ঢাকা | খ্রি.

তিন দশক পরও অমলিন সালমান শাহ, মৃত্যু রহস্য ঘিরে কাটেনি কৌতূহল

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 7, 2026 ইং | Photo Card
তিন দশক পরও অমলিন সালমান শাহ, মৃত্যু রহস্য ঘিরে কাটেনি কৌতূহল ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকাই চলচ্চিত্রে সালমান শাহ ছিলেন এক ক্ষণজন্মা নায়ক। মাত্র চার বছরের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার। অথচ এই অল্প সময়েই অভিনয়, ফ্যাশন, ব্যক্তিত্ব ও পর্দার উপস্থিতি দিয়ে তিনি এমন এক অবস্থান তৈরি করেছিলেন, যা তিন দশক পরও অটুট। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৫ বছর বয়সে তার আকস্মিক মৃত্যু হলেও দর্শকের হৃদয় থেকে মুছে যায়নি তার নাম।

বরং সময়ের সঙ্গে সালমান শাহকে ঘিরে নতুন প্রজন্মের আগ্রহ আরও বেড়েছে। যারা তার অভিনয় দেখেছেন তার জীবদ্দশায়, তাদের পাশাপাশি মৃত্যুর বহু বছর পর জন্ম নেওয়া তরুণ-তরুণীরাও এখন তার সিনেমা, পোশাক, চুলের স্টাইল ও অভিনয়ের ভক্ত। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তার মৃত্যুর রহস্য, যা তিন দশক পরও পুরোপুরি নিষ্পত্তি হয়নি।

ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাহমিদা জামান ইষ্টির জন্ম সালমান শাহের মৃত্যুর প্রায় ছয় বছর পর। তবু নায়ককে নিয়ে তার আগ্রহ প্রবল।

ইষ্টির ভাষায়, সালমান শাহকে নিজের চোখে দেখতে না পারা তার জীবনের বড় আফসোস। তার বাবা-মা দুজনই সালমান শাহের ভক্ত হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই পরিবারের কাছ থেকে নায়ক সম্পর্কে জানতে পারেন তিনি। পরবর্তীতে সালমানের স্বল্প সময়ের ক্যারিয়ারে অভাবনীয় সাফল্য এবং আকস্মিক মৃত্যু তাকে আরও আগ্রহী করে তোলে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাফিছা নূজহাতের কাছে সালমান শাহের আকর্ষণের জায়গাটি কিছুটা ভিন্ন। তার মতে, বাংলা চলচ্চিত্রের প্রচলিত নায়ক-নায়িকাদের তুলনায় সালমান ছিলেন ব্যতিক্রমী। অভিনয়ের পাশাপাশি তার ফ্যাশন ও ব্যক্তিত্বও ছিল সময়ের চেয়ে এগিয়ে। ফলে প্রজন্মের পর প্রজন্ম তার পোশাক, স্টাইল, সিনেমা ও গানকে অনুসরণ করছে।

‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ দিয়ে উত্থান

১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে ঢালিউডে অভিষেকের পর রাতারাতি তারকা হয়ে ওঠেন সালমান শাহ। এরপর একের পর এক ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রে অভিনয় করে অল্প সময়েই জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে যান তিনি।

চার বছরের ক্যারিয়ারে অভিনয় করেন ২৭টি চলচ্চিত্রে। এর বেশিরভাগই দর্শকপ্রিয়তা ও ব্যবসায়িক সাফল্য পায়। তার অভিনয়ের স্বাভাবিকতা, সংলাপ বলার ধরন, পোশাক এবং পর্দায় ব্যক্তিত্ব তাকে সমসাময়িক অন্য নায়কদের থেকে আলাদা করে দেয়।

তবে চলচ্চিত্রে আসার আগেই অভিনয়ের সঙ্গে তার পরিচয় ঘটে। ছোটবেলায় বিটিভির বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও নাটকে অভিনয় করেন। বিজ্ঞাপনচিত্রেও কাজ করেন। সাংস্কৃতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠার পেছনে পরিবারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তার নানা কামরুজ্জামান বাংলাদেশের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মা নীলা চৌধুরীও গান করতেন রেডিও ও টেলিভিশনে।

