নিউজ বাংলা ডেস্ক : একজন আদর্শ শিক্ষকের কখনও মৃত্যু হয় না। তিনি তাঁর সততা, দক্ষতা, যোগ্যতা, দেশপ্রেম, ত্যাগের মহিমা ও নৈতিকতার মাধ্যমে ছাত্রদের মনোজগতে অমরত্বের বীজ বপন করে যান।
নড়াইল সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সিঙ্গাশোলপুর কালীপ্রসন্ন(কেপি)
মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী শিক্ষক বাবু নিরদ কুমার বিশ্বাস (৮৯) নামে এক শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার দুপুর ২:৩০টার দিকে নিজ বাসগৃহে তাঁর মৃত্যু হয়। গুণী এই শিক্ষকের মৃত্যুতে স্কুলের বর্তমান ও প্রাক্তন সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে।
জানা যায়, সহকারী শিক্ষক নিরদ কুমার বিশ্বাস সিঙ্গাশোলপুর কেপি মাধ্যমিক
বিদ্যালয়ের গনিত বিষয়ের একজন আদর্শ শিক্ষক ছিলেন। জ্যামিতি বিষয়ে ছিলেন
প্রখর জ্ঞানের অধিকারী। স্কুলে
ভর্তিকৃত সকল শিক্ষার্থীদের তিনিই প্রথম গণিতের হাতেখড়ি দিতেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ দিন ধরে তিনি বার্ধক্য রোগে ভুগছিলেন। বুধবার(৩০ জুলাই) দুপুর ২:৩০ টার দিকে তিনি স্ট্রোক করেছে বলে ধারনা
করা যাচ্ছে। তিনি পাঁচ ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
নিরদ কুমার বিশ্বাসের মৃত্যুতে সিঙ্গাশোলপুর কেপি মাধ্যমিক
বিদ্যালয় প্রাক্তন শিক্ষার্থী কল্যান সমিতি গভীর শোক প্রকাশ করেছে। এক শোক বার্তায়
নিউজ বাংলার সম্পাদক সৈয়দ এম এ জিন্নাহ্ বলেন, “শিক্ষকতার জগতে নিরদ স্যার দৃষ্টান্ত
স্থাপন করেছেন। তিনি ছিলেন শিক্ষকতার আলোকবর্তিকা। তাঁর সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্ব সব শিক্ষকদের জন্য অনুকরণীয়। তাঁর মৃত্যুতে জাতি একজন দক্ষ ও
দায়িত্বশীল মানুষ গড়ার কারীগর হারাল। আমি তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার ও সহকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।”
নিরদ কুমার বিশ্বাস এর মৃত্যুতে নড়াইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্চিতা
বিশ্বাস, বিভিন্ন শ্রেনি পেশার মানুষ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকবৃন্দ গভীর শোক এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শিক্ষক নিরদ কুমার বিশ্বাসের মরদেহ বড়গাতী শসানঘাটে রাত ৮টায় শেষকৃত্য দেওয়া হবে বলে পরিবারের স্বজনরা জানান।
নিউজ বাংলা চ্যানেল