ঢাকা | খ্রি.

ঝিকরগাছায় পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী সাদিয়ার রহস্যজনক মৃত্যু

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 26, 2026 ইং | Photo Card
ঝিকরগাছায় পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী সাদিয়ার রহস্যজনক মৃত্যু ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক

যশোরের ঝিকরগাছার দেউলী গ্রামে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী সাদিয়া আক্তার (১৩)-এর রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে নানা প্রশ্ন ও জল্পনা-কল্পনার সৃষ্টি হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, সাদিয়াকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন এক যুবককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার পর ছেড়ে দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিহত সাদিয়া আক্তার যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার হাজিরবাগ ইউনিয়নের দেউলী গ্রামের দরিদ্র ভ্যানচালক শহিদুল ইসলামের মেয়ে। সে দেউলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকেলে সাদিয়াকে বাড়ির একটি কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায় প্রতিবেশী রাজুর মেয়ে মিম (১০)। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে সাদিয়াকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে বাগআঁচড়া বাজারের একটি ক্লিনিকে নেওয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়।

নিহতের বাবা শহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনার সময় তিনি চাচা হযরতের নার্সারি থেকে গাছের চারা নিয়ে মহেশপাড়া বাজারে গিয়েছিলেন। আর তার স্ত্রী সালমা খাতুন মাঠে ঘাস কাটতে গিয়েছিলেন। ফলে ঘটনার সময় বাড়িতে সাদিয়া একাই ছিল বলে পরিবারের দাবি।

নিহতের মা সালমা খাতুনের অভিযোগ, প্রতিবেশী হুমায়ুন কবির ওরফে ভোলা (৩০) তার মেয়েকে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করতেন। বিষয়টি সাদিয়া পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিল। ঘটনার কয়েক দিন আগেও হুমায়ুনকে সাদিয়ার হাতে কিছু একটা দিতে দেখেছিলেন তিনি। এরপর মেয়েকে সতর্কও করেছিলেন বলে জানান সালমা।

সালমার দাবি, তার মেয়েকে পাশবিক নির্যাতনের পর গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তের কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন তিনি।

পরিবারের সদস্য ও কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগ, হুমায়ুন কবির নিয়মিত মাদক সেবন করতেন এবং বিভিন্ন ধরনের নেশায় আসক্ত ছিলেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে সাদিয়ার মৃত্যুর খবর পেয়ে ঝিকরগাছা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় ঝিকরগাছা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার রাতে স্থানীয় জনতা হুমায়ুন কবিরকে আটক করে থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়। পরদিন তাকে পাঁচ ব্যক্তির লিখিত জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

অভিযুক্তকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে ঝিকরগাছা থানার ওসি (তদন্ত) ইদ্রিস আলী বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে লিখিত জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ‘পজিটিভ’ হলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে বলেও তিনি জানান।

পুলিশের দাবি, নিহতের পরিবার প্রথম দিকে কোনো মামলা করা বা ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ ফেরত চেয়েছিল। স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তিসহ অভিযুক্তের পক্ষের কয়েকজন থানায় এসে লাশ ফেরত চেয়েছিলেন। তবে আইনগত জটিলতার বিষয়টি বিবেচনা করে পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। পুলিশের দাবি, সে সময় পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করতে রাজি হওয়া হয়নি।

তবে নিহতের পরিবারের দাবি, থানায় একটি অভিযোগ দেওয়ার পাশাপাশি আদালতেও পিটিশন মামলা করা হয়েছে। পরে আদালতের ওই মামলা থানায় নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড হয়েছে বলে তারা শুনেছেন। তবে কে বা কারা আদালতে পিটিশন করেছেন, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত নন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে থানার ওসি (তদন্ত) বিষয়টি স্পষ্ট করেননি।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশ্ন তুলেছেন, সাদিয়ার মৃত্যুর ঘটনাটি যদি নিছক আত্মহত্যা না হয়ে থাকে এবং পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থেকে থাকে, তাহলে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার আগেই তাকে কেন ছেড়ে দেওয়া হলো। একই সঙ্গে ঘটনাটি নিয়ে পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত, সন্দেহভাজনকে হেফাজতে নেওয়া ও পরে জিম্মায় ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

নিহতের দাদা শওকত গাজী, দাদি রফিকা বেগম, চাচা মাসুম বিল্লাহ, ফুপু কাজল বেগম এবং প্রতিবেশী মোস্তাফিজুর রহমান, নাজমুন নাহার বেগম, আব্দুর রহিম ও মুসা রাজসহ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা সাদিয়ার মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।

তাদের ভাষ্য, হুমায়ুনের সঙ্গে সাদিয়ার পরিবারের বিরোধ ও তাকে উত্ত্যক্ত করার বিষয়টি স্থানীয় অনেকেই জানতেন। তাই মৃত্যুর ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে, তা ময়নাতদন্ত ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এদিকে থানায় পুলিশি হেফাজতে থাকা অবস্থায় সন্দেহভাজন হুমায়ুন কবিরের বক্তব্যের ভিডিও ধারণের বিষয়ে সাংবাদিকরা অনুমতি চাইলে ডিউটি অফিসার এসআই ফিরোজ জানান, অফিসার ইনচার্জ ছুটিতে রয়েছেন এবং ওসি (তদন্ত) থানায় নেই। তাদের অনুমতি ছাড়া ভিডিও ফুটেজ দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে নাভারন সার্কেল এএসপি আরিফের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন। তবে সাংবাদিকদের তথ্য দেওয়া যাবে না বলে জানান তিনি।

সাদিয়ার পরিবার এখন ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দিকে তাকিয়ে আছে। পরিবারের দাবি, ময়নাতদন্ত ও তদন্তে হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বাংলাদেশ না খেললে ২০ কোটি দর্শক হারাবে আইসিসি: বুলবুল

বাংলাদেশ না খেললে ২০ কোটি দর্শক হারাবে আইসিসি: বুলবুল