‘সালমান’ নামটিই একসময় বাদ দেওয়া হয়েছিল

সালমান শাহের জন্মনাম ছিল চৌধুরী মোহাম্মদ সালমান শাহরিয়ার। ডাকনাম ইমন। ছোটবেলায় স্কুলে ভর্তি করার সময় নামটি দীর্ঘ হওয়ায় শিক্ষকদের পরামর্শে ‘সালমান’ অংশটি বাদ দেওয়া হয়।

তখন তার নাম রাখা হয় চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার।

অদ্ভুতভাবে পরবর্তীতে চলচ্চিত্রে এসে সেই বাদ দেওয়া ‘সালমান’ নামটিই আবার ফিরে আসে। ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’-এর পরিচালক সোহানুর রহমান সোহানের উদ্যোগে নামটি নতুনভাবে সাজানো হয়। প্রথমে ‘সালমান খান’ রাখার প্রস্তাব এলেও একই নামে বলিউডে অভিনেতা থাকায় তা বাতিল হয়। শেষ পর্যন্ত শাহরিয়ারের ‘শাহ’ অংশটি নিয়ে তৈরি হয় নাম—‘সালমান শাহ’।

এই নামেই পরবর্তীতে তিনি কোটি দর্শকের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন।

চলচ্চিত্রে আসার আগেও ছিল অভিনয়ের অভিজ্ঞতা

সালমান শাহের চলচ্চিত্রে আসার পথটিও ছিল কিছুটা আকস্মিক। আশির দশকের শেষদিকে চলচ্চিত্র নির্মাতা আলমগীর কবির ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ উপন্যাস অবলম্বনে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু করলে সেখানে রইস চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান সালমান।

তবে ১৯৮৯ সালে আলমগীর কবিরের আকস্মিক মৃত্যুর পর সেই চলচ্চিত্র আর আলোর মুখ দেখেনি।

এরপর বলিউডের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তক’-এর সাফল্যের পর সেটির অনুমোদিত বাংলা পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেয় আনন্দমেলা সিনেমা লিমিটেড। পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান নতুন মুখ খুঁজছিলেন। ১৯৯২ সালে সালমান শাহের কাছে প্রস্তাব আসে।

প্রথমদিকে তার বাবা-মা চলচ্চিত্রে অভিনয়ের বিষয়ে রাজি ছিলেন না। তবে ছেলের আগ্রহ দেখে শেষ পর্যন্ত তারা সম্মতি দেন। ১৯৯৩ সালের মার্চে মুক্তি পায় ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’। সিনেমাটি ব্যবসায়িকভাবে বড় সাফল্য পাওয়ার পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি সালমান শাহকে।

মাত্র ২৫ বছরেই থেমে যায় জীবন

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর। সকাল থেকেই ঢাকার নিউ ইস্কাটনের বাসায় ছিলেন সালমান শাহ। স্ত্রী সামিরা হককে নিয়ে ওই বাসায় থাকতেন তিনি। কাছেই গ্রিনরোডের বাসায় থাকতেন তার বাবা-মা।

সেদিন সকালে ছেলে সালমানের সঙ্গে দেখা করতে ইস্কাটনের বাসায় যান বাবা কমরউদ্দিন চৌধুরী। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করেও ছেলের দেখা না পেয়ে তিনি ফিরে যান।

পরে খবর পেয়ে নীলা চৌধুরীসহ পরিবারের সদস্যরা ইস্কাটনের বাসায় ছুটে যান। সেখানে শোবার ঘরে খাটের ওপর সালমান শাহকে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

তাকে প্রথমে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানান, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।

এরপর ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ নেওয়া হয় চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন—এফডিসিতে। সেখানে সহকর্মী ও অসংখ্য ভক্ত শেষবারের মতো প্রিয় নায়ককে দেখতে ভিড় করেন।

পরে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় সিলেটে। হযরত শাহজালালের মাজারসংলগ্ন কবরস্থানে দাফন করা হয় তাকে।

আত্মহত্যা নাকি হত্যা—প্রশ্নের উত্তর মেলেনি

সালমান শাহের মৃত্যুর পর থেকেই ঘটনাটি নিয়ে তৈরি হয় নানা প্রশ্ন। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রথম ময়নাতদন্তে তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

