ঢাকা | খ্রি.

মোদির সঙ্গে বৈঠকে ভারত-ইরান সম্পর্ক আরও জোরদারের আশা পেজেশকিয়ানের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 12, 2026 ইং | Photo Card
মোদির সঙ্গে বৈঠকে ভারত-ইরান সম্পর্ক আরও জোরদারের আশা পেজেশকিয়ানের ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728
নিউজ বাংলা ডেস্ক:  ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে শুক্রবারের বৈঠক দুই দেশের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার নতুন সুযোগ তৈরি করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। তিনি মনে করেন, দুই দেশের মধ্যে সংস্কৃতি, প্রযুক্তি, বাণিজ্য, বিজ্ঞান ও অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করা সম্ভব।

শুক্রবার সন্ধ্যায় নয়াদিল্লিতে ভারতের ধর্মীয় নেতা, বুদ্ধিজীবী ও ব্যবসায়ী নেতাদের সামনে বক্তব্য দেন পেজেশকিয়ান। এর আগে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে একই দিন ভারতে পৌঁছান তিনি। অনুবাদকের মাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে ইরানের প্রেসিডেন্ট ভারত সরকার ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আতিথেয়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।

মোদির সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গ তুলে পেজেশকিয়ান বলেন, দুই দেশের নেতাদের মধ্যে ভালো আলোচনা হয়েছে। এসব আলোচনা এবং পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে সংস্কৃতি, প্রযুক্তি, বাণিজ্য, বিজ্ঞান, অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করলে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ সময় ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার বিষয়টিও তুলে ধরেন পেজেশকিয়ান। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুদ্ধের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের তীব্র সমালোচনা করেন।

পেজেশকিয়ানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ভয় দেখিয়ে ইরানকে নিজেদের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে বাধ্য করতে চায়। তবে ইরান কখনো আত্মসমর্পণ করবে না বলে জানান তিনি। তার বক্তব্য, ইরানের ওপর চাপ বাড়ানো হলে দেশটি পাল্টা জবাব দেবে। ইরান একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াই করছে এবং ভয় দেখিয়ে দেশটিকে নত করা সম্ভব নয় বলেও দাবি করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বেসামরিক মানুষ হত্যার অভিযোগও করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, যারা নিজেদের মানবাধিকারের সমর্থক হিসেবে উপস্থাপন করে, তারাই মানুষ হত্যা করছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইরানে স্কুলশিশু, বিজ্ঞানীসহ বিভিন্ন মানুষকে হত্যা এবং স্কুল ও হাসপাতালে হামলা চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

পেজেশকিয়ান প্রশ্ন তোলেন, কোনো দেশ সত্যিকার অর্থে সাহসী হলে তাদের শুধু সেনা ও সামরিক বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গেই লড়াই করা উচিত। তাহলে বেসামরিক অবকাঠামো ও মানুষের জীবিকার ওপর হামলা কেন করা হচ্ছে, সেই প্রশ্নও রাখেন তিনি। তার দাবি, ইরানের জনগণ আত্মসমর্পণ করবে না এবং চাপের মুখেও দেশটি মাথা নত করবে না।

ইরানের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, তার দেশ মানবিক মূল্যবোধে বিশ্বাস করে এবং বিশ্বের সব মানুষের সমান অধিকার থাকা উচিত।

এদিকে শুক্রবার নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন পেজেশকিয়ান। দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে এটি ছিল দুই নেতার দ্বিতীয় বৈঠক। এর আগে ৩১ আগস্ট কিরগিজস্তানের বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সম্মেলনের ফাঁকে তাদের বৈঠক হয়েছিল।

শুক্রবারের বৈঠকে ভারত ও ইরানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। ব্রিকসের বিভিন্ন বৈঠকে ইরানের নিয়মিত ও উচ্চপর্যায়ের অংশগ্রহণের জন্য পেজেশকিয়ানকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী মোদি। চলমান কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ইরান ব্রিকসের কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মোদি বলেন, বিশ্বের দক্ষিণাঞ্চলীয় দেশগুলোর মধ্যে সহনশীলতা, নতুন চিন্তা, সহযোগিতা ও টেকসই উন্নয়নের মনোভাব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ব্রিকসের বড় সম্ভাবনা রয়েছে। ব্রিকস ব্যবসা ফোরামের নেতাদের অধিবেশনে পেজেশকিয়ানের অংশগ্রহণের জন্যও তাকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়েও দুই নেতা মতবিনিময় করেন। এ সময় পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত নিয়ে ভারতের অবস্থান তুলে ধরেন মোদি। তিনি আবারও বলেন, আঞ্চলিক সমস্যার সমাধান আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে করতে হবে।

পশ্চিম এশিয়ায় দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় ধারাবাহিকভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি নৌ চলাচল ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন তিনি। সমুদ্রপথে চলাচলকারী নাবিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন মোদি।

ব্রিকসসহ বিভিন্ন বহুপক্ষীয় সংগঠনে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে ভারত ও ইরানের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়টিকে স্বাগত জানান মোদি।

দুই নেতার সাম্প্রতিক ধারাবাহিক বৈঠক থেকে দেখা যাচ্ছে, পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতের মধ্যেও ভারত ও ইরান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি বাণিজ্য, প্রযুক্তি, অর্থনীতি ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতার ক্ষেত্রেও যোগাযোগ বাড়াতে আগ্রহী। তবে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের ক্ষেত্রে ভারত আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমে সমাধানের ওপর জোর দিয়ে আসছে। ফলে ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখলেও সংঘাতে কোনো পক্ষের সরাসরি অবস্থান না নেওয়ার নীতি অনুসরণ করছে নয়াদিল্লি।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স
পিংক বাস: নারীর আত্মনির্ভরতার পথে নতুন দিগন্ত, প্রশংসায় চিত্

পিংক বাস: নারীর আত্মনির্ভরতার পথে নতুন দিগন্ত, প্রশংসায় চিত্