নিউজ বাংলা ডেস্ক: নিজেদের ব্যাটিং ব্যর্থতায় বড় সংগ্রহ গড়তে পারেনি বাংলাদেশ। তবে মাত্র ১১৪ রানের পুঁজি নিয়েও বোলারদের দুর্দান্ত লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কাকে চাপে ফেলে জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করেছিল নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। একপর্যায়ে মাত্র ৪৪ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে অনেকটাই ছিটকে পড়েছিল শ্রীলঙ্কা। কিন্তু শেষদিকে হার্শিতা সামারাবিক্রমার দৃঢ় ব্যাটিং ও বাংলাদেশের বোলিংয়ের কিছু ভুলে শেষ পর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারায় বাংলাদেশ।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নারী এশিয়া কাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে ৪ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। ৪ বল হাতে রেখেই জয় তুলে নেয় লঙ্কানরা। এই জয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে শ্রীলঙ্কা। অন্যদিকে সেমিফাইনালের আশা টিকিয়ে রাখতে হলে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচে স্বাগতিক সংযুক্ত আরব আমিরাতকে হারাতেই হবে।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের হতাশার ধারাও আরও দীর্ঘ হলো। লঙ্কানদের বিপক্ষে টানা সপ্তম হারের স্বাদ পেল বাংলাদেশ।
দুর্দান্ত বোলিংয়ে জয়ের সম্ভাবনা
১১৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় শ্রীলঙ্কা। ইনিংসের প্রথম ওভারেই চামারি আতাপাত্তুকে ফিরিয়ে দেন মারুফা আক্তার। নিজের দ্বিতীয় ওভারে ইমিশা দুলানিকেও বোল্ড করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের দিকে টেনে আনেন তিনি।
এরপর সুলতানা খাতুনের বলে সানজানা কাভিন্দি ও ভিশমী গুনারত্নে সাজঘরে ফেরেন। ফাহিমা খাতুনের সরাসরি থ্রোতে রানআউট হন কাভিশা দিলহারি। ফলে মাত্র ৪৪ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে চরম বিপদে পড়ে শ্রীলঙ্কা।
তখন বাংলাদেশের জয় অনেকটাই সময়ের ব্যাপার বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি পাল্টে দেন নিলাকশি ডি সিলভা ও হার্শিতা সামারাবিক্রমা। দুজন মিলে গড়ে তোলেন ৩৮ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। মারুফা আক্তার নিলাকশিকে ১৮ রানে বোল্ড করে সেই জুটি ভাঙলেও হার্শিতাকে থামাতে পারেনি বাংলাদেশের বোলাররা।
শেষ পর্যন্ত ৪৮ রানে অপরাজিত থেকে শ্রীলঙ্কাকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন হার্শিতা। তার দায়িত্বশীল ইনিংসের সুবাদে ম্যাচসেরার পুরস্কারও ওঠে তার হাতে। বাংলাদেশের হয়ে মারুফা আক্তার ৩ উইকেট নিয়েও দলকে জয় এনে দিতে পারেননি।
ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রিতু মনির এক ওভারে ১৬ রান খরচ করাও বাংলাদেশের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে আসে। ওই ওভারেই মূলত ম্যাচের সমীকরণ বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
ব্যাটিং ব্যর্থতায় ছোট সংগ্রহ
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা আশাব্যঞ্জকই ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু পঞ্চম ওভারে জুয়ারিয়া ফেরদৌস ১০ বলে ১৪ রান করে ফিরে যাওয়ার পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে দল।
ওপেনার দিলারা আক্তার ২৬ বলে চারটি চারের সাহায্যে করেন ২৬ রান। তবে অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি চার নম্বরে নেমে মাত্র ৪ রান করে ফেরেন। দ্রুতই সাজঘরে ফেরেন স্বর্ণা আক্তার ও রিতু মনিও।
মিডলঅর্ডারের ব্যর্থতায় বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা সেখানেই অনেকটা শেষ হয়ে যায়। শেষদিকে ফাহিমা আক্তার ১৩ বলে ১৪ রান করে দলের সংগ্রহ বাড়ানোর চেষ্টা করেন। তবে একপ্রান্ত ধরে রেখে সোবহানা মোস্তারি ৪১ বলে ৩৪ রান না করলে বাংলাদেশের স্কোর আরও কম হতে পারত।
শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ১১৪ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস। ছোট লক্ষ্য দিয়েও বোলারদের দুর্দান্ত প্রচেষ্টায় ম্যাচে ফিরে এসেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সেই লড়াইয়ের ফল নিজেদের পক্ষে নিতে পারেনি জ্যোতির দল।
এখন টুর্নামেন্টে টিকে থাকার সমীকরণ একেবারেই পরিষ্কার—শেষ ম্যাচে আরব আমিরাতকে হারাতেই হবে বাংলাদেশকে।
নিউজ বাংলা চ্যানেল