কিন্তু পরিবারের সদস্যরা সেই সিদ্ধান্ত মেনে নেননি। তাদের সন্দেহের ভিত্তিতে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত করা হয়। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে করা সেই ময়নাতদন্তেও আত্মহত্যার আলামত পাওয়ার কথা জানানো হয়।

পরবর্তী সময়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ—সিআইডি তদন্ত করে। ১৯৯৭ সালে দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনেও মৃত্যুর কারণ হিসেবে আত্মহত্যার কথা বলা হয়।

পরিবার প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করলে ২০০৩ সালে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। প্রায় ১১ বছর পর ২০১৪ সালে দেওয়া প্রতিবেদনে মৃত্যুকে অপমৃত্যু হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

এরপরও বিষয়টি থেমে থাকেনি। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৬ সালে র‍্যাবকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে ২০১৭ সালে সালমান শাহ হত্যার অভিযোগ করে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী রাবেয়া সুলতানা রুবির একটি ভিডিও বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। যদিও পরবর্তীতে তিনি সেই বক্তব্য প্রত্যাহার করেন।

পিবিআইয়ের তদন্তেও আত্মহত্যার কথা

সালমান শাহের মৃত্যু তদন্তের দায়িত্ব পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন—পিবিআইকে দেওয়া হয়। ২০২০ সালে প্রায় ৬০০ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় সংস্থাটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছেন। মৃত্যুর আগে তিনি একটি সুইসাইড নোট রেখে গিয়েছিলেন এবং সেখানে তার মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী করা হয়নি বলেও উল্লেখ করা হয়।

তবে পরিবার পিবিআইয়ের প্রতিবেদনও প্রত্যাখ্যান করে।

ফলে এতগুলো তদন্ত ও প্রতিবেদন সত্ত্বেও সালমান শাহের মৃত্যু নিয়ে বিতর্ক পুরোপুরি শেষ হয়নি।

২৯ বছর পর হত্যা মামলা

দীর্ঘ ২৯ বছর পর ২০২৫ সালে সালমান শাহের মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা গ্রহণ করে আদালত এবং পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।

পরে তার মামা আলমগীর কুমকুম রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় সালমানের সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, সাবেক শাশুড়ি লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী ও চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, অভিনেতা আশরাফুল হক ডন, বিউটিশিয়ান রাবেয়া সুলতানা রুবি ও রেজভী আহম্মেদসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়।

মামলাটি বর্তমানে সিআইডি তদন্ত করছে। অভিযুক্তদের কয়েকজন দেশে না থাকায় এবং কয়েকজন আত্মগোপনে থাকায় তাদের সবার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সম্প্রতি অভিনেতা আশরাফুল হক ডন বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এর আগে তিনি সালমান শাহ হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সিআইডি জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত এই মামলায় সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।

অভিযুক্তদের বক্তব্যেও ভিন্ন ব্যাখ্যা

সালমান শাহের পরিবার শুরু থেকেই তার সাবেক স্ত্রী সামিরা হককে মৃত্যুর জন্য দায়ী করে আসছে। তবে সামিরা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

তিনি অবশ্য স্বীকার করেছেন, মৃত্যুর আগে সালমানের সঙ্গে তার মনোমালিন্য হয়েছিল। এর অন্যতম কারণ ছিল নায়িকা শাবনূরকে ঘিরে তাদের দাম্পত্য জীবনে তৈরি হওয়া টানাপোড়েন।

সালমানের সঙ্গে শাবনূরের প্রেম বা বিয়ের গুঞ্জন তখন চলচ্চিত্র অঙ্গনে ব্যাপক আলোচিত ছিল। তবে শাবনূর বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন, সালমানের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

অন্যদিকে অভিনেতা ডনও সালমানের মৃত্যুর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। রেজভী আহম্মেদও পরে দাবি করেন, তাকে চাপ দিয়ে জবানবন্দি দেওয়া হয়েছিল এবং সালমানের মৃত্যুর সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই।

‘এখনো মিস করি’

