নিজস্ব প্রতিবেদক:
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত মহাসড়ক নির্মাণে অন্তত দুটি বড় সেতুসহ বেশ কয়েকটি ছোট সেতু নির্মাণের প্রয়োজন হবে। সেতু বিভাগের প্রাথমিক প্রস্তাবনায় প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছে। তবে সড়ক বিভাগ মনে করছে, পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন কৌশল ঠিকভাবে নির্ধারণ করা গেলে ৮ থেকে ১০ হাজার কোটি টাকার মধ্যেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতে পারে।
বর্তমানে রহমতপুর থেকে বরিশাল হয়ে ভোলা যাওয়ার সড়কপথের দূরত্ব প্রায় ৫৮ কিলোমিটার। এই পথে যানজটের কারণে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অতিরিক্ত সময় লাগে। পাশাপাশি নদীপথের ওপর নির্ভরশীলতা থাকায় দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতে দীর্ঘদিন ধরে নানা ভোগান্তি রয়েছে। প্রস্তাবিত বাইপাস মহাসড়ক নির্মিত হলে সড়ক যোগাযোগ আরও সরাসরি ও দ্রুত হবে। এতে ঢাকা ও বরিশালের সঙ্গে ভোলার যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শুধু যোগাযোগ নয়, অর্থনৈতিকভাবেও এই প্রকল্পকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মুলাদী, হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জের মানুষের প্রত্যাশা, মহাসড়কটি নির্মিত হলে দীর্ঘদিনের অবহেলিত জনপদগুলোতে ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিপণ্য পরিবহন, শিল্প ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার ক্ষেত্রেও নতুন অবকাঠামো সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, ‘বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকা এই অঞ্চলের মানুষের যাতায়াত সহজ করতে এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। মুলাদী, হিজলা, মেহেন্দিগঞ্জ ও ভোলার মানুষের দীর্ঘদিনের দুঃখ ঘোচাতে এই মহাসড়ক বড় ভূমিকা রাখবে।’ তবে ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার বিষয়টি এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে বলেও জানান তিনি।
রহমতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব রাজন সিকদার বলেন, ‘এই মহাসড়ক হলে নদীপথে ট্রলারের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করার কষ্ট থাকবে না। যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হলে অবহেলিত এই জনপদগুলোর অর্থনীতিতেও নতুন গতি আসবে।’
তবে সড়ক বিভাগের প্রকৌশলীরা আপাতত মহাসড়ক ও সেতু নির্মাণের বিষয়টিকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। বরিশাল সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, মহাসড়কের সঙ্গে গ্যাস সংযোগের বিষয়টি আলাদা। এটি সরকারের অন্য কোনো পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। বর্তমানে তারা বিদ্যমান সড়ক সংস্কার এবং নতুন সড়ক নির্মাণের প্রস্তাবনা নিয়ে কাজ করছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রস্তাবিত রহমতপুর-মুলাদী-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা মহাসড়ক বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণাঞ্চলের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা অনেকটাই কমবে। পাশাপাশি নতুন বাণিজ্যিক কেন্দ্র গড়ে ওঠা, কৃষিপণ্য দ্রুত পরিবহন এবং শিল্পায়নের সম্ভাবনাও তৈরি হবে। ফলে বাস্তবায়নের অপেক্ষায় থাকা এই মহাসড়ক দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হয়ে উঠতে পারে।
নিউজ বাংলা চ্যানেল