ঢাকা | খ্রি.

বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক কৌশলগত অংশীদারত্বে উন্নীত

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 27, 2026 ইং | Photo Card
বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক কৌশলগত অংশীদারত্বে উন্নীত ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাণিজ্য, জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি), অবকাঠামো উন্নয়ন, গভীর সমুদ্রবন্দর এবং বৈদেশিক বিনিয়োগসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদার করতে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার সম্পর্ককে ‘কৌশলগত অংশীদারত্বে’ উন্নীত করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাপানের রাজধানী টোকিওতে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই নেতার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তাঁরা।

জাপানের স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান সানায়ে তাকাইচি। এ সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পরে স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে আনুষ্ঠানিক বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের জনগণের হৃদয়ে জাপান একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস এবং শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির ওপর দুই দেশের বন্ধুত্ব প্রতিষ্ঠিত।

তিনি বলেন, শান্তিপ্রিয় জাতি হিসেবে জাপান ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর দেশটিকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দিকের দেশগুলোর অন্যতম। দীর্ঘদিনের এই বন্ধুত্বকে আরও সুদৃঢ় করে দুই দেশের জনগণের জন্য অর্থনৈতিক সম্ভাবনা সম্প্রসারণে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠকে দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এ সময় জ্বালানি, আইসিটি, বাণিজ্য, অবকাঠামো, গভীর সমুদ্রবন্দর এবং বৈদেশিক বিনিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার বিষয়ে দুই দেশ দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।

তারেক রহমান বলেন, এ সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর করতে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ক্ষেত্রে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে আলোচনার ফলাফল ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতার অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরা হয়েছে।

বাংলাদেশের সরকারপ্রধান বলেন, বাংলাদেশ ও জাপানের অংশীদারত্ব কয়েক দশকের বন্ধুত্বের ওপর প্রতিষ্ঠিত। বর্তমান সময়ে এই সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের নতুন ক্ষেত্র উন্মোচন করতে চায় বাংলাদেশ।

জাপানি বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিনিয়োগের সুযোগগুলো অনুসন্ধান করতে জাপানের বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আন্তরিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পারস্পরিক লাভজনক ব্যবসায়িক সুযোগ সম্প্রসারণে জাপানি অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তারেক রহমান বলেন, দুই দেশের সম্মিলিত উদ্যোগে আরও স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব। বাংলাদেশ ও জাপানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে অর্থনৈতিক সুযোগ ও অংশীদারত্বের শক্তিশালী চালিকাশক্তিতে পরিণত করাই তাঁদের লক্ষ্য। এমন একটি অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে হবে, যা বর্তমান প্রজন্মের কল্যাণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও স্থায়ী সুফল বয়ে আনবে।

অন্যদিকে, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেন, গত পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ে বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্ক ক্রমেই সুদৃঢ় হয়েছে। বাংলাদেশের বিশ্বস্ত ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে জাপান দেশটির আর্থসামাজিক অগ্রগতি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে।

তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের এই বন্ধুত্বকে জাপান গভীরভাবে মূল্যায়ন করে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নে জাপান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আগ্রহ রয়েছে।

সানায়ে তাকাইচি আশা প্রকাশ করেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ‘কৌশলগত অংশীদারত্বে’ উন্নীত করার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ও জাপানের সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। এ সিদ্ধান্তের ফলে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক, অবকাঠামোগত ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

বৈঠকে দুই দেশের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও যৌথ অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্ক কেবল উন্নয়ন সহযোগিতায় সীমাবদ্ধ না রেখে আরও বিস্তৃত কৌশলগত কাঠামোয় এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কৌশলগত অংশীদারত্বে উন্নীত হওয়ার ফলে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তি স্থানান্তর, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে এসব উদ্যোগের বাস্তব সুফল নির্ভর করবে ঘোষিত অঙ্গীকারগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন এবং দুই দেশের মধ্যে ধারাবাহিক সহযোগিতার ওপর।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স