ঢাকা | খ্রি.

সরকারের প্রথম ছয় মাসে ৪৬৪ অপতথ্য শনাক্ত, নেতিবাচক বার্তা ছিল ৯১ শতাংশে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 24, 2026 ইং | Photo Card
সরকারের প্রথম ছয় মাসে ৪৬৪ অপতথ্য শনাক্ত, নেতিবাচক বার্তা ছিল ৯১ শতাংশে ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728
নিউজ বাংলা ডেস্ক : রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর প্রথম ছয় মাসে সরকার ও সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে অনলাইনে ৪৬৪টি অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে। এসব কনটেন্টের প্রায় ৯১ শতাংশেই সরকারবিরোধী বা নেতিবাচক বার্তা ছিল বলে জানিয়েছে অনলাইন ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমার স্ক্যানার।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত এসব অপতথ্য শনাক্ত করা হয়। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকারের প্রথম ১৮০ দিনে সরকার, সরকারের নেতৃত্ব, মন্ত্রী-উপদেষ্টা, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী এবং সংসদ সদস্যদের ঘিরে এসব কনটেন্ট ছড়ানো হয়েছে।

মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী ও সংসদ সদস্যদের কেন্দ্র করে অন্তত ২৬২টি অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে। এর প্রায় ৯৯ শতাংশই ছিল নেতিবাচক।

রিউমার স্ক্যানারের হিসাবে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ঘিরেই সবচেয়ে বেশি অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে। তাঁকে কেন্দ্র করে শনাক্ত হওয়া ১৫৭টি অপতথ্যের প্রায় ৭৮ শতাংশ ছিল নেতিবাচক। এসব কনটেন্ট তৈরিতে সার্কাজম পোস্ট, ভুয়া বক্তব্য, গণমাধ্যমের আদলে তৈরি ফটোকার্ড, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং পুরনো ছবি-ভিডিও ব্যবহারের মতো বিভিন্ন পদ্ধতি নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে শনাক্ত হওয়া অপতথ্যের মধ্যে সার্কাজম পেজের পোস্ট ছিল ৩৪টি, ভুয়া বক্তব্য ৩০টি এবং গণমাধ্যমের আদলে তৈরি ভুয়া ফটোকার্ড ২২টি। এআই দিয়ে তৈরি বা সম্পাদিত কনটেন্ট পাওয়া গেছে ১৯টি। পাশাপাশি পুরনো ছবি-ভিডিওকে নতুন ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করে সাতটি এবং সম্পাদিত ছবি ব্যবহার করে পাঁচটি অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে।

মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অপতথ্যের শিকার হয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁকে নিয়ে শনাক্ত হওয়া ৪৮টি অপতথ্যের সবগুলোই নেতিবাচক।

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে ঘিরে ৩৩টি এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনকারী ও বর্তমান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নিয়ে ২৬টি অপতথ্য শনাক্ত করা হয়েছে।

এ ছাড়া হাফিজ উদ্দিন আহমদকে ঘিরে ২৩টি, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভীকে নিয়ে ১৬টি এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নিয়ে ১৫টি অপতথ্য পাওয়া গেছে। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস ও তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানকে ঘিরে ১৪টি করে অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরকে নিয়ে ১১টি, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে নিয়ে আটটি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে ঘিরে সাতটি অপতথ্য শনাক্ত করেছে রিউমার স্ক্যানার। এছাড়া সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমকে ঘিরে ছয়টি, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানকে নিয়ে পাঁচটি, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে নিয়ে চারটি এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকিকে ঘিরে তিনটি অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে।

সরকারের নারী নেত্রী ও সংসদ সদস্যরাও এসব অপতথ্যের বাইরে ছিলেন না। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদকে ঘিরে চারটি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনকারী আফরোজা খানম রিতাকে নিয়ে একটি অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে।

সংসদ সদস্যদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অপতথ্যের শিকার হয়েছেন ফজলুর রহমান। তাঁকে কেন্দ্র করে ১৬টি অপতথ্য পাওয়া গেছে। লুৎফুজ্জামান বাবরকে ঘিরে পাঁচটি, মানসুরা আলমকে নিয়ে তিনটি এবং বরকতউল্লা বুলু, মনিরুল হক চৌধুরী, শাহাদাত হোসেন সেলিম ও নিলোফার চৌধুরী মনিকে ঘিরে দুটি করে অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে।

রিউমার স্ক্যানারের তথ্য অনুযায়ী, সরকার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে অপতথ্য ছড়াতে একাধিক কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভুয়া বক্তব্য, নকল ফটোকার্ড, পুরনো ছবি ও ভিডিও, ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর কনটেন্ট।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