নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ বা গ্রস রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ৬০ বিলিয়ন ডলার। দুই পদ্ধতির হিসাব অনুযায়ী, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের মধ্যে ব্যবধান প্রায় ৪ দশমিক ৮১ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৬ হাজার ৪১১ দশমিক ৮৩ মিলিয়ন ডলার। একই সময়ে আইএমএফের বিপিএম৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩১ হাজার ৬০০ দশমিক ৪০ মিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান রিজার্ভের এ তথ্য জানিয়েছেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, গ্রস রিজার্ভ ও আইএমএফের বিপিএম৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভের মধ্যে ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮১১ দশমিক ৪৩ মিলিয়ন ডলার। মূলত হিসাবের পদ্ধতি ও অন্তর্ভুক্তির পার্থক্যের কারণে রিজার্ভের এ দুই ধরনের পরিসংখ্যানে ব্যবধান দেখা যায়।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ একটি দেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতা, আন্তর্জাতিক লেনদেনের সক্ষমতা এবং বৈদেশিক দায় পরিশোধের সামর্থ্য মূল্যায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক। এ রিজার্ভের মাধ্যমে আমদানি ব্যয় মেটানো, বিদেশি ঋণের কিস্তি পরিশোধ এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনে ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা পাওয়া যায়।
অর্থনীতিবিদদের মতে, রিজার্ভের পরিমাণের পাশাপাশি এর ধারাবাহিকতা, আমদানি ব্যয়ের তুলনায় পর্যাপ্ততা এবং বৈদেশিক মুদ্রার আয়-ব্যয়ের ভারসাম্যও অর্থনীতির সক্ষমতা মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ। তাই দেশের প্রকৃত বৈদেশিক লেনদেন পরিস্থিতি বুঝতে গ্রস রিজার্ভের পাশাপাশি আইএমএফের বিপিএম৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভের গতিপ্রকৃতিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
নিউজ বাংলা চ্যানেল