খাদ্য মন্ত্রণালয় ও খাদ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সরকারি মজুদের মধ্যে চাল রয়েছে ২০ লাখ ৩৬ হাজার ১০২ মেট্রিক টন, গম দুই লাখ ৩২ হাজার ১৮৩ টন এবং ধান ৩৪ হাজার ৭০ টন। ফ্লোটিং মজুদসহ মোট খাদ্যশস্যের পরিমাণ ২৩ লাখ ৫৯ হাজার ১৫৪ টন। এর মধ্যে ফ্লোটিং মজুদে থাকা গমের পরিমাণ ৬৮ হাজার ৭২৩ টন।
বাসসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের ৪ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছর পূর্তির সময় সরকারি মজুদে চাল ও গম মিলিয়ে খাদ্যশস্য ছিল ২১ লাখ ৩১ হাজার টন। তখন চালের পরিমাণ ছিল ১৯ লাখ ৫৪ হাজার টন এবং গম ছিল এক লাখ ৭৭ হাজার টন। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে মজুদ বেড়েছে দুই লাখ ২৮ হাজার ১৫৪ টন।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তুলনামূলক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুদ ছিল ১৬ লাখ ৮৪ হাজার ৩৩০ টন। সেই সময়ের তুলনায় বর্তমানে মজুদ বেড়েছে প্রায় ছয় লাখ ৭৫ হাজার টন।
এদিকে খাদ্যশস্য সংরক্ষণের সরকারি সক্ষমতাও সম্প্রসারিত হয়েছে। আগে সরকারি গুদামগুলোর ধারণক্ষমতা ছিল প্রায় ২৪ লাখ টন। বর্তমানে সেই সক্ষমতা বাড়িয়ে ২৭ লাখ টনে উন্নীত করা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে তা ৩৪ লাখ টনে নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নিরাপদ খাদ্য মজুদের পরিমাণ বাড়ানোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ১৩ লাখ ৫০ হাজার টনকে নিরাপদ মজুদের মানদণ্ড হিসেবে ধরা হলেও জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বিস্তৃতি বিবেচনায় তা ১৬ লাখ টনে উন্নীত করা হচ্ছে।
চলতি বোরো সংগ্রহেও অগ্রগতি হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বোরো সংগ্রহে গত ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ধান ও চাল মিলিয়ে ১৬ লাখ ৮৩ হাজার ১৯৫ টন খাদ্যশস্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ধান পাঁচ লাখ ৭৮ হাজার ১৪০ টন, সিদ্ধ চাল ১২ লাখ এক হাজার ৫৬৮ টন এবং আতপ চাল এক লাখ পাঁচ হাজার ৩১৩ টন। এ ছাড়া ৫২৩ টন গম সংগ্রহ করা হয়েছে।
মজুদ শক্তিশালী রাখতে খাদ্যশস্য আমদানিও চলছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে মোট আট লাখ ২৭ হাজার ৭০০ টন খাদ্যশস্য আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি পর্যায়ে এসেছে ৬৫ হাজার ৮৬০ টন এবং বেসরকারি পর্যায়ে সাত লাখ ৬১ হাজার ৮৪০ টন।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সংগ্রহ শাখার যুগ্মসচিব মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, চলতি মৌসুমের অভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য সংগ্রহ অভিযান সফল ও সন্তোষজনকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। সরকারি খাদ্যগুদামে বর্তমানে চাল ও গমের পর্যাপ্ত ও নিরাপদ মজুদ রয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা এবং জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই মজুদ সহায়ক হবে।
খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ ইউনিটের (এফপিএমইউ) মহাপরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান জানান, জাতীয় চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খাদ্যশস্যের মজুদ ও সংরক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ চলছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় আমন উৎপাদন ও সংগ্রহের লক্ষ্য অর্জনেও সরকার আশাবাদী।
খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জামাল হোসেন বলেন, দেশের বর্তমান খাদ্যনিরাপত্তা পরিস্থিতি সন্তোষজনক। সরকারি গুদামে পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য রাখার পাশাপাশি সংরক্ষণব্যবস্থা ও খাদ্যের গুণগত মান বজায় রাখায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ওএমএস ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির মতো সরকারি খাদ্য বিতরণ কার্যক্রম সচল রাখতে গুদাম থেকে সরবরাহও অব্যাহত রয়েছে।
নিউজ বাংলা চ্যানেল