নিজস্ব প্রতিবেদক
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দেওয়া সাতটি শর্ত মেনে নিলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হতে পারে। এ নিয়ে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। দুই দিনের একটি পরিকল্পনার আওতায় নৌপথটি পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে তেহরানের আলোচনা চলছে উল্লেখ করে আরাগচি বলেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং শান্তি আলোচনা শুরুর বিষয়ে ইরানের দেওয়া শর্তগুলো বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
এদিকে ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মহসিন রেজাই জানিয়েছেন, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাঠানো একটি চিঠি তিনি পড়েছেন। তাঁর দাবি, চিঠিতে ওয়াশিংটনের অবস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত রয়েছে। বিষয়টিকে ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে দেখছেন তিনি।
এর আগে সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একাধিক শর্ত তুলে ধরে তেহরান। ইরানের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক ভেস্তে যাওয়ার পর আরোপ করা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি কমানো এবং জুনে সমঝোতার অংশ হিসেবে দেওয়া তেল রপ্তানির ছাড় পুনর্বহাল।
এ ছাড়া কাতারসহ বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা ইরানের অর্থ ও জব্দ করা তহবিল মুক্ত করা, ইরান ও ওমানের নির্ধারিত হরমুজ প্রণালির নতুন জাহাজ চলাচলের পথকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া এবং অন্যান্য পথ বন্ধ রাখার দাবিও জানিয়েছে তেহরান।
ইরান সব রণাঙ্গনে যুদ্ধ বন্ধের পাশাপাশি লেবাননে ইসরায়েলের হামলা সম্পূর্ণ বন্ধের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মার্কিন হস্তক্ষেপ বন্ধ এবং ইরানবিরোধী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে ওয়াশিংটনের সহযোগিতা বন্ধের শর্তও রয়েছে তাদের তালিকায়।
তবে ইরানের এসব শর্ত যুক্তরাষ্ট্র মেনে নিয়েছে—এমন কোনো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হওয়া এবং দুই দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা
নিউজ বাংলা চ্যানেল