এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বি ব্লকের একটি বাসার তৃতীয় তলা থেকে দীপকে হেফাজতে নেয় পিবিআই। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা সেলিম রেজার ছেলে। নিখোঁজ হওয়ার আগে তাহসিফের সঙ্গে প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় কাটিয়েছিলেন দীপ।
শুক্রবার পিবিআইয়ের তদন্ত দল দীপকে নিয়ে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় যায়। তুরাগ নদসংলগ্ন ২৯ নম্বর সীমানা পিলারের পাশের মাঠে কী ঘটেছিল, তা জানার চেষ্টা করেন তদন্তকারীরা।
পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে দীপ জানান, ঘটনার রাতে তিনি ও তাহসিফ মাজার বস্তি এলাকায় তুরাগ নদের পাশে গিয়েছিলেন। সেখানে কথা বলার সময় কয়েকজন তাদের ধাওয়া করেন বলে দাবি করেন তিনি। দীপের ভাষ্য, ধাওয়াকারীদের মধ্যে দুজনের পরনে পুলিশের পোশাক ছিল। তাদের দেখে তাহসিফ দৌড় দেন এবং একপর্যায়ে নদীতে ঝাঁপ দেন। অন্যদিকে দীপ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ২৯ নম্বর সীমানা পিলারের আড়ালে আশ্রয় নেন। পরে সেখান থেকে চলে যান তিনি।
তবে দীপের দেওয়া সব তথ্য এখনই বিশ্বাস করছে না পিবিআই। তার বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির অতিরিক্ত ডিআইজি এনায়েত হোসেন মান্নান।
তিনি বলেন, ‘দীপ নানা তথ্য দিয়েছে। সেই তথ্যগুলো সব আমরা বিশ্বাসও করছি না। প্রতিটি তথ্য ও বিষয় আমরা যাচাই করে দেখছি।’
তাদের কেউ ধাওয়া করেছিল কি না, জানতে চাইলে এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, ‘দীপের ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশের মতো পোশাক পরা দুজনকে দেখে তারা দৌড়ে পালান। তবে ওই দুজন কারা, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’
পিবিআইয়ের এই কর্মকর্তা জানান, ঘটনাস্থলটি একটি খোলা মাঠ, যার তিন দিকেই নদী। দীপের দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে ঘটনাস্থলের বাস্তব পরিস্থিতি এবং প্রযুক্তিগত তথ্য মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তের স্বার্থে সব তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না জানিয়ে এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, ‘দীপ অনেক তথ্য দিয়েছেন। তবে সেসব তথ্য এখনই প্রকাশ করা সম্ভব নয়। কারণ, তথ্যগুলো যাচাই না করে প্রকাশ করলে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। তাই নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তদন্তের স্বার্থে সব তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না।’
নিউজ বাংলা চ্যানেল