হুতি বাহিনীর সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, তাঁদের বাহিনী সৌদি রাজধানীর কিং খালিদ বিমানবন্দর, জ্বালানি অবকাঠামো, তেল শোধনাগার এবং কয়েকটি বিমান চলাচল ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার প্রেক্ষাপটেই সৌদি আরবে থাকা মার্কিন কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত এসেছে।
ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটও দাবি করেছে, হুতিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করে ধ্বংস করা হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রটি রিয়াদকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জোটের মুখপাত্র কর্নেল তুর্কি বিন সালেহ আল-মালিকি বলেন, ‘সন্ত্রাসী হুতি বাহিনীর রিয়াদ লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করে ধ্বংস করা হয়েছে।’
সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এক নিরাপত্তা সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, সীমান্ত অতিক্রম করে ছড়িয়ে পড়া সংঘাত পুরো অঞ্চলে আরও বড় ধরনের অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে। দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ থেকে কার্যকরভাবে নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে জরুরি দায়িত্বে নেই এমন মার্কিন সরকারি কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সৌদি আরব ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর।
দূতাবাস আরও জানিয়েছে, ইরানের সমর্থনপুষ্ট হুতিরা সৌদি আরবে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার মধ্যে বেসামরিক বিমানবন্দর ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও রয়েছে। এতে বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়েছেন এবং যাতায়াতব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় উচ্চপর্যায়ের সুস্পষ্ট অনুমতি ছাড়া মার্কিন কূটনৈতিক কর্মীদের দেশের ভেতরে বিমানপথে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছে দূতাবাস। নিরাপত্তা সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, চলমান সংঘাত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সরাসরি সংঘর্ষের এলাকার বাইরেও পৌঁছাতে পারে।
সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর দেশটিতে কর্মরত মার্কিন সরকারি কর্মীদের যেকোনো বিমানবন্দর ব্যবহারের আগে মিশনপ্রধানের বিশেষ অনুমতি নিতে হবে বলেও সতর্ক করেছে মার্কিন মিশন।
বিমানবন্দরগুলোর কার্যক্রম সম্পর্কে দূতাবাস জানিয়েছে, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ২৫ অক্টোবর থেকে আংশিকভাবে চালুর ঘোষণা দিয়েছে। সেখান থেকে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের পাশাপাশি সৌদি জাতীয় বিমান সংস্থাগুলোর পরিচালিত কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলবে। সাধারণত কিং খালিদ বিমানবন্দর থেকে পরিচালিত সীমিতসংখ্যক ফ্লাইট বর্তমানে কাসিমের প্রিন্স নায়েফ বিন আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পরিচালিত হচ্ছে।
এদিকে, জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম চালু রয়েছে। তবে এসব বিমানবন্দর থেকে কিছু ফ্লাইট দেরিতে ছাড়তে পারে, আবার কিছু ফ্লাইট বাতিলও হতে পারে বলে জানিয়েছে দূতাবাস।
সৌদি আরবে অবস্থানরত কিংবা দেশটির মধ্য দিয়ে যাতায়াতকারী মার্কিন নাগরিকদেরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দূতাবাস বলেছে, বিমানবন্দরে সম্ভাব্য হামলা, আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়া, ফ্লাইট বাতিল এবং যাতায়াতে বিঘ্নের আশঙ্কা মাথায় রাখতে হবে। সৌদি আরবের কোনো বিমানবন্দর ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিলে অত্যন্ত সতর্ক থাকার পাশাপাশি ফ্লাইট ছাড়ার সময় ও সর্বশেষ অবস্থা সরাসরি সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থা এবং বিমানবন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ করে যাচাই করতে বলা হয়েছে।
নিউজ বাংলা চ্যানেল