দীর্ঘ ৩৪ বছর পর পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে শুরু হচ্ছে ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের বিশ্ব ইজতেমা অর্থাৎ বিশেষ ইসলামিক সম্মেলন। পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার ধনেখালি বিধানসভার অন্তর্গত পুইনান গ্রামে আয়োজিত হয়েছে এই ইজতেমার। এর আগে হাওড়ার বাঁকড়ায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইজতেমা হয়েছিল।
প্রায় ৬০ বর্গ কিলোমিটার জায়গা জুড়ে হচ্ছে এই ধর্মীয় সম্মেলন। তাবলিগ জামাতের উদ্যোগে ২ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া বিশ্ব ইজতেমা চলবে আগামী ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত।
নেপাল ও বাংলাদেশসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা লাখো মুসল্লির উপস্থিতিতে ইজতেমা ময়দান পরিণত হয়েছে শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের মিলন মেলায়। এই ইজতেমাকে কেন্দ্র করে করা নিরাপত্তার বলয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে পুরো অঞ্চল।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গোটা দেশ থেকে লাখ লাখ মানুষের জমায়েত হয়েছে ইজতেমায়। প্রশাসনিক তরফ থেকে মুসলিম ধর্মপ্রাণ মানুষদের জন্য রাখা হয়েছে একাধিক ব্যবস্থা। এছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিভিন্ন রাস্তাঘাটে নাকা চেকিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নো এন্ট্রির ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে মুসলিম ধর্মপ্রাণ মানুষদের আসার জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছে। ট্রেকার ও বাইকে করেও প্রচুর মানুষ আসেন ইজতেমায়।
ইজতেমার ময়দানের আশেপাশে ১৭০ বেডের একটি অস্থায়ী হাসপাতাল তৈরি করা হয়েছে। সেখানে সব ধরনের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং ২৪ ঘন্টায় স্বাস্থ্যকর্মী নিযুক্ত আছেন।
ইজতেমায় আসা নেপালের বিরাট নগরের বাসিন্দা কামাল উদ্দিন বলেন, এটা নিয়ে আমি পাঁচবার ইজতেমায় এসেছি। ধর্মের কথা শুনতে বারবার আসি। এর আগেও আমি বিহারের গয়ায় গিয়েছি। এবার পশ্চিমবঙ্গে এলাম।
হুগলির ধনেখালির বিধায়ক পাত্র জানিয়েছেন, ধনেখালি বিধানসভা এলাকায় বিশ্ব ইজতেমা হচ্ছে। এখানে বহু মানুষের সমাগম হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এবং জনপ্রতিনিধি হিসেবে ইজতেমায় যারা আসছে তাদের জন্য আমরা সব রকম ব্যবস্থা করেছি। তবে সকল মুসলিম ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে একটি প্রতিক্রিয়া সমান যে বিশ্ব ইজতেমার সঙ্গে কোনো রাজনীতির যোগাযোগ নেই।
এছাড়া সমগ্র অঞ্চল পরিদর্শন করতে আসেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমসহ পশ্চিমবঙ্গের পুলিশের ডিজিপি রাজিব কুমার, হুগলির জেলাশাসক খোরশেদ আলম কাদেরী, হুগলি জেলার পুলিশ সুপার কামনাশিস সেন এবং সোনারপুর উত্তর বিধানসভার বিধায়ক ফিরদৌস বেগম।
কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেন, পশ্চিমবঙ্গ ধর্মীয় সম্প্রীতির পিঠস্থান। এখানে সব ধর্মের মানুষ নির্বিঘ্নে নিজ নিজ ধর্ম পালন করেন। শান্তি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখা আমাদের প্রধান লক্ষ্য।
ডিডি/টিটিএন
নিউজ বাংলা চ্যানেল