জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে এ তথ্য জানান তিনি। শেরপুর-১ আসনের বিরোধীদলীয় (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য এম রাশেদুল ইসলাম রাশেদের কার্যপ্রণালী বিধির ৭১ বিধিতে উত্থাপিত জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ই-কমার্স ব্যবসা একটি চলমান প্রক্রিয়া। প্রস্তাবিত ই-কমার্স কর্তৃপক্ষ গঠন করা হলে নিবন্ধিত মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম কঠোর নজরদারির আওতায় আনা হবে।
তিনি বলেন, কোভিড-১৯ মহামারির আগে ও পরে দেশে অনলাইন ব্যবসার ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। এসব এমএলএম কোম্পানির কার্যক্রমকে আইনি কাঠামোর মধ্যে আনতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জাতীয় ডিজিটাল কমার্স নীতি, ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা এবং ডিজিটাল বিজনেস আইডেন্টিটি নিবন্ধন নির্দেশিকাসহ বিভিন্ন আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন করেছে।
ই-ভ্যালি, ই-অরেঞ্জ, কিউ-কম, ধামাকা শপিং ও আলিশা মার্টসহ কয়েকটি এমএলএম কোম্পানির বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী জানান, এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে ভোক্তাদের করা অভিযোগের সংখ্যা ৫৮ হাজার ৭২০টি।
এসব অভিযোগের বিপরীতে আর্থিক দাবির পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকা বলে জানান তিনি।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২২ সাল পর্যন্ত দেশে অনলাইন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন ও কার্যক্রম তদারকির জন্য কোনো আইনগত কর্তৃপক্ষ ছিল না। পরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ডিজিটাল বিজনেস আইডেন্টিটি নিবন্ধন নির্দেশিকা জারি করে এবং অনলাইন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিবন্ধনের দায়িত্ব যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরকে (আরজেএসসি) দেওয়া হয়।
তিনি জানান, এখন পর্যন্ত আরজেএসসি প্রায় ১ হাজার ৯০২টি অনলাইন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ডিজিটাল নিবন্ধন দিয়েছে।
এ ছাড়া অনলাইন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগের পর জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে ৫৩১ কোটি টাকা উদ্ধার করেছে বলেও জানান মন্ত্রী।
উদ্ধার হওয়া অর্থের মধ্যে ইতোমধ্যে ৪৭২ কোটি টাকা প্রকৃত ভোক্তাদের হিসাবে বিতরণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট অর্থ প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে প্রকৃত ভোক্তাদের মধ্যে বিতরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
নিউজ বাংলা চ্যানেল