ঢাকা | খ্রি.

বিএনপিতে ত্যাগীদের কোণঠাসা, সুবিধাবাদীদের পুনর্বাসন!

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 21, 2026 ইং | Photo Card
বিএনপিতে ত্যাগীদের কোণঠাসা, সুবিধাবাদীদের পুনর্বাসন! ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে বিরোধী রাজনৈতিক আন্দোলন, মামলা-হামলা, গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের মুখেও রাজপথে সক্রিয় ছিলেন বিএনপির যেসব নেতাকর্মী, তাদের অনেকেই এখন দল ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে যথাযথ মূল্যায়ন না পাওয়ার অভিযোগ তুলছেন। তাদের দাবি, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে ত্যাগ স্বীকার করা নেতাদের একাংশকে পরিকল্পিতভাবে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে, দুঃসময়ে নিষ্ক্রিয় থাকা সুবিধাবাদী, সাবেক আমলা ও হাইব্রিড রাজনীতিকদের কেউ কেউ সরকারের নীতিনির্ধারণী কাঠামোয় প্রভাবশালী হয়ে উঠছেন। এতে তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে।

বিএনপি সরকারের সামনে যখন অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং জনআস্থা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ, তখন দলটির অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন, নেতৃত্বের অবস্থান ও রাজনৈতিক যোগাযোগ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ঢাকার রাজনীতিতে প্রভাবশালী কয়েকজন নেতাকে ঘিরে ধারাবাহিক বিতর্ক এবং সর্বশেষ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সাবেক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের ঘটনা দলের সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনাকে আরও জোরালো করেছে।

বিএনপির তৃণমূলের একাংশের অভিযোগ, প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক শক্তি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট এবং কিছু গণমাধ্যমে নির্দিষ্ট নেতাদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক বয়ান তৈরি করা হচ্ছে। পরে সেই বয়ানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে দলীয় সিদ্ধান্ত ও নেতাদের অবস্থানের ওপর। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ছাড়া একে সমন্বিত ষড়যন্ত্র হিসেবে নিশ্চিতভাবে দেখার সুযোগ নেই।

ত্যাগীদের মূল্যায়ন না হওয়ায় বাড়ছে ক্ষোভ

বিএনপির দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের সময়ে দলের বহু নেতাকর্মী মামলা, গ্রেপ্তার, হামলা, কারাবাস ও আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা ছিল, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সরকার ও দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে তাদের অভিজ্ঞতা, ত্যাগ ও সাংগঠনিক অবদান যথাযথ গুরুত্ব পাবে। কিন্তু বাস্তবে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে ব্যবধান রয়েছে বলে অভিযোগ করছেন তৃণমূলের নেতারা।

রাজশাহী বিএনপির এক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বছরের পর বছর জেল-জুলুম সহ্য করে, হামলা-মামলার শিকার হয়ে যারা বাড়িঘর ছেড়েছেন, তাদের এখনো অনেক ক্ষেত্রে অবমূল্যায়নের শিকার হতে হচ্ছে। দলের দুঃসময়ে যাদের রাজপথে দেখা যায়নি, ক্ষমতার পরিবর্তনের পর তারাই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় প্রভাব বিস্তার করছেন বলে অভিযোগ তার।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির এক নেতার ভাষ্য, দলের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন না হলে তৃণমূলের অন্য নেতাকর্মীদের মধ্যেও হতাশা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তার মতে, দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের যোগাযোগ বাড়ানো এবং সাংগঠনিক অবদান অনুযায়ী দায়িত্ব বণ্টন করা জরুরি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “বিএনপি সরকার গঠন করেছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন, নিঃস্ব হয়েছেন তাদের জন্য আমরা কিছু করতে পারিনি। আবার কিছু সুবিধাবাদী ঢুকে পড়েছে, এটি ত্যাগীদের জন্য হতাশার।”

তার মতে, এ পরিস্থিতিতে কেউ কেউ দল থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন, ক্ষোভও তৈরি হচ্ছে। এর দায় দলের নেতাদেরই নিতে হবে। নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো গেলে দল ও দেশ উভয়ই উপকৃত হবে।

রাজনৈতিক ফ্রেমিংয়ের অভিযোগ

বিএনপির একাধিক নেতার অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের পাশাপাশি দলের অভ্যন্তরীণ স্বার্থসংশ্লিষ্ট কিছু গোষ্ঠীও জনপ্রিয় নেতাদের দুর্বল করার চেষ্টা করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো একটি ঘটনা বা অভিযোগকে কেন্দ্র করে নেতিবাচক প্রচারণা চালানো, যাচাই-বাছাইয়ের আগেই জনমত তৈরি করা এবং পরবর্তী সময়ে সেটিকে রাজনৈতিক চাপের উপকরণ হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে বলে তাদের দাবি।

