ঢাকা | খ্রি.

কঙ্গোতে ইবোলা মোকাবিলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলা, নিহত নার্স; বিধিনিষেধ জোরদার উগান্ডার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 27, 2026 ইং | Photo Card
কঙ্গোতে ইবোলা মোকাবিলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলা, নিহত নার্স; বিধিনিষেধ জোরদার উগান্ডার ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728
নিউজ বাংলা ডেস্ক : গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে ইবোলা প্রতিরোধে কাজ করার সময় দুই স্বাস্থ্যকর্মীর ওপর হামলা চালিয়েছেন স্থানীয় কয়েকজন তরুণ। এ ঘটনায় একজন নার্স নিহত হয়েছেন এবং অপর স্বাস্থ্যকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। স্বাস্থ্যকর্মীরা পানির উৎস দূষিত করছেন এবং ইবোলা ছড়াচ্ছেন—এমন অভিযোগ থেকে হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

জাতিসংঘের সহায়তায় পরিচালিত রেডিও ওকাপিও এ তথ্য জানিয়েছে। হামলার নিন্দা জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটির মহাপরিচালক তেদরোস আধানম গেব্রেয়াসুস বলেছেন, স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে এবং তাঁদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। নিহত নার্সের পরিবার ও সহকর্মীদের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি আহত স্বাস্থ্যকর্মীর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছে সংস্থাটি।

ইবোলার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে প্রতিবেশী উগান্ডা গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে চলাচলে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া দুই দেশের মধ্যে যাতায়াত বন্ধ রাখা হয়েছে। কঙ্গো থেকে উগান্ডায় ফিরে আসা নাগরিকদের ২১ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে এবং এর ব্যয় তাঁদের নিজেদেরই বহন করতে হবে।

কঙ্গোতে ইবোলা মোকাবিলায় নিয়োজিত কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। গত মাসে ইবোলা প্রতিরোধে বিভিন্ন উদ্যোগের পক্ষে প্রচার চালানোর পর এক রাজনীতিককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এর আগে গত আগস্টে রেড ক্রস জানিয়েছিল, ইবোলার প্রাদুর্ভাব ঘোষণার পর প্রথম ১০০ দিনে তাদের স্বেচ্ছাসেবকেরা ১১টি সহিংস ঘটনার মুখোমুখি হন। এসব ঘটনায় কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবক আহত হন এবং একটি অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দেওয়া হয়।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইবোলা নিয়ে ছড়িয়ে পড়া গুজবের কারণে স্বাস্থ্যকর্মীরা হামলার শিকার হচ্ছেন। কেউ কেউ এমন দাবিও করছেন যে ইবোলা বলে কোনো রোগ নেই।

চলতি মাসের শুরুতে কেনিয়া ও নাইজেরিয়ায় বর্তমান প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে সম্পর্কিত ইবোলা সংক্রমণ প্রথমবারের মতো শনাক্ত হয়। সোমবার নাইজেরিয়ায় আক্রান্ত এক নারীকে রাজধানী আবুজা থেকে সুইজারল্যান্ডে নেওয়া হয়েছে। সেখানে তাঁর আরও চিকিৎসা দেওয়া হবে।

আফ্রিকা রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের প্রধান জ্যঁ কাসেয়া জানান, ওই নারীর জন্ম উগান্ডায়। তিনি সুইজারল্যান্ডের একজন কূটনীতিকের স্ত্রী। ছুটি কাটাতে তিনি উগান্ডার রাজধানীতে গিয়েছিলেন। তাঁর শরীরে ইবোলার কোনো উপসর্গ না থাকলেও স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে তাঁকে সুইজারল্যান্ডে নেওয়া হয়েছে। নাইজেরিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওই নারীর অবস্থা স্থিতিশীল। তিনি সচেতন আছেন এবং কথা বলতে পারছেন। তিনি কোথায় ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, তা খতিয়ে দেখছে কর্তৃপক্ষ।

কেনিয়া ও নাইজেরিয়ায় সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর উগান্ডা নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর করে। আক্রান্ত ওই নারী এবং কেনিয়ার এক ব্যবসায়ী উগান্ডার মধ্য দিয়ে ভ্রমণ করেছিলেন। পরে তাঁদের শরীরে ইবোলা শনাক্ত হয়। কেনিয়ার ওই ব্যবসায়ী গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র থেকে এসেছিলেন, যেখানে তাঁর ব্যবসা ছিল।

