সোমবার (৫ অক্টোবর) বিশ্ব শিক্ষক দিবস ২০২৬ পালিত হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য, ‘শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানো : পেশার সুরক্ষা, মর্যাদা উন্নয়ন ও আমাদের ভবিষ্যৎ গঠনে ৬০ বছরের অঙ্গীকার’। দিবসটি উপলক্ষে সরকার সেরা শিক্ষক নির্বাচনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালে মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষক ছিলেন তিন লাখ চার হাজার ৬৪৬ জন। তাঁদের মধ্যে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকের হার ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ। সে হিসাবে ৪০ দশমিক ৫২ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় এক লাখ ২৩ হাজার শিক্ষক এখনো প্রশিক্ষণের বাইরে। পুরুষ শিক্ষকদের ৬২ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং নারী শিক্ষকদের ৫২ দশমিক ৭৯ শতাংশ প্রশিক্ষিত।
মাদরাসা শিক্ষায় প্রশিক্ষণের হার আরও কম। মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মাদরাসা পর্যায়ে শিক্ষক রয়েছেন এক লাখ ৩৮ হাজার ৬৭৫ জন। তাঁদের মাত্র ১০ থেকে ১২ শতাংশ প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। ২০২৪ সালে এই হার ছিল ৯ দশমিক ১৯ শতাংশ।
এদিকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংখ্যা এক লাখ ১০ হাজার ১৫১ জন। তাঁদের প্রায় ২০ শতাংশ শিক্ষক কোনো প্রশিক্ষণ পাননি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের অধিকাংশ দেশে শিক্ষকতা পেশায় প্রবেশের আগেই পেশাগত প্রশিক্ষণ নেওয়া বাধ্যতামূলক। বাংলাদেশে নিয়োগের পর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকায় অনেক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ছাড়াই বছরের পর বছর শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করছেন। এর ফলে শিক্ষাদানের প্রয়োজনীয় দক্ষতা যথাযথভাবে প্রয়োগে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।
গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, শিক্ষক নিয়োগের আগেই প্রশিক্ষণের সুযোগ রাখা হলে প্রার্থীরা নিজেরাই প্রশিক্ষণ গ্রহণে আগ্রহী হবেন। পাশাপাশি যেসব শিক্ষক এখনো প্রশিক্ষণ পাননি, তাঁদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান শ্রেণিকক্ষে কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে কি না, সেটিও সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে।
অন্যদিকে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে ‘মাধ্যমিক শিক্ষায় শিখন ত্বরান্বিতকরণ’ (লেইস) প্রকল্পের মাধ্যমে তিন লাখ ৬৭ হাজার ৪৯০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এই প্রশিক্ষণ ফাউন্ডেশন কোর্সের আওতাভুক্ত নয়।
নিউজ বাংলা চ্যানেল