সালমান শাহের আকস্মিক মৃত্যু শুধু তার পরিবার ও ভক্তদের নয়, পুরো চলচ্চিত্র অঙ্গনকেই নাড়া দিয়েছিল।

তার মৃত্যুর সময় বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রের কাজ চলছিল। কোনো কোনো সিনেমার বড় অংশের শুটিং বাকি থাকায় সেগুলোর কাজ বন্ধ হয়ে যায়। আবার কিছু চলচ্চিত্রে তার মতো দেখতে তরুণদের ব্যবহার করে অসমাপ্ত দৃশ্য শেষ করার চেষ্টা করা হয়।

চলচ্চিত্র পরিচালক জাকির হোসেন রাজুর ভাষায়, সালমানের শূন্যতা কখনোই পূরণ করা সম্ভব হয়নি। এখনো কোনো দুরন্ত বা রোমান্টিক চরিত্র লেখার সময় তার কথা মনে পড়ে।

প্রজন্মের পর প্রজন্মে কেন জনপ্রিয় সালমান?

সালমান শাহের জনপ্রিয়তার অন্যতম বড় কারণ তার অভিনয়ের স্বাভাবিকতা। সংলাপ বলার ধরন, চোখের অভিব্যক্তি, চলাফেরা এবং ফ্যাশন—সবকিছুতেই ছিল আলাদা বৈশিষ্ট্য।

তার ভক্তদের অনেকেই এখনো তার পোশাক ও স্টাইল অনুসরণ করেন। কেউ কেউ তার চুলের ধরন, ঘড়ি পরার স্টাইল কিংবা বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গিও অনুকরণ করেন।

বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে সালমান শাহের সিনেমা এখনো আকর্ষণীয়। ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার চলচ্চিত্র, গান ও বিভিন্ন দৃশ্য নতুন করে দর্শকদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।

চলচ্চিত্র গবেষক ও নির্মাতাদের মতে, সালমান শাহের অভিনীত অনেক সিনেমার গল্প ও চরিত্র ছিল তরুণদের আবেগ, প্রেম ও রোমান্সকেন্দ্রিক। ফলে নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছেও তার উপস্থিতি সহজেই গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে।

এর সঙ্গে যোগ হয়েছে তার অকাল মৃত্যু। চলচ্চিত্র পরিচালক ড. মতিন রহমানের মতে, স্বাভাবিকভাবে মৃত্যু হলে হয়তো সালমান শাহকে ঘিরে এত দীর্ঘস্থায়ী কৌতূহল তৈরি হতো না।

তিন দশক পরও অমর এক নাম

সালমান শাহের মৃত্যুর ৩০ বছর পেরিয়ে গেছে। বদলে গেছে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ভাষা, প্রযুক্তি, দর্শকের রুচি এবং বিনোদনের মাধ্যম। এসেছে নতুন প্রজন্মের অসংখ্য নায়ক-নায়িকা।

কিন্তু সালমান শাহ এখনো আলাদা।

তার কবর দেখতে শত শত কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে সিলেটে ছুটে যান ভক্তরা। নতুন প্রজন্ম তার সিনেমা দেখে, পোশাক অনুসরণ করে, গান শোনে এবং তার মৃত্যুর রহস্য নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

সবচেয়ে বড় কথা, তিন দশক পরও সালমান শাহকে ভুলতে পারেনি দর্শক।

তার মৃত্যু আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড—এই প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর এখনো অধরা। নতুন করে শুরু হওয়া তদন্ত সেই রহস্যের জট খুলতে পারে কি না, সেটিই এখন সালমান শাহের পরিবার, ভক্ত এবং চলচ্চিত্রপ্রেমীদের অপেক্ষার বিষয়।

তবে একটি বিষয় নিশ্চিত—মাত্র চার বছরের চলচ্চিত্র জীবন একজন শিল্পীকে যে উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে, সালমান শাহ তারই বিরল উদাহরণ। পর্দা থেকে বিদায় নিয়েছেন বহু বছর আগে, কিন্তু দর্শকের ভালোবাসায় এখনো তিনি একই রকম জীবন্ত।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স
স্টার্লিংয়ের নেতৃত্বে বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ড

স্টার্লিংয়ের নেতৃত্বে বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ড