তাদের ভাষ্য, কোনো নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তার সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য গ্রহণ এবং সাংগঠনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করার পরিবর্তে কখনো কখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনাই সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলছে। এতে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের আগেই সংশ্লিষ্ট নেতা রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।

ডাকসু নির্বাচনেও ছাত্রদলের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা চালানোর অভিযোগ তুলেছেন দলটির সমর্থকেরা। তাদের দাবি, ছাত্রদলকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে তুলনা করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল। একইভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপিকে দখলবাজি ও চাঁদাবাজির সঙ্গে সম্পৃক্ত করে উপস্থাপনের অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ঘটনা ও তথ্যের ভিত্তিতে পৃথকভাবে মূল্যায়ন প্রয়োজন।

বিএনপির নেতাকর্মীদের মতে, কোনো ব্যক্তি বা নেতার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তদন্ত ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু যাচাইবিহীন প্রচারণা এবং প্রকৃত অপরাধের অভিযোগের মধ্যে পার্থক্য বজায় রাখা জরুরি। অন্যথায় জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগও রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে পড়ে যেতে পারে।

ঢাকার রাজনীতিতে একের পর এক নেতা বিতর্কের মুখে

বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে ঢাকার রাজনীতিতে প্রভাবশালী কয়েকজন নেতাকে পর্যায়ক্রমে বিতর্কের মুখে পড়তে হয়েছে। তাদের তালিকায় রয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক নেতা সাইফুল আলম নিরব, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের তানভীর আহমেদ রবীন, উত্তরের আমিনুল হক, এম এ কাইয়ুম এবং সর্বশেষ ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।

তাদের মতে, ঢাকার রাজনীতিতে এসব নেতার সাংগঠনিক প্রভাব, কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান রয়েছে। ফলে তাদের ঘিরে বিতর্ক শুধু ব্যক্তিগত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকে না; এর প্রভাব পড়ে দলের সাংগঠনিক ঐক্য ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমেও।

সাবেক মেয়র মরহুম সাদেক হোসেন খোকার রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে ইশরাক হোসেনের অবস্থান, মির্জা আব্বাসের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং আমিনুল হক ও এম এ কাইয়ুমের সাংগঠনিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, ঢাকার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের মধ্যে বিভক্তি তৈরি হলে তার প্রভাব ভবিষ্যৎ নির্বাচনী রাজনীতিতেও পড়তে পারে।

বিশেষ করে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় ঐক্য, সাংগঠনিক প্রস্তুতি এবং জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় নেতাদের ঘিরে বিতর্কের পাশাপাশি তৃণমূলের হতাশা দলটির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইশরাকের পদত্যাগ ঘিরে বিতর্ক

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সাবেক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ বিএনপির অভ্যন্তরীণ আলোচনা ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার উদ্যোগকে কেন্দ্র করে তার কর্মকাণ্ড, পদ্ধতি এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলোর সংবাদ উপস্থাপন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। একপর্যায়ে তিনি প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

ইশরাকের সমর্থকদের বক্তব্য, মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার উদ্যোগের ইতিবাচক দিক সামনে না এনে তার কর্মপদ্ধতি ও সংশ্লিষ্ট বিতর্ককে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, এর ফলে মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে মূল আলোচনার পরিবর্তে ইশরাককে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক প্রাধান্য পেয়েছে।

অন্যদিকে, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়া, দায়িত্বের সীমা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকার প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো উদ্যোগের উদ্দেশ্য ইতিবাচক হলেও তা বাস্তবায়নের পদ্ধতি আইনসম্মত ও জবাবদিহিমূলক হওয়া প্রয়োজন। ফলে ইশরাকের ঘটনাকে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে উদ্যোগের লক্ষ্য এবং তা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া—দুই দিকই বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

ইসলামি বক্তা ও জৈনপুরী দরবার শরীফের পীর মুফতি ড. এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী বলেন, অসংখ্য দুর্নীতিবাজের ভিড়ে কিছু ভালো মানুষও রয়েছেন। কিন্তু ভালো মানুষ ভালো কাজ করতে গেলে তাদের পদ থাকে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ইশরাকের উদ্যোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া সঠিক ছিল, তবে পদ্ধতিতে ভুল ছিল। একই সঙ্গে সরকারও এ ঘটনার দায় নিতে চায়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন আব্বাসী। তার মতে, ইশরাকের মাদকবিরোধী উদ্যোগের ইতিবাচক দিক তুলে ধরার সুযোগ ছিল, কিন্তু সংবাদ পরিবেশনে তার হাতে পিস্তল থাকার বিষয়টিই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। এতে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

