ঢাকা | খ্রি.

নভেম্বরে ইউনিয়ন পরিষদ ভোট দিয়ে শুরু হতে পারে স্থানীয় সরকার নির্বাচন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 27, 2026 ইং | Photo Card
নভেম্বরে ইউনিয়ন পরিষদ ভোট দিয়ে শুরু হতে পারে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728
নিউজ বাংলা ডেস্ক : ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের মাধ্যমে আগামী নভেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর আগে অক্টোবর থেকে ভোট শুরুর পরিকল্পনা থাকলেও তা পিছিয়ে নভেম্বরে নেওয়ার কথা ভাবছে কমিশন। তবে এখনো ভোটের নির্দিষ্ট দিন-তারিখ চূড়ান্ত হয়নি।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগের মতো এবারও কয়েক ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করা হবে। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়কে ভোট আয়োজনের জন্য তুলনামূলক সুবিধাজনক মনে করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, দুর্গাপূজা, রমজান, পাবলিক পরীক্ষা ও বার্ষিক পরীক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করা হবে। আগে অক্টোবরকে সামনে রেখে পরিকল্পনা করা হলেও বর্তমানে নভেম্বরে ভোট নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ভোটের ৪৫ দিন আগে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।

ইউপি নির্বাচন দিয়ে ভোট শুরু হতে পারে জানিয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন, একই সময়ে পৌরসভা নির্বাচনও আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

ইসি সূত্র জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণবিধি আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছিল। সেটি ইতোমধ্যে ফেরত এসেছে। তবে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা ও আইন সংস্কারের বিষয়ে কমিশনের সুপারিশ এখনো পাঠানো হয়নি। ফলে বিদ্যমান আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করেই নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে ইসি।

এর আগে ৯ জুলাই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কাছে নির্বাচন উপযোগী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য চেয়েছিল কমিশন। গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত ইউপি ও পৌরসভার তালিকা ইসিতে পৌঁছেছে।

চলতি অর্থবছরের মধ্যেই ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন—এই পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। গতকাল ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য বাজেটে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নিয়ে আগামী সপ্তাহে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করা হবে। তবে নির্বাচনের তফসিল এবং ভোটের তারিখ নির্ধারণের দায়িত্ব ইসির।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিও পর্যালোচনা করছে কমিশন। এর অংশ হিসেবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন আইজিপি, বিজিবির মহাপরিচালক এবং আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

সিইসি জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সহিংসতার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি থাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে প্রস্তুত থাকতে হবে। ভোটের সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে আবহাওয়া, বন্যা, পূজা ও পাবলিক পরীক্ষার পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার এবং শিক্ষকদের ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

ইসি কর্মকর্তাদের ভাষ্য, আইন ও বিধিমালার বিষয় বাদ দিলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রায় সব প্রস্তুতিই শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্রের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। ভোটের ২৫ দিন আগে চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্রের গেজেট প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। আর ভোটার তালিকা ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত হওয়ার কথা।

ইসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ১৩টি সিটি করপোরেশন, ৪ হাজার ৫৭৩টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৩২৬টি পৌরসভা, ৫০০টি উপজেলা এবং তিন পার্বত্য জেলা বাদে ৬১টি জেলা পরিষদ রয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স