ঢাকা | খ্রি.

ছয় মাসে নিত্যপণ্যের বাজারে বড় চাপ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 12, 2026 ইং | Photo Card
ছয় মাসে নিত্যপণ্যের বাজারে বড় চাপ ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর বাজারে গত ছয় মাসে বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় বেশ কিছু পণ্যের দাম। বিশেষ করে ডিম, মুরগি ও কয়েক ধরনের মাছের বাড়তি দামে চাপে পড়েছেন ক্রেতারা। মৌসুম পরিবর্তনের প্রভাবে বেড়েছে কিছু সবজির দামও। এর সঙ্গে সয়াবিন তেল ও চিনির দাম বাড়ায় সংসারের ব্যয় আরও বেড়েছে। কিছু পণ্যের দাম কমলেও সামগ্রিকভাবে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের বাজার খরচে স্বস্তি ফেরেনি।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল ও কাঁঠালবাগান বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

বাজারে গত এক মাসের বেশি সময় ধরে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে ডিম ও মুরগি। কিছুদিন আগেও প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় পাওয়া গেলেও এখন তা বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকা দরে। ফার্মের ডিমের ডজন ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা থেকে বেড়ে বর্তমানে ১৫০ টাকায় উঠেছে।

গত সপ্তাহের তুলনায় সোনালি মুরগির দামও কেজিতে প্রায় ৩০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে সোনালি মুরগি ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকা এবং হাইব্রিড সোনালি বা কালারবার্ড ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বিক্রেতারা বলছেন, বন্যা, অতিবৃষ্টি ও অতিরিক্ত গরমে বিভিন্ন খামারে মুরগি মারা যাওয়ায় উৎপাদন কমেছে। পরবর্তী সময়ে অনেক খামারি নতুন করে উৎপাদনে যাননি। এর সঙ্গে লোডশেডিংয়ের কারণে কিছু খামারে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। ফলে বাজারে ডিম ও মুরগির সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে।

বাড়ছে কিছু সবজির দাম

মৌসুম পরিবর্তনের সঙ্গে রাজধানীর বাজারে কয়েক ধরনের সবজির দামও বেড়েছে। লম্বা বেগুন ৭০ টাকা এবং গোল বেগুন ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, আগাম শিম ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, হাইব্রিড শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং দেশি শসা ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া পটোল, ঢ্যাঁড়স ও কাঁকরোলের দাম পড়ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি। কাঁচা মরিচের দামও এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহেও ছিল প্রায় ১২০ টাকা।

তবে করলা, বরবটি ও পেঁপের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে কিংবা কিছুটা কমেছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

বাড়তি দামে মাছও

ডিম ও মুরগির পাশাপাশি কয়েক ধরনের মাছের দামও বেড়েছে। বাজারে তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা এবং পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। রুই ও কাতলা আকারভেদে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং বড় রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি।

চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং টেংরা প্রায় ৭০০ টাকা কেজি দরে।

তেল-চিনিতেও বাড়তি চাপ

নিত্যপণ্যের তালিকায় সয়াবিন তেলের দামও বেড়েছে। গত ২ সেপ্টেম্বর বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

অন্যদিকে, খোলা চিনি মাসখানেক আগে ১০৫ থেকে ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এখন তা বেড়ে ১১৫ টাকা হয়েছে। মোড়কজাত চিনি বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজি দরে।

সুগন্ধি চালের দামও কেজিপ্রতি ২০০ টাকার আশপাশে রয়েছে। রপ্তানির কারণে বাজারে সরবরাহ কমে দাম বাড়ার পর সম্প্রতি সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমোদিত কোটা ৫০ শতাংশ কমিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

‘একই টাকায় আগের মতো বাজার করা যাচ্ছে না’

টাউন হল বাজারের ক্রেতা আবির হাকিম বলেন, ‘ছয় মাসে বাজারের চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। কিছু পণ্যের দাম কমলেও ডিম, মাছ ও বেশির ভাগ সবজির দাম বেশি। একই টাকায় আগের মতো পণ্য কেনা যাচ্ছে না।’

তাজমহল রোডের বাসিন্দা তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আয় কম হওয়ায় মূলত মুরগিই কিনি। কিন্তু সেই মুরগির দামও কমছে না। ফলে সংসারের অন্যান্য খরচ কমিয়ে বাজার সামলাতে হচ্ছে।’

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরবরাহ ও উৎপাদনের ওপর নির্ভর করে কোনো কোনো পণ্যের দাম ওঠানামা করলেও সামগ্রিক বাজারব্যয় এখনো স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে আসেনি।

সব মিলিয়ে ডিম, মুরগি, মৌসুমি সবজি ও কয়েক ধরনের মাছের বাড়তি দামে ক্রেতাদের ওপর চাপ অব্যাহত রয়েছে। গরুর মাংসের দাম প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও অন্যান্য নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের কারণে সামগ্রিক বাজার খরচ কমছে না। এতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের সংসারে নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের চাপ আরও প্রকট হয়ে উঠছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স
রবার্তো কার্লোসের ইসলাম গ্রহণের দাবি, চলছে জোর আলোচনা

রবার্তো কার্লোসের ইসলাম গ্রহণের দাবি, চলছে জোর আলোচনা