শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ম্যান্ডিয়েন্ট জানায়, সর্বশেষ হামলায় বিশ্বজুড়ে কয়েক ডজন প্রতিষ্ঠান আক্রান্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে উচ্চশিক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয়, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, পরিবহন এবং সরকারি খাতের প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
শাইনিহান্টার্সের নতুন হামলার তথ্য এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন কয়েক দিন আগে গোষ্ঠীটি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (এফবিআই) কর্মীদের তথ্য চুরির দাবি করেছে। তবে ওই দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স।
ম্যান্ডিয়েন্টের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ মে থেকে ৯ জুন পর্যন্ত পিপলসফটের ওই নিরাপত্তা ত্রুটি ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছিল শাইনিহান্টার্স। ওই সময়ের হামলায় প্রধানত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে হামলা ঠেকাতে বিভিন্ন নিরাপত্তা নির্দেশনা দেওয়া হয় এবং প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের সিস্টেমের সুরক্ষাও জোরদার করে।
তবে পরে কৌশল পরিবর্তন করে হ্যাকাররা এমন প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানায়, যেগুলো ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ফায়ারওয়াল বা ডব্লিউএএফের নিরাপত্তা নিয়ম চালু করেছিল।
ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ফায়ারওয়াল ওয়েবসাইট ও অনলাইন অ্যাপ্লিকেশনে আসা ক্ষতিকর বা সন্দেহজনক কার্যক্রম শনাক্ত করে তা প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু ম্যান্ডিয়েন্ট জানিয়েছে, আক্রান্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেকেই ওরাকলের দেওয়া নিরাপত্তা হালনাগাদ ইনস্টল করেনি। ওই হালনাগাদে পিপলসফটের সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা ত্রুটি সমাধানের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
ফলে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা চালু থাকার পরও প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার হালনাগাদ না করা প্রতিষ্ঠানগুলো আবারও হামলার ঝুঁকিতে পড়ে। ম্যান্ডিয়েন্ট ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম প্রকাশ করেনি। তবে তাদের হিসাবে, সর্বশেষ হামলায় বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে কয়েক ডজন পিপলসফট সিস্টেম আক্রান্ত হয়েছে।
আক্রান্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে—
- উচ্চশিক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয়
- প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান
- স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান
- কৃষি খাতের প্রতিষ্ঠান
- পরিবহন সংস্থা
- সরকারি প্রতিষ্ঠান
বড় প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলোতে পিপলসফট সাধারণত মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, কর্মীদের তথ্য সংরক্ষণ এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে ব্যবহৃত হয়। ফলে এসব সিস্টেমে সাইবার হামলা হলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি হওয়ার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
শাইনিহান্টার্স দাবি করেছে, পিপলসফটের একই নিরাপত্তা ত্রুটি ব্যবহার করেই তারা এফবিআইয়ের তথ্য চুরি করেছে। তবে এ দাবির স্বাধীন যাচাই এখনো সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে ওরাকলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও প্রতিষ্ঠানটি কোনো মন্তব্য করেনি।
বুধবার এক বিবৃতিতে এফবিআই জানায়, তারা তথ্য চুরির অভিযোগের বিষয়ে ‘জোরালোভাবে তদন্ত’ করছে। এর আগে রয়টার্স জানিয়েছিল, শাইনিহান্টার্স এফবিআইয়ের একটি সংবেদনশীল ইউনিটে কর্মরত কর্মকর্তাদের নাম প্রকাশ করেছে। গোষ্ঠীটি কর্মীদের চিকিৎসা ও মানসিক চিকিৎসাসংক্রান্ত নথিও সংগ্রহ করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এর আগেও একাধিক বড় তথ্য চুরির ঘটনার দায় স্বীকার করেছে শাইনিহান্টার্স। পিপলসফটের নিরাপত্তা ত্রুটি ব্যবহার করে নতুন কৌশলে চালানো সর্বশেষ হামলার ঘটনায় সফটওয়্যার নিরাপত্তা নিয়ে আবারও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নিরাপত্তা হালনাগাদ প্রকাশের পরও তা সময়মতো ইনস্টল না করলে প্রতিষ্ঠানগুলো কী ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে, এই ঘটনাটি সেটিও সামনে এনেছে।
নিউজ বাংলা চ্যানেল