ঢাকা | খ্রি.

চট্টগ্রাম বাদ দিয়ে সিলেটে টেস্ট আয়োজনের পথে বিসিবি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 19, 2026 ইং | Photo Card
চট্টগ্রাম বাদ দিয়ে সিলেটে টেস্ট আয়োজনের পথে বিসিবি ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক

আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বর্তমান কাঠামোয় প্রতিটি পয়েন্টই গুরুত্বপূর্ণ। পয়েন্ট তালিকায় ভালো অবস্থানে থাকা বাংলাদেশের জন্য ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চার টেস্ট তাই বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। এই সিরিজগুলোতে ঘরের মাঠের সুবিধা কাজে লাগাতে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুই টেস্টের একটি চট্টগ্রামের পরিবর্তে সিলেটে আয়োজনের পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

ইংল্যান্ড সিরিজের ভেন্যু প্রসঙ্গে বিসিবির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘সিলেটে খেলা হওয়ার সম্ভাবনা জোরালো, তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।’

মিরপুরে বাংলাদেশের টেস্ট সাফল্য থাকলেও চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়াম সাম্প্রতিক সময়ে সেই আস্থা দিতে পারছে না। বিশেষ করে অতিরিক্ত ফ্ল্যাট উইকেট এবং মাঠ-সংশ্লিষ্ট নানা কারণে চট্টগ্রামকে নিয়ে বিসিবির উদ্বেগ বাড়ছে। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের দৌড়ে থাকতে হলে ঘরের মাঠে সর্বোচ্চ পয়েন্ট নিশ্চিত করাই এখন বাংলাদেশের অন্যতম লক্ষ্য।

এ কারণেই চট্টগ্রামকে আপাতত টেস্ট ভেন্যুর তালিকা থেকে সরিয়ে রাখার চিন্তা করছে বিসিবি। এমনকি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট সিরিজের জন্যও মিরপুর ও সিলেটকে ভেন্যু হিসেবে রাখা হয়েছে।

বিসিবির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, ‘চট্টগ্রামে আমরা টেস্ট খেলতে চাই না, কারণ সেখানকার উইকেট বড্ড ফ্ল্যাট।’

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক টেস্ট ক্রিকেটে পেস আক্রমণের গুরুত্ব বাড়লেও চট্টগ্রামের উইকেট থেকে প্রত্যাশিত সহায়তা না পাওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। ম্যানেজমেন্ট সূত্রে জানা গেছে, সামনের সিরিজগুলোতে এমন উইকেট চায় বাংলাদেশ, যেখানে পেস ও স্পিন—দুই ধরনের বোলিংয়ের জন্যই পর্যাপ্ত সহায়তা থাকবে এবং ম্যাচের ফল পাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে বেশি।

চট্টগ্রামে বাংলাদেশের টেস্ট পরিসংখ্যানও খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। এই মাঠে ২৬টি টেস্ট খেলে বাংলাদেশ জিতেছে মাত্র তিনটিতে। বিপরীতে হার ১৬টি, ড্র হয়েছে সাতটি। এর মধ্যে ২০২১ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বড় ধাক্কাও খেতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। পঞ্চম দিনে স্পিনারদের সহায়তা থাকার পরও কাইল মেয়ার্সের দুর্দান্ত দ্বিশতকে ভর করে ৩৯৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ম্যাচ জিতে নেয় ক্যারিবীয়রা।

অন্যদিকে সিলেটের পরিসংখ্যান বাংলাদেশের পক্ষে তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক। এই মাঠে ছয় টেস্ট খেলে বাংলাদেশ জিতেছে তিনটিতে। বিশেষ করে ২০২৩ সালে নিউজিল্যান্ড এবং ২০২৬ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিলেটে পাওয়া জয়গুলো টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

ফলাফলকেন্দ্রিক টেস্ট ক্রিকেটে নির্দিষ্ট টেস্ট সেন্টারের গুরুত্ব নিয়ে এর আগে মত দিয়েছেন ভারতের সাবেক স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিনও। ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছিলেন, ‘বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয়! এটি নির্দিষ্ট টেস্ট সেন্টারের গুরুত্ব আবার প্রমাণ করল।’

সব মিলিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো না এলেও বাস্তবতা বিবেচনায় চট্টগ্রামকে পেছনে রেখে ঢাকা ও সিলেটকে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার দিকেই এগোচ্ছে বিসিবি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির দুই টেস্টের একটি সিলেটে আয়োজনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে সেই পরিকল্পনাই আরও স্পষ্ট হবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স
আইপিইউ মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপের ঢাকা সফর শেষ, দেশে ফিরলেন

আইপিইউ মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপের ঢাকা সফর শেষ, দেশে ফিরলেন