ঢাকা | খ্রি.

পরিচয় চুরি করে মার্কিন ছাত্র সহায়তার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ কেনীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 31, 2026 ইং | Photo Card
পরিচয় চুরি করে মার্কিন ছাত্র সহায়তার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ কেনীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728
নিউজ বাংলা ডেস্ক : অন্যের পরিচয় ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে ভুয়া শিক্ষার্থী তৈরি এবং তাদের নামে সরকারি ছাত্র সহায়তার অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কেনিয়ার নাগরিক ফ্রান্সিস মোগাম্বির বিরুদ্ধে। মার্কিন বিচার বিভাগের ‘অপারেশন ঘোস্টবাস্টার্স’ নামের বৃহত্তর জালিয়াতিবিরোধী তদন্তের অংশ হিসেবে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তদন্তকারীদের হিসাবে, এ ধরনের প্রতারণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ১৩ কোটি ডলারের সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতি শনাক্ত হয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের মে মাসে ডাইভারসিটি ভিসা লটারির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে যান মোগাম্বি। এ কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন দেশের নাগরিকেরা যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পান। দেশটিতে যাওয়ার দুই বছরের কিছু বেশি সময়ের মধ্যেই সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তদন্তের মুখে পড়েন তিনি।

২০২৬ সালের ১৯ অক্টোবর নেব্রাস্কার একটি গ্র্যান্ড জুরি মোগাম্বির বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ চুরির পাঁচটি এবং পরিচয় চুরির পাঁচটি অভিযোগে অভিযোগপত্র জমা দেয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিচারপ্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি হেফাজতে থাকবেন। তবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ নিয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেননি মোগাম্বি।

মার্কিন প্রসিকিউটরদের ভাষ্য, ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত মোগাম্বি কেনিয়ায় অবস্থানরত কয়েকজন সহযোগীর সঙ্গে মিলে মার্কিন নাগরিকদের ব্যক্তিগত পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য চুরি করেন। এসব তথ্য কাজে লাগিয়ে এমন ব্যক্তিদের নামে ভুয়া শিক্ষার্থী পরিচয় তৈরি করা হতো, যারা প্রকৃতপক্ষে কোনো কলেজে পড়াশোনা করতেন না। পরে তাদের নামে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কলেজে ভর্তি এবং ফেডারেল আর্থিক সহায়তার আবেদন জমা দেওয়া হতো।

অভিযোগ অনুযায়ী, এভাবে পাওয়া অর্থের ৩০ শতাংশ নিজের কাছে রাখতেন মোগাম্বি। অবশিষ্ট অর্থ পাঠিয়ে দিতেন কেনিয়ায় থাকা সহযোগীদের কাছে। মামলায় তার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ২০ হাজার ডলার উল্লেখ করা হয়েছে। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, এ কাজের বিনিময়ে মোগাম্বি সপ্তাহে প্রায় ২ হাজার ডলার পেতেন। এ ছাড়া প্রতারণার কাজে আরও একজনকে যুক্ত করার চেষ্টা করেছিলেন বলেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।

মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চক্রটি চুরি করা ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে ভুয়া শিক্ষার্থীদের পরিচয় তৈরি করত। এসব শিক্ষার্থীকে দীর্ঘ সময় কলেজে সক্রিয় রাখার জন্য তথাকথিত ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ ব্যবহারের কথাও তদন্তে উঠে এসেছে। এর মাধ্যমে ভুয়া শিক্ষার্থীদের একাধিক সেমিস্টারে ভর্তি দেখিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে তাদের নামে সরকারি আর্থিক সহায়তা নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

মার্কিন বিচার বিভাগের জাতীয় জালিয়াতি প্রতিরোধ বিভাগের প্রধান ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল কলিন এম ম্যাকডোনাল্ড বলেছেন, ছাত্র সহায়তা কর্মসূচির অপব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই প্রতারণার প্রভাব শুধু সরকারি অর্থের ক্ষতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। যাদের পরিচয় চুরি করা হয়েছে, তারাও আর্থিক ও আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন। তারা কলেজে ভর্তি না হলেও তাদের নামে ছাত্রঋণ বা অন্য আর্থিক দায় তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে তাদের ক্রেডিট ইতিহাসও।

মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ২০২৪ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার কমিউনিটি কলেজগুলোতে জমা পড়া আবেদনকারীদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশকে সম্ভাব্য প্রতারক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।

তদন্তকারীরা ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে প্রায় ১৩ কোটি ডলারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৮ লাখ ৩০ হাজার ৮৪০টি সম্ভাব্য জাল ফেডারেল ছাত্র সহায়তার আবেদন শনাক্ত করেছেন। এসব অ্যাকাউন্ট বন্ধের সুপারিশ করে শিক্ষা বিভাগকে জানানো হয়েছে। তবে শনাক্ত হওয়া পুরো অর্থই যে চুরি হয়েছে, এমন দাবি করেনি কর্তৃপক্ষ।

‘অপারেশন ঘোস্টবাস্টার্স’ তদন্তে যুক্তরাষ্ট্র ও কেনিয়ার মধ্যে আর্থিক লেনদেনের কথিত যোগসূত্রও সামনে এসেছে। সেপ্টেম্বরে মার্কিন কর্মকর্তারা কেনিয়া সফর করে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কাজ করেন। কেনীয় তদন্তকারীদের সহযোগিতায় এই চক্রের সঙ্গে জড়িত এক কেনীয় নাগরিকের ক্রিপ্টোকারেন্সি অ্যাকাউন্ট থেকে ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বেশি অর্থ জব্দ করে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। বিচার বিভাগের দাবি, কেনিয়ায় এ ধরনের প্রথম আন্তর্জাতিক অর্থ জব্দের ঘটনা এটি। তবে জব্দ করা অর্থের সঙ্গে মোগাম্বির মামলার কোনো সম্পর্ক নেই।

এদিকে ভার্জিনিয়ায় দায়ের করা পৃথক একটি মামলায় আরেক কেনীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে ৭০০টির বেশি ভুয়া ছাত্র সহায়তার অর্থ গ্রহণের অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অর্থের মোট পরিমাণ প্রায় ১৪ লাখ ডলার। অভিযোগ অনুযায়ী, এর মধ্যে অন্তত ১৩ লাখ ডলার পরে যুক্তরাষ্ট্র ও কেনিয়ার বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়।

নিউ জার্সিতেও তিনজনের বিরুদ্ধে ১০ লাখ ডলারের বেশি ফেডারেল ছাত্র সহায়তার অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় অর্থ পাচারে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের দাবি, তারা যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক হিসাবে জমা হওয়া অর্থের একটি অংশ নিজেদের কাছে রেখে বাকিটা কেনিয়ায় থাকা সহযোগীদের কাছে পাঠাতেন।

মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত তদন্তের আওতায় কেনিয়ার নাগরিকদের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আরও ৪০টি তদন্ত চলমান রয়েছে।

মোগাম্বি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে তার কমপক্ষে ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। এ ছাড়া দোষীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশও দিতে পারেন আদালত।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
রোহিত শর্মাকে পেছনে ফেলে টি-টোয়েন্টির রাজা এখন বাবর

রোহিত শর্মাকে পেছনে ফেলে টি-টোয়েন্টির রাজা এখন বাবর