ঢাকা | খ্রি.

গাজীপুরে স্বাভাবিক হচ্ছে পোশাকশিল্প, কাজে ফিরেছেন শ্রমিকরা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 5, 2026 ইং | Photo Card
গাজীপুরে স্বাভাবিক হচ্ছে পোশাকশিল্প, কাজে ফিরেছেন শ্রমিকরা ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক

কয়েক দিনের অস্থিরতা, বিক্ষোভ ও সহিংসতার পর আবারও স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র গাজীপুর। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কসংলগ্ন বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলের অধিকাংশ পোশাক কারখানায় কাজে ফিরেছেন শ্রমিকেরা। কোথাও নতুন করে বিক্ষোভ কিংবা সড়ক অবরোধের ঘটনা না ঘটায় শিল্পাঞ্চলে ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য। সচল হয়েছে অধিকাংশ কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম।

শিল্পাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, কোনাবাড়ী, চান্দনা চৌরাস্তা, ভোগড়া, মৌচাক, সফিপুর, পল্লী বিদ্যুৎ ও চন্দ্রা এলাকার কারখানাগুলোতে সকাল থেকেই শ্রমিকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিল। সারিবদ্ধভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কারখানায় প্রবেশ করে কাজে যোগ দেন শ্রমিকেরা। কয়েক দিন ধরে চলা অস্থিরতার পর কর্মস্থলে ফিরতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন তাঁরা।

এক শ্রমিক বলেন, গত কয়েক দিন কারখানায় কাজে যোগ দিতে পারিনি। কারখানার সামনে আসার আগেই আন্দোলন ও বিশৃঙ্খলা দেখে ফিরে যেতে হয়েছে। আজ সকাল থেকে কোনো ঝামেলা না থাকায় শান্তিতে কাজে প্রবেশ করতে পেরেছি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিন ধরে ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভ করে আসছিলেন পোশাকশ্রমিকদের একাংশ। আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মহাসড়ক অবরোধ, যানবাহন ভাঙচুর, মার্কেট ও পুলিশ বক্সে অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন সহিংসতার ঘটনা ঘটে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বেশ কয়েকটি কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরবর্তী সময়ে সরকার শ্রমিকদের মজুরি-সংক্রান্ত দাবি পর্যালোচনায় নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেয়।

বুধবার পর্যন্ত কিছু এলাকায় বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেলেও বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত গাজীপুরের কোথাও নতুন করে বিক্ষোভ কিংবা সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেনি। ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কেও যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

এদিকে শিল্পাঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ, আনসার ও বিজিবির ২৫ প্লাটুন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করছেন ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও মোবাইল কোর্টের সদস্যরা। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা টহল ও নজরদারি অব্যাহত রেখেছেন।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চল-২-এর পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসাইন জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে গাজীপুরের কোথাও কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা বিক্ষোভের খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত রয়েছে। শ্রমিকেরা স্বাভাবিকভাবে কাজে যোগ দিয়েছেন এবং প্রায় সব কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম চলছে। আন্দোলন ঘিরে বৃহস্পতিবার কোনো কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়নি। নিরাপত্তার স্বার্থে কয়েকটি কারখানা বন্ধ থাকলেও সেগুলো চালুর বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকার মিরপুর, সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের মজুরি-সংক্রান্ত দাবিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কোথাও কোথাও সড়ক অবরোধ, যানবাহন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় শিল্প উৎপাদন ও স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির পাশাপাশি এসব সহিংস কর্মকাণ্ডে কারা জড়িত, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে দৈনিক ইনকিলাবের এক প্রতিবেদনে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা উসকে দিতে পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের অর্থায়নের অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে সড়ক ভাঙচুর এবং যানবাহন ও সরকারি স্থাপনায় অগ্নিসংযোগের জন্য অর্থ বরাদ্দের তথ্যের কথা উল্লেখ করা হয়। মিরপুর এলাকায় সহিংসতার সমন্বয় এবং বহিরাগতদের সম্পৃক্ত করার অভিযোগও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল জানা জরুরি।

নাশকতার অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের একাধিক নেতাকর্মীসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনে সহিংস কর্মকাণ্ডের ছবি ও ভিডিও পাওয়ার তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে।

শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক খাত। এ খাতে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা সৃষ্টি হলে রপ্তানি আয়, কর্মসংস্থান, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবি-দাওয়া আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, শ্রমিকদের মজুরি ও কর্মপরিবেশের দাবি এবং শিল্পের নিরাপত্তা—দুটি বিষয়কেই সমান গুরুত্ব দিতে হবে। কোনো স্বার্থান্বেষী মহল যাতে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিকে পুঁজি করে সহিংসতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে মালিকপক্ষ, শ্রমিক সংগঠন ও সরকারকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

সব মিলিয়ে বৃহস্পতিবার গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের কর্মস্থলে প্রত্যাবর্তন এবং অধিকাংশ কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম চালু হওয়াকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। দ্রুত বাকি কারখানাগুলোও চালু হলে শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন ও কর্মচাঞ্চল্য পুরোপুরি ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স
হরমুজ প্রণালি বন্ধ করল ইরান

হরমুজ প্রণালি বন্ধ করল ইরান