ঢাকা | খ্রি.

জ্বালানি নিরাপত্তায় উৎস বৈচিত্র্যের ওপর গুরুত্ব প্রধানমন্ত্রীর

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 9, 2026 ইং | Photo Card
জ্বালানি নিরাপত্তায় উৎস বৈচিত্র্যের ওপর গুরুত্ব প্রধানমন্ত্রীর ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728
নিউজ বাংলা ডেস্ক : দেশের বাড়তে থাকা বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জ্বালানি ব্যবস্থায় উৎসের বৈচিত্র্য নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বড় অবকাঠামো পরিচালনার ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সক্ষমতা, পরিবেশের ওপর প্রভাব এবং দীর্ঘমেয়াদে জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি।

রবিবার (৯ আগস্ট) কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ীতে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন মাতারবাড়ী আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনের সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এসব নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

সফরসূচি অনুযায়ী, সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে হেলিকপ্টারে করে মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের হেলিপ্যাডে পৌঁছান তিনি। এরপর প্রকল্পের প্রশাসনিক ভবনে গিয়ে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত ব্রিফিং নেন।

ব্রিফিংয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্তমান অবস্থা, উৎপাদন ও পরিচালন কার্যক্রম, সক্ষমতা, জ্বালানি সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনা, পরিচালন দক্ষতা, রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর বিভিন্ন দিক প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে প্রকল্পের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও জানানো হয়।

কর্মকর্তারা জানান, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রটি শতভাগ দেশীয় প্রকৌশলী ও জনবল দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। বিষয়টি জেনে সন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি দেশীয় প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের দক্ষতা ও সক্ষমতার প্রশংসা করে তাদের উৎসাহ দেন।

পরিদর্শনের অংশ হিসেবে প্রকল্প এলাকায় একটি স্মারক নিমগাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুটি ৬০০ মেগাওয়াট ইউনিট রয়েছে, যার মোট উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। এখানে আধুনিক আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশাপাশি কয়লা পরিবহনের জন্য বন্দর সুবিধা, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন, অ্যাকসেস রোডসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) ঋণ সহায়তা দিয়েছে।

দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে ব্রিফিং শেষ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনা ও প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকা সরেজমিনে দেখতে বের হন। ১২টা ২৫ মিনিটে প্রস্তাবিত ৭০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের স্থান পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে ১২টা ২৯ মিনিটে সেখানে পৌঁছান। সেখানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিকল্পনা এবং সম্ভাব্য উৎপাদন সক্ষমতা সম্পর্কে তাকে অবহিত করেন।

একই এলাকায় প্রস্তাবিত এলএনজি-ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মেট্রোকেমিক্যাল প্রকল্প ও নতুন রিফাইনারির জন্য নির্ধারিত স্থানও পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী।

পরে তিনি এলপিজি, এলএনজি ও কয়লা টার্মিনাল-সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো এবং প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকাগুলো ঘুরে দেখেন। এসব প্রকল্পের পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ ব্যবহার সম্পর্কে কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে মতামত ও দিকনির্দেশনা দেন।

এরপর কোল জেটি পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন স্থাপনা পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। কয়লা পরিবহন ও খালাসের জন্য প্রয়োজনীয় বন্দর অবকাঠামোর সঙ্গে বিদ্যুৎকেন্দ্রের সমন্বিত কার্যক্রম সম্পর্কেও তাকে অবহিত করা হয়।

এ ছাড়া প্রস্তাবিত অস্থায়ী এলপিজি জেটি এবং ভবিষ্যতে ৩ ও ৪ নম্বর কোল পাওয়ার প্ল্যান্ট নির্মাণের জন্য নির্ধারিত স্থানও দেখেন প্রধানমন্ত্রী। এসব প্রকল্পের সম্ভাব্য পরিকল্পনা ও অবকাঠামোগত বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তার সামনে তুলে ধরেন।

দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটের মধ্যে প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনা ও প্রস্তাবিত এলাকা পরিদর্শন শেষ করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর তিনি হেলিপ্যাডের দিকে রওনা হন।

পরিদর্শনের সময় দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ও দক্ষ ব্যবহার, প্রকল্প পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত জ্বালানি পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

মাতারবাড়ীকে ঘিরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প অবকাঠামোর সমন্বিত উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তার মতে, এসব অবকাঠামোর পরিকল্পিত ও কার্যকর ব্যবহার দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, শিল্পায়ন এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মাতারবাড়ী প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য হলো দেশের স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানো এবং জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী করা। বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশাপাশি কয়লা পরিবহনের বন্দর, সঞ্চালন লাইন ও অ্যাকসেস রোডসহ সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোও এই বৃহৎ প্রকল্পের অংশ।

পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী নিরাপত্তা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামসুল ইসলাম, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, বিশেষ রাজনৈতিক সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মৃধাসহ অন্যরা।

পরিদর্শন শেষে দুপুর ১টা ৫ মিনিটে হেলিকপ্টারে করে মাতারবাড়ী ত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স
স্লোভাকিয়াকে গোলবন্যায় ভাসিয়ে বিশ্বকাপে জার্মানি, সঙ্গী ডাচর

স্লোভাকিয়াকে গোলবন্যায় ভাসিয়ে বিশ্বকাপে জার্মানি, সঙ্গী ডাচর