নেওয়ানো হয়। সেই অভিনয়ের জন্য প্রথম পারিশ্রমিক হিসেবে তিনি পেয়েছিলেন মাত্র ১০ টাকা। তবে সে সময়ের হিসাবে সেই অর্থও তার কাছে ছিল অনেক মূল্যবান।
কবরী — ১ হাজার ১১১ টাকা
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরী, যিনি ‘মিষ্টি মেয়ে’ নামে দর্শকের কাছে পরিচিত ছিলেন, ক্যারিয়ারের শুরুতে পেয়েছিলেন মাত্র ১ হাজার ১১১ টাকা।
চট্টগ্রামে থাকাকালীন বাবা ও বোনের সঙ্গে ঢাকায় এসে অডিশনে অংশ নেন তিনি। ১৯৬৪ সালে সুভাষ দত্ত পরিচালিত ‘সুতরাং’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় তার অভিষেক হয়। কালজয়ী এই চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য কবরী পারিশ্রমিক হিসেবে পেয়েছিলেন ১ হাজার ১১১ টাকা।
আজকের দিনে তাদের পারিশ্রমিকের অঙ্ক শুনলে তা খুবই সামান্য মনে হতে পারে। কিন্তু সেই সামান্য অর্থই ছিল তাদের দীর্ঘ ও সফল ক্যারিয়ারের শুরুর স্মৃতি। সময়ের সঙ্গে অভিনয়দক্ষতা, জনপ্রিয়তা ও তারকাখ্যাতি বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে তাদের পারিশ্রমিকও। তবে ক্যারিয়ারের প্রথম উপার্জনের স্মৃতি তাদের জীবনে সবসময়ই বিশেষ হয়ে থাকবে।
নিউজ বাংলা চ্যানেল