নিজস্ব প্রতিবেদন
চ্যাম্পিয়নস লিগে দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়েছে স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনা। তুরস্কের মাটিতে স্বাগতিক গালাতাসারাইকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে হান্সি ফ্লিকের দল। শুরুতে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে বড় জয় নিশ্চিত করে কাতালান ক্লাবটি। ম্যাচে লামিনে ইয়ামালের জোড়া অ্যাসিস্টে গোল করেন জোয়াও ক্যানসেলো, ফারমিন লোপেজ ও অ্যান্থনি গর্ডন। এ ছাড়া একটি গোল করেন করিম আদেয়েমি।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে বার্সেলোনা। পেদ্রির বাড়ানো বল থেকে গোলের সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি গর্ডন। ইয়ামালের ক্রস থেকে ড্যানি ওলমোর হেডও লক্ষ্যে থাকেনি। একের পর এক সুযোগ তৈরি করেও গোল না পাওয়ার খেসারত দিতে হয় সফরকারীদের।
ম্যাচের ২৮ মিনিটে রাফায়েল লেয়াওয়ের কাটব্যাক থেকে বল পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শটে গোল করেন আলেক্সেই বাতরাকভ। জোয়াও ক্যানসেলোর গায়ে লেগে বলের দিক পরিবর্তন হওয়ায় তা ঠেকাতে ব্যর্থ হন বার্সার গোলরক্ষক হোয়ান গার্সিয়া। এতে এগিয়ে যায় গালাতাসারাই।
ছয় মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পায় স্বাগতিকরা। বাতরাকভের কর্নার থেকে ভিক্টর ওসিমেনের ফ্লিক করা বল হেডে জালে পাঠান বারিস আলপার ইলমাজ। তবে ভিএআরের সহায়তায় অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল করেন রেফারি। ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এই সিদ্ধান্ত।
বিরতির ঠিক আগে সমতায় ফেরে বার্সেলোনা। ডাভিনসন সানচেজের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে ওলমো সেটি বাড়িয়ে দেন ক্যানসেলোকে। এরপর নিখুঁত বাঁকানো শটে দূরের পোস্টের নিচের কোণ দিয়ে বল জালে পাঠান পর্তুগিজ ডিফেন্ডার। ফলে ১-১ সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমেই গোলের সুযোগ তৈরি করে বার্সেলোনা। তবে ইয়ামালের দুর্দান্ত পাস পেয়েও লক্ষ্যভ্রষ্ট হন গর্ডন। শেষ পর্যন্ত ৫০ মিনিটে আর রুখে দাঁড়াতে পারেনি গালাতাসারাই। ডান দিক থেকে ইয়ামালের চিপ করা বলের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে হেডে গোল করেন ফারমিন লোপেজ। এতে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বার্সা।
এর মাত্র তিন মিনিট পর ব্যবধান বাড়ান গর্ডন। ডান প্রান্তে দুর্দান্ত ড্রিবলিংয়ে কয়েকজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বল বাড়িয়ে দেন ইয়ামাল। এবার আর সুযোগ হাতছাড়া করেননি গর্ডন। নিচু শটে নিকট পোস্ট দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে বার্সেলোনার লিড করেন ৩-১।
বার্সেলোনার চতুর্থ গোলেও অবদান রাখেন ইয়ামাল। তাঁর থ্রু বল পেয়ে গ্যাব্রিয়েল জেসুসের ভারী টাচে বল চলে আসে আদেয়েমির সামনে। এরপর শক্তিশালী শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন জার্মান ফরোয়ার্ড। এতে ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ফ্লিকের দল।
শেষ দিকে ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল বার্সেলোনা। ইয়ামালের একটি শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। আদেয়েমির আরেকটি প্রচেষ্টা লাগে সাইড নেটে। তবে আর গোল না হলেও বড় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে কাতালানরা।
পরিসংখ্যানেও বার্সেলোনার আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। ম্যাচে তাদের প্রত্যাশিত গোলের পরিমাণ (এক্সপেক্টেড গোল বা এক্সজি) ছিল ২.৮৩, বিপরীতে গালাতাসারাইয়ের মাত্র ০.৪৩। একাই পাঁচটি গোলের সুযোগ তৈরি করেন ইয়ামাল। ম্যাচে পাঁচটি শটও নেন তিনি, যা গর্ডনের শটসংখ্যার সমান।
এক ম্যাচে দুই অ্যাসিস্ট করা ইয়ামালের জন্য অবশ্য নতুন কোনো ঘটনা নয়। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে বার্সেলোনার জার্সিতে এক ম্যাচে দুই অ্যাসিস্ট করার কীর্তি এটি তাঁর অষ্টমবার। এর মধ্যে চলতি মৌসুমেই চারবার এমন পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন এই স্প্যানিশ তরুণ।
রক্ষণে কিছুটা দুর্বলতা থাকলেও আক্রমণে বার্সেলোনার ধার যেন কমছেই না। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে লা লিগার আট ম্যাচে ৩৪ গোল করেছে দলটি। চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রথম ম্যাচে ফেইনুর্ডকে ৫-১ গোলে হারানোর পর এবার গালাতাসারাইকেও উড়িয়ে দিল তারা। ফ্লিকের অধীনে চ্যাম্পিয়নস লিগে ২৮ ম্যাচে বার্সেলোনার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৪।
তবে সামনে অপেক্ষা করছে আরও কঠিন পরীক্ষা। আগামী মঙ্গলবার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেন্ট-জার্মেইনের মাঠে খেলতে নামবে বার্সেলোনা। সেই ম্যাচে ফ্লিকের দলের আক্রমণভাগকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। গালাতাসারাইয়ের বিপক্ষে পাওয়া বড় জয় আত্মবিশ্বাস বাড়ালেও পিএসজির বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্যের আরও বড় প্রমাণ দিতে হবে কাতালানদের।
নিউজ বাংলা চ্যানেল