দৈনিক জবান সম্পাদক রেজাউল করিম রনিও গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, ১/১১-এর সময় কিছু গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ফ্রেমিংয়ের অভিযোগ উঠেছিল। পরবর্তী সময়ে ফ্যাসিবাদী শাসনের অভিজ্ঞতার পরও একই ধরনের প্রবণতা ফিরে আসার আশঙ্কা রয়েছে। ইশরাকের ঘটনায় গুজব ও ফ্রেমিংয়ের মাধ্যমে মূল ইস্যু আড়াল করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ইশরাকের পাশে মাহ্দী আমিন

ইশরাক হোসেনের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহ্দী আমিনও বক্তব্য দিয়েছেন। ইশরাকের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তার ভূমিকার প্রশংসা করেন।

মাহ্দী আমিনের বক্তব্য অনুযায়ী, ইশরাকের সাম্প্রতিক কাজের পদ্ধতি ও প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন বা মতভিন্নতা থাকতে পারে। তবে যে উদ্যোগকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তার লক্ষ্য, নৈতিকতা ও যৌক্তিকতা নিয়ে দ্বিধার অবকাশ নেই বলে তিনি মনে করেন।

তিনি আরও বলেন, প্রতিমন্ত্রীর পদ কিংবা পদত্যাগপত্র দিয়ে ইশরাক হোসেনের রাজনৈতিক পরিচয় ও আত্মত্যাগের মূল্যায়ন করা যায় না। সাময়িক সিদ্ধান্তের চেয়ে দল, দেশ ও মানুষের কল্যাণে তার অবদান এবং আন্তরিক অবস্থান অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

মাহ্দী আমিনের ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সরকারের প্রতিটি পর্যায়ে দায়বদ্ধতার ধারা বজায় থাকবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সরকারের অবস্থান: জবাবদিহিতায় ছাড় নয়

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার দেশের কল্যাণে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকেই একটি শ্রেণি নানা ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সব ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে চান—দল ও সরকার উভয় ক্ষেত্রেই।

রিজভীর বক্তব্যে সরকারের জবাবদিহিতার নীতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে একই সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, ন্যায্যতা এবং অভিযোগের ভিত্তিতে সমানভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এতে একদিকে যেমন প্রকৃত অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে, অন্যদিকে যাচাইবিহীন প্রচারণার কারণে কোনো নেতা অন্যায্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও কমবে।

সামনে সাংগঠনিক ঐক্যের পরীক্ষা

বিএনপির সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে অবদান রাখা নেতাকর্মীদের আস্থা ধরে রাখা। রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের পর দলে নতুন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু সেই প্রক্রিয়ায় পরীক্ষিত নেতাদের অভিজ্ঞতা ও ত্যাগ উপেক্ষিত হচ্ছে—এমন ধারণা তৈরি হলে সাংগঠনিক অসন্তোষ বাড়তে পারে।

ত্যাগী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন, নেতৃত্বের সঙ্গে তৃণমূলের যোগাযোগ বৃদ্ধি, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্য যাচাই না করে সিদ্ধান্ত না নেওয়া এবং প্রকৃত অনিয়মের ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয় নির্বিশেষে ব্যবস্থা নেওয়াও জরুরি।

ইশরাক হোসেনের ঘটনাকে ঘিরে বিতর্ক বিএনপির জন্য শুধু একজন নেতার পদত্যাগের প্রশ্ন নয়; এটি দলীয় শৃঙ্খলা, রাজনৈতিক যোগাযোগ, জবাবদিহিতা এবং ত্যাগী নেতৃত্বের মূল্যায়ন নিয়ে বৃহত্তর আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের ঊর্ধ্বে উঠে দলটি কীভাবে এসব প্রশ্নের সমাধান করে, তার ওপর নির্ভর করবে তৃণমূলের আস্থা ধরে রাখা এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনী রাজনীতিতে সাংগঠনিক শক্তি বজায় রাখার সক্ষমতা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
নিরাপত্তা নিশ্চিতে গৃহকর্মী নিয়োগে যে অনুরোধ জানাল ডিএমপি

নিরাপত্তা নিশ্চিতে গৃহকর্মী নিয়োগে যে অনুরোধ জানাল ডিএমপি