উগান্ডার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কঙ্গো থেকে জরুরি প্রয়োজনে আসা ব্যক্তিদেরই দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। এ তালিকায় ত্রাণকর্মী, ট্রাকচালক ও নিরাপত্তাকর্মীরা রয়েছেন। তবে সীমান্ত পার হওয়ার আগে তাঁদের কঠোর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে।

এ ছাড়া যেকোনো দেশ থেকে উগান্ডায় প্রবেশকারী সব যাত্রীকে নিজেদের অবস্থান ও যোগাযোগের তথ্য দিয়ে একটি ফরম পূরণ করতে হবে। সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা অন্যদের শনাক্ত করার কাজে এসব তথ্য ব্যবহার করা হবে। কঙ্গো থেকে উগান্ডায় ফিরে আসা নাগরিকদের ২১ দিনের কোয়ারেন্টিনের খরচও নিজেদের বহন করতে হবে।

উগান্ডার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, কেনিয়ার আক্রান্ত ব্যবসায়ীর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ৬০ জনকে পর্যবেক্ষণ শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, কেনিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সোমবার জানায়, দেশটিতে প্রথম আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা ২০ জন ২১ দিনের কোয়ারেন্টিন শেষ করে বাড়ি ফিরেছেন। তবে আরও ৯৮ জনকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। দেশটিতে ইবোলা শনাক্ত হওয়া সাতজনের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

কেনিয়ার ওই ব্যবসায়ী নাইরোবিতে পৌঁছানোর দুই দিন পর মারা যান। তাঁর সঙ্গে সম্পর্কিত আরেক নারীও মারা গেছেন। কেনিয়ায় ইবোলায় আক্রান্তের সংখ্যা নয়জনে পৌঁছানোর পর রোগটির বিস্তার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পাশাপাশি তিনটি দেশ ভ্রমণের পরও একজন আক্রান্ত ব্যক্তি কীভাবে শনাক্ত না হয়ে চলাচল করতে পেরেছেন, তা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

উগান্ডার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ক্রিস বারিওমুন্সি বিবিসির ‘নিউজডে’ অনুষ্ঠানে বলেছেন, দেশকে ইবোলামুক্ত রাখতে নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চলতি মাসে কেনিয়া ও নাইজেরিয়ায় সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর উগান্ডা বারবার জানিয়েছে, দেশটিতে নতুন করে কোনো সংক্রমণ পাওয়া যায়নি। তবে কঙ্গোতে ইবোলার প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর উগান্ডায় ২০ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন, যাঁদের মধ্যে দুজন মারা যান। পরে গত আগস্টে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা উগান্ডাকে ইবোলামুক্ত ঘোষণা করে।

সাম্প্রতিক ঘটনায় আক্রান্ত দুই ব্যক্তি একই দিনে উগান্ডার এনটেবে বিমানবন্দর দিয়ে যাতায়াত করেছিলেন। তবে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব ডায়ানা আতওয়াইন জানান, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে তাঁদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এর আগে উগান্ডার কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, নাইজেরিয়ায় আক্রান্ত ওই নারী উগান্ডার মধ্য দিয়ে শুধু যাতায়াত করেছিলেন। তাঁর গন্তব্য ছিল গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের পূর্বাঞ্চল। তবে রবিবার উগান্ডার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ওই নারীর চলাচল, সম্পূর্ণ ভ্রমণপথ এবং কোথায় তিনি ভাইরাসের সংস্পর্শে এসেছেন, তা নির্ধারণে উগান্ডা ও নাইজেরিয়া যৌথভাবে কাজ করছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বারিওমুন্সি বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো প্রমাণ করেছে যে ইবোলার ঝুঁকি এখনো কাটেনি। তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তাঁর ভাষ্য, কঙ্গোর সঙ্গে উগান্ডার সীমান্ত রয়েছে এবং প্রতিবেশী দেশটিতে এখনো ইবোলার সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, যাতায়াত ও পারিবারিক সম্পর্ক থাকায় মানুষের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে, যা সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি করছে।

আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরলের সংস্পর্শে এলে ইবোলা ভাইরাস একজনের শরীর থেকে অন্যজনের শরীরে ছড়াতে পারে। রক্ত ও বমির মতো শারীরিক তরলের মাধ্যমে এই ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে।

বর্তমান প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ইবোলা ভাইরাসের ধরনটি হলো বান্দিবুগিও। এটি তুলনামূলকভাবে বিরল একটি ধরন। এর বিরুদ্ধে এখনো কোনো টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। তবে এ বিষয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স