বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত অর্থবছরের একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৭৫৮ কোটি ডলার। সে তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১০১ কোটি ডলার বা ১৩ দশমিক ২৮ শতাংশ।
রেমিট্যান্স বৃদ্ধির এ প্রবণতা অক্টোবরেও অব্যাহত রয়েছে। চলতি মাসের প্রথম ১১ দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ১১৭ কোটি ডলার। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ৯৯ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে মাসের প্রথম ১১ দিনে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৮ শতাংশের বেশি।
রেমিট্যান্স পাঠানোয় শীর্ষে সৌদি আরব
চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে সৌদি আরব থেকে। দেশটি থেকে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ১৬৫ কোটি ডলার। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা যুক্তরাজ্য থেকে এসেছে ১২২ কোটি ডলার।
অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৭৭ কোটি ৭৬ লাখ ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৭৭ কোটি ৪৮ লাখ ডলার এসেছে। তালিকার পঞ্চম স্থানে থাকা মালয়েশিয়া থেকে এসেছে প্রায় ৬৭ কোটি ডলার।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধি এবং হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের কঠোর অবস্থান রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এক বছরে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসীরা বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে ৩৫ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছেন। আগের অর্থবছরের তুলনায় এ আয় ১৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেশি। এর আগের অর্থবছরে রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি ছিল ২৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ।
প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক বৃদ্ধি বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতেও সহায়তা করছে। দীর্ঘদিন ধরে ডলারের বিনিময় হার ১২৩ টাকার আশপাশে রয়েছে।
এদিকে, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে দেশের আমদানি ব্যয় বেড়েছে ১২ দশমিক ২০ শতাংশ। একই সময়ে রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পেয়েছে ৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ। আমদানি ব্যয় বাড়লেও রেমিট্যান্সের ঊর্ধ্বমুখী প্রবাহের মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬ বিলিয়ন ডলারের ওপরে রয়েছে।
রিজার্ভ ৩৬ বিলিয়ন ডলারের ওপরে
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, গত ১১ অক্টোবর দেশের মোট বা গ্রস বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩৬ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩১ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার।
এর আগে গত জুনে দেশের গ্রস রিজার্ভ বেড়ে ৩৭ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। তখন বিপিএম৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩২ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন ডলার।
২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় দেশের গ্রস রিজার্ভ কমে ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছিল। সে সময় আইএমএফের বিপিএম৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভ ছিল ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার।
এর আগে ২০২১ সালের আগস্টে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রথমবারের মতো ৪৮ বিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছিল। পরে রিজার্ভ কমে গেলেও সাম্প্রতিক সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং অন্যান্য কারণে তা আবারও ৩৬ বিলিয়ন ডলারের ওপরে উঠেছে।
নিউজ বাংলা চ্যানেল