ঢাকা | খ্রি.

আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার সুযোগ নেই: জাহেদ উর রহমান

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 14, 2026 ইং | Photo Card
আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার সুযোগ নেই: জাহেদ উর রহমান ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদন

নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো ধরনের ‘রিকনসিলিয়েশন’ বা সমঝোতার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তাঁর অভিযোগ, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ক্ষমা না চেয়ে দলটি এখনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, বিদেশের মাটিতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের হেনস্তা এবং দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনা প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, গণহত্যা চালিয়ে দেশ ছেড়ে যাওয়া দলটি এখনো কোনো অনুশোচনা প্রকাশ করেনি। বরং বিদেশের মাটিতে ড. ইউনূস, সরকারের অন্যান্য দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও অভিনেত্রীকে হেনস্তা এবং দেশে সহিংসতা উসকে দেওয়ার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

ড. ইউনূসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নিউইয়র্কে বাংলাদেশ দূতাবাসের কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি। এ ঘটনায় সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও উল্লেখ করেন উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, অভিনেত্রী বাঁধনকে যারা হেনস্তা করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ড. ইউনূসের ক্ষেত্রেও একইভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঘটানোর চেষ্টা করা হলে সরকার তা বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেবে না।

আওয়ামী লীগের কেউ কেউ ক্ষমা চাইলে দলটির সঙ্গে সমঝোতার সুযোগ তৈরি হতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বিষয়টি একেবারেই কাল্পনিক। তাঁর দাবি, গণহত্যার মতো গুরুতর অপরাধের পরও গত দুই বছরে দলটির বিভিন্ন কর্মকাণ্ড, সন্ত্রাস এবং অডিও বার্তার মাধ্যমে দেশজুড়ে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টার তথ্য সরকারের কাছে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দলটির সঙ্গে আলোচনা বা সমঝোতার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।

শেখ হাসিনাকে ফেরানোর আইনি প্রক্রিয়া চলছে

ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তাঁকে ভারত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরত আনার আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে সরকার।

তবে শেখ হাসিনা নিজে থেকে দেশে ফিরে এলে সরকারের কোনো আপত্তি নেই বলেও জানান তিনি। দেশে ফিরলে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তাঁকে আদালতের মুখোমুখি হতে হবে এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে বলে উল্লেখ করেন উপদেষ্টা।

প্রেস কাউন্সিল আইন সংস্কারের অগ্রগতি

প্রেস ব্রিফিংয়ে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপসাংবাদিকতা রোধে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল আইন সংস্কার ও আধুনিকায়নের চলমান অগ্রগতির বিষয়েও কথা বলেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা।

এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ড. মো. আলম মোস্তফা এবং তথ্য অধিদপ্তরের সিনিয়র উপপ্রধান তথ্য অফিসার মোছা. মোবাস্বেরা কাদেরী উপস্থিত ছিলেন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স