ইনিংস শেষ হওয়ার পর মাঠ ছাড়ার সময় হাসানকে অভিনন্দন জানান অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটার অ্যাডাম গিলক্রিস্ট। চলতি সিরিজে ধারাভাষ্যকারের দায়িত্বে থাকা গিলক্রিস্ট বাংলাদেশি পেসারের কাছে তার সাফল্যের কারণ জানতে চান। জবাবে হাসান জানান, লাইন ও লেংথ ঠিক রেখে ধারাবাহিকভাবে বোলিং করাই তার সাফল্যের মূল কারণ।
এক টেস্ট ইনিংসে এর আগে দুইবার পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি ছিল হাসানের। এবার সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে এক ইনিংসে ৬ উইকেট নিয়ে নিজের ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করেছেন তিনি।
প্রথম সেশনেই অস্ট্রেলিয়ার চার ব্যাটারকে সাজঘরে ফেরায় বাংলাদেশ। জেক ওয়েদারাল্ড ও ট্রাভিস হেড উদ্বোধনী জুটিতে ৪৫ রান যোগ করে ভালো শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে দুজনকেই ফিরিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে এগিয়ে দেন হাসান।
স্টিভেন স্মিথ অবশ্য মাত্র ২ রানে ফিরতে পারতেন। তানজিদ তামিম তার ক্যাচের সুযোগ কাজে লাগাতে না পারায় বেঁচে যান তিনি। পরে স্মিথই দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৭১ রান করেন।
মারনাস লাবুশেনকে আউট করে নিজের কার্যকারিতা দেখান ইবাদত হোসেন। প্রথম সেশন শেষ হওয়ার ঠিক আগে ক্যামেরন গ্রিনকে মুশফিকুর রহিমের ক্যাচে পরিণত করেন তাসকিন আহমেদ।
দ্বিতীয় সেশনে স্মিথ ও অ্যালেক্স ক্যারি মিলে ৫৬ রানের জুটি গড়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপর্যয় সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু জুটি বড় হওয়ার আগেই ক্যারিকে বোল্ড করে ফেরান ইবাদত। এরপর বিউ ওয়েবস্টার, প্যাট কামিন্স ও মিচেল স্টার্ক কেউই স্মিথকে দীর্ঘ সময় সঙ্গ দিতে পারেননি।
একপর্যায়ে ধৈর্য হারিয়ে বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দিয়ে আউট হন স্মিথ। এরপর শেষ সেশনের শুরুতে নাথান লায়নকে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের সমাপ্তি টানেন হাসান। তার আগে-পরে আরও দুই উইকেট নিয়ে নিজের ছয় উইকেট পূর্ণ করেন এই পেসার।
নাহিদ রানা চোটের কারণে সিরিজে না থাকলেও হাসান, তাসকিন ও ইবাদত মিলে তার অভাব বুঝতে দেননি। তাসকিন ও ইবাদত নিয়েছেন দুটি করে উইকেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস: ৫৩ ওভারে ১৯৮ অলআউট (স্মিথ ৭১, ওয়েদারাল্ড ২৩, হেড ২২; হাসান ৬/৫৫, ইবাদত ২/৩৯, তাসকিন ২/৫৫)।
নিউজ বাংলা চ্যানেল