নিজস্ব প্রতিবেদক
দীর্ঘ প্রায় দুই মাস পর দেশে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরলেও সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়ার কারণে আবারও সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছিল। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর ব্যাহত হওয়ায় পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ ও সরবরাহ কমে যায়। এতে বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহককে কিছুটা ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তবে শুক্রবার সকাল থেকে এলএনজি সরবরাহ বাড়তে শুরু করায় পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান টার্মিনালে কার্গো থেকে এলএনজি স্থানান্তর শুরু হয়েছে। ফলে দেশে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পেট্রোবাংলা জানিয়েছিল, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সমুদ্রে ভাসমান টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এতে এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় সামগ্রিক গ্যাস সরবরাহও কমে যায়।
পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। দীর্ঘদিন ধরে ২৬৫ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হচ্ছিল। বুধবারও সরবরাহ ছিল প্রায় ২৬০ কোটি ঘনফুট। তবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তা কমে দাঁড়ায় ২২০ কোটি ঘনফুটে। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে সরবরাহ কমে যায় প্রায় ৪০ কোটি ঘনফুট।
শুক্রবার সকাল ১০টায় দেশে গ্যাস সরবরাহ হয়েছে ২৩৪ কোটি ঘনফুট। পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, এলএনজি সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাইপলাইনে গ্যাসের সরবরাহও ধীরে ধীরে বাড়ানো হবে।
সূত্র জানায়, দেশে মোট গ্যাস সরবরাহের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ আসে আমদানি করা এলএনজি থেকে। আমদানি করা এলএনজি গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে সমুদ্রে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল রয়েছে। এর একটি মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেটের এবং অন্যটি দেশীয় কোম্পানি সামিটের। দুটি টার্মিনাল মিলে সর্বোচ্চ প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করতে পারে।
এলএনজি নিয়ে নতুন জাহাজ দেশে পৌঁছালেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে বৃহস্পতিবার কার্গো থেকে টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর করা সম্ভব হয়নি। ফলে এলএনজি সরবরাহ কমে প্রায় ৫৯ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। অথচ এর আগের কয়েক দিন প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করা হচ্ছিল।
শুক্রবার সকালে এলএনজি সরবরাহ বেড়ে ৭৩ কোটি ঘনফুটে দাঁড়িয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং কার্গো থেকে টার্মিনালে স্থানান্তর কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চললে সরবরাহ আরও বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছে পেট্রোবাংলা।
ফলে সাময়িকভাবে কমে যাওয়া গ্যাসের চাপ ও সরবরাহ পরিস্থিতি শুক্রবার থেকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরছে।
নিউজ বাংলা চ্যানেল