এ কার্যক্রমে একটি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার (এনজিও) সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছেন সালমান। এর আগে তাঁর সংস্থা ‘বিইং হিউম্যান’-এর পক্ষ থেকে বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকায় খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছিল।
এবার ত্রাণ কার্যক্রমের দ্বিতীয় ধাপে জরুরি সহায়তার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ‘মিড-ডে’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি নেপালি খুটি গ্রামে ইতোমধ্যে প্রায় ২২০টি আধা স্থায়ী ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, বন্যাদুর্গতদের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা ত্রাণ কার্যক্রমের শুরু থেকেই ছিল। তবে অভিনেতা রণদীপ হুদাকে সরেজমিনে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করতে দেখে এ উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেন সালমান।
বন্যাকবলিত এলাকায় গিয়ে রণদীপকে মানুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নিতে দেখেন সালমান। পরে এ বিষয়ে দুজনের মধ্যে কথাও হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রণদীপ সালমানকে জানান, গ্লোবাল শিখসের ত্রাণ কার্যক্রমে ৭০ জন স্বেচ্ছাসেবক একসঙ্গে কাজ করছেন। পাশাপাশি দুর্গতদের জরুরি প্রয়োজনের বিষয়গুলোও তিনি সালমানকে জানান।
এরপর গ্লোবাল শিখসের প্রতিষ্ঠাতা অমরপ্রীত সিং সালমানকে বাঁশ ও টিনের ছাদ দিয়ে আধা স্থায়ী ঘর তৈরির পরিকল্পনার কথা জানান। বন্যাসহ দুর্যোগের সময় তুলনামূলক নিরাপদ থাকার উপযোগী করে এসব ঘর নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি ঘর তৈরিতে আনুমানিক ৩৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার রুপি খরচ হবে।
এই পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত হয়ে সালমান ও সংশ্লিষ্ট সংগঠন যৌথভাবে ৫০০টি আধা স্থায়ী ঘর নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। প্রথম ধাপে ইতোমধ্যে ২২০টি ঘরের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে সেগুলো হস্তান্তর করা হচ্ছে।
ত্রাণ কার্যক্রম সম্পর্কে ‘মিড-ডে’কে অমরপ্রীত সিং বলেন, ‘কয়েক দিন আগে সালমান খান আমাদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন, আর উনি চিন্তা করতে বারণ করেছেন। এই মুহূর্তে শিবসাগর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত, আর এর কেন্দ্র নেপালি খুটি। নির্মাণের প্রথম ধাপে ২২০টি ঘরের কাজ শেষ হয়েছে এবং আমরা সেগুলো প্রতিটি পরিবারের মধ্যে হস্তান্তর করছি। আমরা প্রতিদিন ৮ থেকে ১০টি ঘর নির্মাণ করতে পারি।’
অন্যদিকে, বন্যার শুরু থেকেই দুর্গতদের সহায়তায় সক্রিয় রয়েছেন রণদীপ হুদা। খাবার বিতরণের পাশাপাশি সরাসরি ত্রাণ কার্যক্রমেও অংশ নিচ্ছেন তিনি। শিবসাগর রেলস্টেশনে আশ্রয় নেওয়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য রান্না করে খাবার বিতরণ করছেন এই অভিনেতা।
নিজের ত্রাণ কার্যক্রম প্রসঙ্গে রণদীপ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এটি শিবসাগর রেলস্টেশন। আশপাশের এলাকা থেকে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এখানে এসে আশ্রয় নিয়েছে। তাই আমরা খাবার রান্না করছি, তাদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছি এবং সাত দিন ধরে প্রতিদিনই এই কাজ করছি। মানবতাই সবার আগে। আমি বহু বছর ধরে গ্লোবাল শিখস নামের এই দলের সঙ্গে কাজ করছি। তারা তৃণমূল পর্যায়ে যে কাজ করেছে, তা সত্যিই অসাধারণ। আমি সবাইকে অনুরোধ করব, নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষের পাশে দাঁড়ান। শুধু এখানে নয়, যেখানেই কোনো সমস্যা হোক না কেন। মানুষ হিসেবে মানুষের সাহায্য করা আমাদের দায়িত্ব। আর সে কারণেই আমরা এখানে আছি।
নিউজ বাংলা চ্যানেল